বলিউড অভিনেত্রী কাজলের বোন তানিষা মুখোপাধ্যায় এবার বিদ্যুৎ বিলের সমস্যা নিয়ে প্রকাশ্যে সরব। লোনাভালায় তাঁর বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ক্ষোভ জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, বিলের পরিমাণ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে এবং নির্ধারিত শেষ তারিখের আগেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা তাঁকে ক্ষুব্ধ করেছে। বিষয়টি নিয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ-সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।
লোনাভালার বাড়ির বিদ্যুৎ নিয়ে কী অভিযোগ তানিষার?
মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্টে তানিষা তাঁর সমস্যার কথা জানান। অভিনেত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, লোনাভালায় বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।তাঁর অভিযোগ, অতিরিক্ত বিল পাঠানোর পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে বিল মেটানোর জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নিজের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।তবে এই অভিযোগগুলি তানিষার বক্তব্য—বিদ্যুৎ সংস্থার তরফে তাঁর নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত বা ত্রুটি স্বীকারের তথ্য এই প্রতিবেদনে নেই।
নির্ধারিত সময়ের আগেই লাইন কাটার অভিযোগ
তানিষার দাবি, তাঁর বিল পরিশোধের শেষ তারিখ তখনও পেরোয়নি। তা সত্ত্বেও লোনাভালার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আবেদন করেন। একইসঙ্গে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর দফতর ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদেরও ট্যাগ করেন অভিনেত্রী।
স্মার্ট মিটার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী
তানিষার পোস্টে বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। তাঁর দাবি, স্মার্ট মিটার বসানোর পর কিছু গ্রাহক অস্বাভাবিক বেশি বিল পাওয়ার অভিযোগ করছেন।থানে, পালঘর, ভাসাই-ভিরার ও উলহাসনগর-সহ মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের কাছ থেকেও এমন অভিযোগ এসেছে বলে তাঁর পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে স্মার্ট মিটার নিজে থেকেই বেশি বিদ্যুৎ খরচ রেকর্ড করে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর কারণ নেই। MSEDCL-এর তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব নির্ভর করে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ক্ষমতা এবং কতক্ষণ সেগুলি ব্যবহার করা হচ্ছে তার উপর।
ভুল মিটার রিডিংয়ে হয়েছিল বিশাল বিল
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নাগপুরে একটি পরিবার ৩৪৮ ইউনিট বিদ্যুতের জন্য প্রায় ১.৪৪ লক্ষ টাকার বিল পেয়েছিল। পরে মিটার রিডিংয়ের সমস্যার কথা স্বীকার করে বিল সংশোধন করা হয় এবং তা প্রায় ১৩,৮০০ টাকায় নামিয়ে আনা হয়।
এই ঘটনা দেখায়, অস্বাভাবিক বিল এলে সরাসরি টাকা জমা দেওয়ার আগে মিটার রিডিং ও বিলের বিবরণ যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
MSEDCL-এর নিজস্ব পরিষেবাতেও গ্রাহকরা বিল ও পেমেন্টের তথ্য দেখতে এবং পরিষেবা সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে পারেন।
অস্বাভাবিক বিল এলে কী করবেন?
বিদ্যুৎ বিল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি এলে প্রথমে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা যেতে পারে—
বিলের বর্তমান ও আগের মিটার রিডিং মিলিয়ে দেখুন।
আগের কয়েক মাসের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঙ্গে তুলনা করুন।
মিটারে দেখানো রিডিং এবং বিলের রিডিং এক কি না পরীক্ষা করুন।
ভুল মনে হলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ সংস্থার কাছে অভিযোগ জানান।
সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকলে বিলের due date এবং বকেয়ার তথ্য যাচাই করুন।
MSEDCL-এর FAQ-তেও বলা হয়েছে, কোনও কারণে প্রকৃত মিটার রিডিং নেওয়া সম্ভব না হলে আগের তিন মাসের প্রকৃত রিডিংয়ের ভিত্তিতে গড় ব্যবহার ধরে বিল তৈরি হতে পারে।
তানিষার পোস্ট ঘিরে আলোচনা
তানিষার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিনেত্রী বিদ্যুৎ পরিষেবা এবং বিলিং ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সমাধানের আবেদন করেছেন।অন্যদিকে, MSEDCL-এর সরকারি ওয়েবসাইটে বর্তমানে বিল দেখা, পেমেন্ট, মিটার সংক্রান্ত পরিষেবা এবং অভিযোগ জানানোর একাধিক ব্যবস্থা রয়েছে।
লোনাভালার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী তানিষা মুখোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিলের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত বিল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।









