পঞ্চকুলার বিখ্যাত পাতিয়ালা মন্দিরে এক মহিলা ভক্তের হাত থেকে সোনার বালা চুরির ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ একটি মহিলা চক্রের সন্ধান পেয়েছে। পুলিশের দাবি, ৭০ বছর বয়সি লক্ষ্মী কৌর এই চক্রের কথিত প্রধান। অভিযোগ, তিনি আত্মীয় ও পরিচিত কয়েকজন মহিলাকে সঙ্গে নিয়ে মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটানোর জন্য একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন।
পঞ্চকুলার পাতিয়ালা মন্দিরে এক মহিলা ভক্তের হাত থেকে সোনার বালা চুরির পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। CCTV ফুটেজ এবং অন্যান্য সূত্রের ভিত্তিতে কয়েকজন মহিলার গতিবিধি পুলিশের সন্দেহের কারণ হয়ে ওঠে। তদন্ত এগোলে পুলিশ এমন একটি চক্রের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে, যেখানে মহিলারা দলবদ্ধ হয়ে মন্দির এবং ভিড়পূর্ণ ধর্মীয় স্থানে যেতেন।
পুলিশের মতে, চক্রের মহিলারা ভক্তদের এমনভাবে ঘিরে থাকতেন, যাতে সহজে তাদের ওপর সন্দেহ না হয়। ভিড়ের সুযোগ নিয়ে তারা মহিলাদের গয়না নিশানা করতেন। মন্দিরে আসা মহিলাদের হাত ও গলায় থাকা গয়নার ওপর বিশেষ নজর রাখা হতো।
তদন্তে পুলিশের সামনে ৭০ বছর বয়সি লক্ষ্মী কৌরের নাম আসে। পুলিশের মতে, তিনি চক্রটি সংগঠিত করতেন এবং তাঁর সঙ্গে আত্মীয়তার সূত্রে একাধিক মহিলা যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ, বয়স্ক হওয়ার কারণে তিনি সহজে সন্দেহের আওতায় আসতেন না, অন্যদিকে চক্রের অন্য মহিলারা পরিস্থিতি অনুযায়ী চুরির ঘটনা ঘটাতেন।
পুলিশের দাবি, চক্রে যুক্ত মহিলাদের ভূমিকা আগে থেকেই নির্ধারিত থাকত। কয়েকজন মহিলা ভিড়ের মধ্যে সম্ভাব্য শিকার চিহ্নিত করতেন, অন্যরা তার আশপাশে থেকে চুরি করতেন। এরপর সবাই আলাদা আলাদা দিকে চলে যেতেন, ফলে তাদের শনাক্ত করা পুলিশের জন্য কঠিন হয়ে পড়ত।
পুলিশের তদন্তে লক্ষ্মী কৌরের পুরনো অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক সম্পর্কেও তথ্য সামনে আসার কথা বলা হয়েছে। পুলিশের মতে, পাঞ্জাবে মদ ও মাদক পাচারের কথিত কয়েকটি মামলার সঙ্গেও তাঁর নাম যুক্ত রয়েছে। এখন হরিয়ানায় মন্দিরকে নিশানা করা মহিলা চক্রের সঙ্গে তাঁর কথিত সম্পর্কের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
তবে পুরনো অভিযোগ এবং বর্তমান মন্দির চুরির ঘটনায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে পুলিশের তদন্ত এখনও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। তদন্তকারীরা জানার চেষ্টা করছেন, চক্রটি কতদিন ধরে সক্রিয় এবং হরিয়ানার কোন কোন মন্দির বা ধর্মীয় স্থানে এই ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
পাতিয়ালা মন্দিরে চুরির ঘটনার পর পাওয়া CCTV ফুটেজ পুলিশকে তদন্ত এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। ফুটেজে সন্দেহভাজন মহিলাদের গতিবিধি খতিয়ে দেখা হয়। এরপর পুলিশ সন্দেহভাজনদের পরিচয় এবং তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে।
চক্রটিতে কতজন মহিলা যুক্ত এবং চুরি করা গয়না পরে কার মাধ্যমে সরিয়ে ফেলা হতো, তাও পুলিশ খতিয়ে দেখছে। মন্দিরে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে চুরি করা এই নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়ার পর ধর্মীয় স্থানগুলির নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্ত শেষ হলে চক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ঘটনা এবং সদস্যদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। আপাতত পঞ্চকুলার মন্দিরে চুরির ঘটনাই এই মহিলা চক্রের নেটওয়ার্ক নিয়ে তদন্তের মূল কেন্দ্র।












