অমৃতসরে জিআরপি এএসআইয়ের ওপর গুলিচালনায় টিটিএইচের নামে ‘অপারেশন নূর’-এর দাবি

অমৃতসরে জিআরপির এএসআই সুখচৈন সিংয়ের ওপর গুলিচালনার ঘটনায় টিটিএইচের নামে দায় স্বীকারের একটি কথিত বার্তা সামনে এসেছে। পুলিশ হামলার কারণ ও দাবিটির সত্যতা খতিয়ে দেখছে।

অমৃতসরের গ্রামে জিআরপির এএসআই সুখচৈন সিংয়ের ওপর গুলিচালনার ঘটনায় নতুন দাবি সামনে এসেছে। ‘তেহরিক-এ-তালিবান হিন্দুস্তান’ (টিটিএইচ)-এর নামে প্রকাশিত একটি কথিত প্রেস নোটে হামলার দায় নেওয়ার দাবি করা হয়েছে। ওই বার্তায় ঘটনাটিকে ‘অপারেশন নূর’-এর অধীনে পরিচালিত অভিযান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত করছে এবং দাবিটির সত্যতা ও হামলার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রবিবার রাতে অমৃতসরের জগদেব কলা গ্রামে জিআরপির এএসআই সুখচৈন সিংয়ের ওপর গুলিচালনার ঘটনা ঘটে। হামলায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং হামলার কারণ জানতে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে।

প্রাথমিক তদন্তে এএসআই সুখচৈন সিং তাঁর ভ্রাতৃবধূ গুরপ্রীত কৌরের বিরুদ্ধে হামলা করানোর সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। এ বিষয়ে পুলিশ গুরপ্রীত কৌর এবং অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। টিটিএইচের নামে প্রকাশিত কথিত প্রেস নোট সামনে আসার পর তদন্তে আরও একটি দিক যুক্ত হয়েছে।

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিটিএইচের নামে একটি কথিত বার্তা সামনে আসে। সেখানে সংগঠনটি এএসআইয়ের ওপর গুলিচালনার দায় নেওয়ার দাবি করেছে এবং ঘটনাটিকে ‘অপারেশন নূর’-এর অধীনে পরিচালিত অভিযান হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

তবে কোনও সংগঠনের পক্ষ থেকে দায় স্বীকারের দাবি নিজে থেকেই ঘটনার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না। বার্তাটি প্রকৃতপক্ষে কে প্রকাশ করেছে এবং হামলায় দাবি করা সংগঠনের কোনও বাস্তব ভূমিকা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে। পাঞ্জাবে এর আগেও টিটিএইচের নামে পুলিশকর্মীদের ওপর হামলার দায় নেওয়ার দাবি সামনে এসেছে।

হামলার কারণ এবং হামলাকারীদের পরিচয় নিয়ে পুলিশের সামনে এখন একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসা পারিবারিক বিরোধের দিকটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে টিটিএইচের কথিত দাবি সামনে আসার পর নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক-সংক্রান্ত দিকও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

তদন্তকারী সংস্থাগুলি সাধারণত এ ধরনের ঘটনায় ঘটনাস্থলের প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ও ডিজিটাল কার্যকলাপ এবং সন্দেহভাজনদের যোগাযোগের তথ্য পরীক্ষা করে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে গুলিচালনার ঘটনা ব্যক্তিগত বিরোধের ফল ছিল নাকি এর পেছনে কোনও সংগঠিত নেটওয়ার্ক ছিল, তা নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে।

পাঞ্জাবে পুলিশকর্মীদের ওপর হামলা ও হত্যার কয়েকটি ঘটনার পর টিটিএইচের নামে দায় স্বীকারের বার্তা আগেও সামনে এসেছে। সেপ্টেম্বরে অমৃতসরে এএসআই হরজিৎ সিংয়ের হত্যার ঘটনাতেও টিটিএইচ দায় নেওয়ার দাবি করেছিল। তবে ওই ঘটনায় পাঞ্জাব পুলিশ সন্ত্রাসী হামলার দিকটি খারিজ করেছিল এবং তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছিল।

তদন্তকারী সংস্থাগুলি টিটিএইচের নামে সামনে আসা দাবিগুলি প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা স্তরে পরীক্ষা করে আসছে। কিছু প্রতিবেদনে এই নেটওয়ার্ককে পাকিস্তানে থাকা অপরাধী ও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করে দেখার কথা বলা হয়েছে। তবে কোনও নির্দিষ্ট ঘটনায় তাদের ভূমিকা ছিল কি না, তা তদন্তের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করবে।

এএসআই সুখচৈন সিংয়ের ওপর গুলিচালনার ঘটনায় পুলিশের তদন্ত এখনও চলছে। টিটিএইচের নামে সামনে আসা কথিত দাবি তদন্তে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা পুলিশের পরবর্তী অনুসন্ধান ও প্রযুক্তিগত প্রমাণের ভিত্তিতে স্পষ্ট হবে।

 

Leave a comment