বক্সায় আসছে নতুন বাঘিনী! কীভাবে আনা হবে জানাল বন দফতর, ২ অক্টোবর ঘিরে বাড়ছে কৌতূহল

বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে বক্সায় আসছে বাঘ। ২ অক্টোবর বাঘ ছাড়ার প্রস্তুতি, ডার্টিং, সফট-রিলিজ এনক্লোজার ও পরিবহণের পরিকল্পনা জানুন।

ডুয়ার্সের জঙ্গলে ফের বাঘের আনাগোনা বাড়ানোর লক্ষ্যে বড় প্রস্তুতি শুরু করেছে বন দফতর। বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে একটি বাঘিনীকে বক্সা টাইগার রিজার্ভে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন বক্সায় বাঘ ছাড়ার কর্মসূচি ঘিরে ইতিমধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে বাল্মীকিতে বাঘিনীকে নিরাপদে ধরার অভিযান এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।

বাল্মীকি থেকে বক্সায় আসবে নতুন অতিথি

বক্সা টাইগার রিজার্ভে বাঘের সংখ্যা পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে বাঘ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি বাঘিনীকে বেছে নেওয়া হয়েছে। সেটিকে ঘুমপাড়ানি ডার্টের মাধ্যমে নিরাপদে কাবু করে বিশেষ ব্যবস্থায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।তবে বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভের দুর্গম জঙ্গল এবং টানা বৃষ্টির কারণে বাঘিনী ধরার অভিযান সহজ হচ্ছে না। বনকর্মীরা একাধিক জায়গায় নজরদারি চালাচ্ছেন। আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় অভিযান ফের জোরদার হয়েছে।

শুধু স্থলপথ নয়, আকাশপথের কথাও ভাবা হচ্ছে

বাঘিনীকে ধরার পর দ্রুত এবং নিরাপদে বক্সায় নিয়ে আসাই এখন বড় বিষয়। সেই কারণে স্থলপথের পাশাপাশি আকাশপথে পরিবহণের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একটি পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশেষ অ্যাম্বুল্যান্সে করে প্রাণীটিকে নিকটবর্তী বিমানঘাঁটিতে নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে হেলিকপ্টারে উত্তরবঙ্গে আনার ব্যবস্থা করা হতে পারে।অর্থাৎ, বাঘকে বক্সায় পৌঁছে দিতে পরিবহণ ব্যবস্থাতেও বিশেষ প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে।

বক্সায় তৈরি হয়েছে সফট-রিলিজ এনক্লোজার

বক্সা টাইগার রিজার্ভে আনা বাঘিনীকে সরাসরি গভীর জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে না। প্রথমে তাকে একটি বিশেষ সফট-রিলিজ এনক্লোজারে রাখা হবে।প্রায় ২.২ হেক্টর বা প্রায় ৫.৪ একর জায়গাজুড়ে তৈরি এই এনক্লোজারে কিছু সময় বাঘিনীর গতিবিধি ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। এরপর বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

২ অক্টোবরই কি বাঘিনী আসছে?

এখানেই রয়েছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ২ অক্টোবর বক্সায় বাঘ ছাড়ার কর্মসূচি নির্ধারিত থাকলেও, বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভে বাঘিনী ধরার কাজ আবহাওয়ার কারণে বারবার বাধার মুখে পড়েছে।বন দফতর তাই বিকল্প পরিকল্পনাও তৈরি রেখেছে। বাঘিনীকে নির্ধারিত সময়ে ধরা সম্ভব না হলে অন্য কোনও উপযুক্ত বাঘকে প্রথমে বক্সায় আনার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত বাল্মীকিতে যে উপযুক্ত প্রাণীকে নিরাপদে ধরা সম্ভব হবে, পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই পরিকল্পনাই কার্যকর হতে পারে।

বক্সায় কেন বাঘ ফেরানোর উদ্যোগ?

বক্সা টাইগার রিজার্ভে স্থায়ী বাঘের উপস্থিতি পুনরুদ্ধার করাই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। গবেষণা ও সংরক্ষণ পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও বক্সায় বাঘের সংখ্যা পুনরুদ্ধারের প্রস্তুতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ হয়েছে।প্রথমে একটি প্রাণীকে এনে তার অভিযোজন ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বাঘ আনার পরিকল্পনা থাকতে পারে।

২ অক্টোবর ঘিরে ডুয়ার্সে নজর

বাঘ পুনঃপ্রবর্তন কর্মসূচিকে ঘিরে বক্সা জুড়ে প্রস্তুতি চলছে। বাঘ আনার কারণে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বক্সা টাইগার রিজার্ভে পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।ফলে এখন নজর বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভের অভিযানের দিকে। শেষ পর্যন্ত বাঘিনীকে সফলভাবে ধরা যায়, নাকি বিকল্প পরিকল্পনায় অন্য কোনও বাঘকে বক্সায় আনা হয়—২ অক্টোবরের কর্মসূচির আগে সেটিই বড় প্রশ্ন।

বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে বক্সা টাইগার রিজার্ভে বাঘ আনার প্রস্তুতি চলছে। ২ অক্টোবর প্রথম দফায় বাঘ ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আবহাওয়ার কারণে অভিযান ব্যাহত হলেও বাঘিনীকে নিরাপদে ধরে আনার চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে বিকল্প পরিকল্পনায় বাঘ আনার কথাও ভাবা হয়েছে।

Leave a comment