সন্দেশখালির গেস্ট হাউসে হঠাৎ জঙ্গি হামলা! গুলির শব্দে চাঞ্চল্য, পরে জানা গেল আসল ঘটনা

সন্দেশখালির ধামাখালিতে গেস্ট হাউসে জঙ্গি হামলার আদলে NSG-এর বিশেষ মক ড্রিল। জিম্মি উদ্ধার, জঙ্গি দমন ও নিরাপত্তা অভিযানের কৌশল দেখলেন স্থানীয়রা।

হঠাৎ গেস্ট হাউসে জঙ্গি হামলা! ভিতরে আটকে রয়েছেন একাধিক পর্যটক। মুক্তির জন্য চাওয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। চারদিকে নিরাপত্তার বলয়, ধোঁয়ায় ঢেকে যাচ্ছে এলাকা, শুরু হয়েছে কমান্ডো অভিযান। এমন দৃশ্য দেখে স্বাভাবিকভাবেই চমকে উঠেছিলেন সন্দেশখালির ধামাখালির বাসিন্দারা। তবে কিছুক্ষণ পরেই পরিষ্কার হয়, কোনও বাস্তব জঙ্গি হামলা নয়—এটি ছিল এনএসজির বিশেষ মক ড্রিল।

সন্দেশখালির গেস্ট হাউসে হঠাৎ জঙ্গি হামলা! গুলির শব্দে চাঞ্চল্য, পরে জানা গেল আসল ঘটনা
ধামাখালির গেস্ট হাউসে কী হয়েছিল?

শনিবার ধামাখালির একটি গেস্ট হাউসকে কেন্দ্র করে জঙ্গি হামলার কাল্পনিক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। মহড়ার অংশ হিসেবে দেখানো হয়, কয়েকজন সশস্ত্র জঙ্গি গেস্ট হাউসে ঢুকে একাধিক পর্যটককে জিম্মি করেছে। তাঁদের মুক্তির বিনিময়ে কয়েক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। এমনকি জিম্মিদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।পরিকল্পিত এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে এলাকায় তৈরি হয় ব্যাপক উত্তেজনা। বাস্তব হামলা ভেবে প্রথমে অনেক স্থানীয় বাসিন্দাই বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ, আসে এনএসজি

মহড়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে স্থানীয় পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর শুরু হয় এনএসজি কমান্ডোদের বিশেষ অভিযান।গেস্ট হাউসের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। কমান্ডোদের একটি দল সেখানে অস্থায়ী শিবির তৈরি করে অভিযানের প্রস্তুতি নেয়।

সন্দেশখালির গেস্ট হাউসে হঠাৎ জঙ্গি হামলা! গুলির শব্দে চাঞ্চল্য, পরে জানা গেল আসল ঘটনা
ধোঁয়ার আড়ালে গেস্ট হাউসে প্রবেশ

মহড়ার সময় গেস্ট হাউসের চারপাশে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। এরপর ধোঁয়ার আড়াল তৈরি করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ভিতরে ঢোকার কৌশল দেখান এনএসজি কমান্ডোরা।শুধু ভবনের ভিতরেই নয়, গেস্ট হাউসের ছাদ, চারপাশের এলাকা এবং নদীপথেও নজরদারি চালানো হয়। কোনও সম্ভাব্য পালানোর পথ যাতে খোলা না থাকে, সেই অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছিল।

সন্দেহজনক ব্যাগ ঘিরে নতুন চমক

অভিযানের মাঝেই গেস্ট হাউসের বাইরে একটি সন্দেহজনক ব্যাগ দেখতে পাওয়া যায়। মহড়ার অংশ হিসেবেই সেটিকে ঘিরে সতর্কতা বাড়ানো হয়। ব্যাগটি পরীক্ষা করতে বিশেষ রোবট ও প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করা হয়।এরপর শুরু হয় মূল অপারেশন। গেস্ট হাউসের ভিতরে ঢুকে জঙ্গিদের মোকাবিলার দৃশ্যও মহড়ার অংশ হিসেবে দেখানো হয়। গুলির লড়াইয়ের আদলে পরিচালিত এই পর্বটিও ছিল অত্যন্ত বাস্তবসম্মত।

সন্দেশখালির গেস্ট হাউসে হঠাৎ জঙ্গি হামলা! গুলির শব্দে চাঞ্চল্য, পরে জানা গেল আসল ঘটনা
উদ্ধার করা হয় ‘জিম্মি’ পর্যটকদের

ধাপে ধাপে গেস্ট হাউসের ভিতরে অভিযান চালিয়ে কমান্ডোরা আটকে থাকা পর্যটকদের নিরাপদে বের করে আনার কৌশল প্রদর্শন করেন। পাশাপাশি কাল্পনিক জঙ্গিদের কাবু করে গ্রেফতার করার প্রক্রিয়াও দেখানো হয়।পুরো মহড়াটি দেখতে ধামাখালির বহু মানুষ ঘটনাস্থলের আশপাশে জড়ো হন। এনএসজি কমান্ডোদের দ্রুত অভিযান, সমন্বয় এবং নিরাপত্তা কৌশল স্থানীয়দের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করে।

কেন এই মক ড্রিল?

শেষ পর্যন্ত পরিষ্কার হয়ে যায়, ধামাখালিতে কোনও সত্যিকারের জঙ্গি হামলা হয়নি। জঙ্গি হামলা বা সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের মতো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে কীভাবে নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, কীভাবে জিম্মিদের উদ্ধার করা হয় এবং কীভাবে হামলাকারীদের মোকাবিলা করা হয়—সেই প্রক্রিয়া অনুশীলন করতেই এই মহড়ার আয়োজন।বাস্তব পরিস্থিতির মতো করে গোটা মহড়া পরিচালনা করা হয়েছিল। ফলে কিছু সময়ের জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল তীব্র উত্তেজনা ও কৌতূহল।

সন্দেশখালির গেস্ট হাউসে হঠাৎ জঙ্গি হামলা! গুলির শব্দে চাঞ্চল্য, পরে জানা গেল আসল ঘটনা
উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির ধামাখালিতে একটি গেস্ট হাউসকে ঘিরে জঙ্গি হামলার আদলে বিশেষ মহড়া চালাল এনএসজি। কাল্পনিক জঙ্গিরা পর্যটকদের পণবন্দি করেছে—এমন পরিস্থিতি তৈরি করে কমান্ডোরা কীভাবে অভিযান চালিয়ে জিম্মিদের উদ্ধার করেন, তারই প্রদর্শন করা হয়। মহড়া এতটাই বাস্তবসম্মত ছিল যে প্রথমে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।

Leave a comment