নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে ট্রেনে উঠতেই GRP-এর নজরে যুবক, ব্যাগ খুলতেই বেরোল পুরনো ৫০০-১০০০ টাকার বান্ডিল!

নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে সরাইঘাট এক্সপ্রেসের সাধারণ কামরায় তল্লাশি চালিয়ে এক যুবকের ব্যাগ থেকে উদ্ধার পুরনো ৫০০ ও ১০০০ টাকার একাধিক বান্ডিল। গ্রেফতার সন্তোষ কুমার।

সাধারণ যাত্রীর মতোই ট্রেনে সফর করছিলেন এক যুবক। সঙ্গে ছিল একটি ব্যাকপ্যাক। কিন্তু নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে GRP-এর তল্লাশির সময় সেই ব্যাগই হয়ে উঠল সন্দেহের কেন্দ্র। ব্যাগ খুলতেই একের পর এক বেরিয়ে এল পুরনো ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটের বান্ডিল। বিপুল পরিমাণ বাতিল নোট উদ্ধারের ঘটনায় স্টেশন চত্বরে চাঞ্চল্য ছড়ায়।

নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে ট্রেনে উঠতেই GRP-এর নজরে যুবক, ব্যাগ খুলতেই বেরোল পুরনো ৫০০-১০০০ টাকার বান্ডিল!

গোপন সূত্রের খবর, স্টেশনে বাড়ানো হয়েছিল নজরদারি

শুক্রবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে নজরদারি বাড়ানো হয়। শিলিগুড়ি GRP-এর SOG এবং NJP GRP-এর সাদা পোশাকের পুলিশ যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান শুরু করে।ডাউন সরাইঘাট এক্সপ্রেস ৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পৌঁছতেই সাধারণ কামরাতেও শুরু হয় নজরদারি। সেখানেই এক যুবকের গতিবিধি পুলিশের নজরে আসে। সন্দেহ হওয়ায় তাঁকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

কথাবার্তায় অসঙ্গতি, খুলতে বলা হয় ব্যাকপ্যাক

জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই যুবকের কথাবার্তায় অসঙ্গতি রয়েছে বলে পুলিশের সন্দেহ হয়। এরপর তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যাগটি খুলে দেখার সিদ্ধান্ত নেয় GRP।ব্যাগ খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের। ভিতর থেকে বেরিয়ে আসে একাধিক বান্ডিল পুরনো ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট। উল্লেখ্য, এই দুই ধরনের নোটই বর্তমানে বাতিল। ফলে এত বিপুল পরিমাণ পুরনো নোট কেন এবং কী উদ্দেশ্যে ওই যুবকের কাছে ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

কে এই যুবক?

পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া যুবকের নাম সন্তোষ কুমার। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, তাঁর আদি বাড়ি বিহারের মতিহারীতে। তবে প্রায় সাত বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে অসমের জালুকবাড়ি এলাকায় বসবাস করছিলেন তিনি।তল্লাশির পর তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, গুয়াহাটি থেকেই ওই ট্রেনে উঠেছিলেন সন্তোষ।

নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে ট্রেনে উঠতেই GRP-এর নজরে যুবক, ব্যাগ খুলতেই বেরোল পুরনো ৫০০-১০০০ টাকার বান্ডিল!

গুয়াহাটিতেই কি মিলেছিল টাকার বান্ডিল?

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ অনুযায়ী, গুয়াহাটিতে থাকাকালীন সন্তোষের হাতে ওই পুরনো নোটের বান্ডিলগুলি তুলে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। এরপর সেই টাকা নিয়ে অন্য কোথাও যাওয়ার জন্য ট্রেনে রওনা দিয়েছিলেন তিনি।তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখনও রয়ে গিয়েছে—কার কাছ থেকে এই বাতিল নোটগুলি পেয়েছিলেন সন্তোষ? কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এই বিপুল পরিমাণ টাকা? এর পিছনে কি কোনও বড় চক্র কাজ করছে?এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে GRP।

নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে ট্রেনে উঠতেই GRP-এর নজরে যুবক, ব্যাগ খুলতেই বেরোল পুরনো ৫০০-১০০০ টাকার বান্ডিল!

আদালতে পেশ, হেফাজত চাইল পুলিশ

শনিবার ধৃত সন্তোষ কুমারকে জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়। ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের জন্য তাঁর হেফাজত চেয়েছে পুলিশ।উদ্ধার হওয়া নোটের উৎস, এর সঙ্গে কোনও সংগঠিত চক্রের যোগাযোগ রয়েছে কি না এবং ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কিনা—সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে গুয়াহাটি থেকে এই নোটগুলি কীভাবে তাঁর হাতে এল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে ট্রেনে উঠতেই GRP-এর নজরে যুবক, ব্যাগ খুলতেই বেরোল পুরনো ৫০০-১০০০ টাকার বান্ডিল!

নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে ডাউন সরাইঘাট এক্সপ্রেসের সাধারণ কামরায় তল্লাশি চালানোর সময় এক যুবকের ব্যাগ থেকে উদ্ধার হল বাতিল হয়ে যাওয়া ৫০০ ও ১০০০ টাকার একাধিক বান্ডিল। পুলিশ সন্তোষ কুমার নামে ওই যুবককে গ্রেফতার করেছে। টাকার উৎস এবং গন্তব্য নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

Leave a comment