আব্দুল্লাহ শফিকের অপরাজিত শতকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে শক্ত অবস্থানে পাকিস্তান

পোর্ট অব স্পেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষে পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ২ উইকেটে ২৬৬ রান করেছে। আব্দুল্লাহ শফিক অপরাজিত ১০৭ এবং বাবর আজম অপরাজিত ৮৬ রান করে দলকে ৩৪৪ রানের জবাবে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দেন।

পোর্ট অব স্পেনের কুইন্স পার্ক ওভালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তান ম্যাচে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে দুই উইকেট হারিয়ে ২৬৬ রান করেছে এবং স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের স্কোর থেকে ৭৮ রান পিছিয়ে রয়েছে। ওপেনার আব্দুল্লাহ শফিক প্রায় ১০ মাস পর টেস্ট দলে ফিরে অপরাজিত শতরান করেন।

শফিকের এই ইনিংস পাকিস্তানকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অধিনায়ক বাবর আজমও দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন। দুজন তৃতীয় উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিতে সাহায্য করেন।

দীর্ঘ বিরতির পর পাকিস্তানের টেস্ট প্লেয়িং ইলেভেনে সুযোগ পান আব্দুল্লাহ শফিক। তিনি সর্বশেষ ২০২৫ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলেছিলেন। নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিয়ে তিনি ১৮৫ বলে অপরাজিত ১০৭ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ২টি ছক্কা।

এটি শফিকের টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ শতরান। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তিনি স্বাভাবিক ব্যাটিং ক্রমের পরিবর্তে তিন নম্বরে নেমে এই শতরান করেন।

পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম ১২৬ বলে অপরাজিত ৮৬ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও একটি ছক্কা। শফিক ও বাবরের তৃতীয় উইকেটের জুটি পাকিস্তানকে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দেয়। প্রাথমিক দুই উইকেট হারানোর পর এই জুটি ইনিংসকে স্থিতিশীল করে।

৩৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের শুরু ভালো হয়নি। দল ৩৪ রানে প্রথম উইকেট হারায়, যখন ইমাম-উল-হক ১৪ রান করে আউট হন। এরপর আব্দুল্লাহ শফিক ও আজান আওয়াইস ইনিংস সামলান। আজান ৭১ বলে ৫৫ রান করেন, যার মধ্যে ছিল ১০টি চার।

অর্ধশতরান পূরণের পর তিনি বড় ইনিংস খেলতে পারেননি এবং আউট হন। এরপর বাবর আজম ক্রিজে এসে শফিকের সঙ্গে জুটি গড়ে পাকিস্তানকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান।

এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে ৩৪৪ রান করে। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে তাদের স্কোর ছিল ২৬৬/২। অধিনায়ক রোস্টন চেজ ৭০ রান করে দলের হয়ে সর্বোচ্চ অবদান রাখেন। জাস্টিন গ্রিভসও গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করেন, আর নিচের সারিতে কেমার রোচ ১৯ রান করে দলকে ৩৪৪ রানে পৌঁছাতে সহায়তা করেন। তবে মধ্য ও নিম্নক্রমের ব্যাটাররা বড় জুটি গড়তে না পারায় দল ৩৫০ রানের গণ্ডি স্পর্শ করতে পারেনি।

পাকিস্তানের হয়ে স্পিনার সাজিদ খান সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন। এছাড়া মোহাম্মদ আলি, উবায়েদ শাহ এবং আলি উসমান দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

 

Leave a comment