পাণ্ডবেশ্বরে গভীর রাতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হলেন পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার এক কেবল অপারেটর। কাজের জন্য বাইকে করে যাওয়ার পথে রাস্তা চিনতে গুগল ম্যাপের সাহায্য নিয়েছিলেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু রাস্তার মাঝেই যে প্রায় ৪০ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছিল, তা বুঝতে পারেননি তিনি। আচমকাই মোটরবাইক-সহ সেই গর্তে পড়ে যান। সৌভাগ্যক্রমে গর্তে বর্ষার জল জমে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান তিনি।
সারারাত বাড়ি ফেরেননি প্রসূন
শুক্রবার বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। ফোনে কথা বলা গেলেও তিনি ঠিক কোথায় রয়েছেন, তা স্পষ্টভাবে জানাতে পারছিলেন না।পরিবারের দাবি, কখনও দুর্গাপুরের বিভিন্ন জায়গা, কখনও অজয় নদীর ধার, আবার কখনও বোলপুর কিংবা কলকাতায় থাকার কথা বলেছিলেন প্রসূন। ফলে তাঁর প্রকৃত অবস্থান নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়তে থাকে।
মোবাইলের লোকেশনেই মিলল সূত্র
শেষ পর্যন্ত শনিবার সকালে পুলিশ প্রসূনের মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে। সেই সূত্র ধরে পাণ্ডবেশ্বরের একটি নির্জন এলাকায় পৌঁছন পুলিশকর্মীরা।সেখানেই প্রায় ৪০ ফুট গভীর একটি গর্তের ভিতর থেকে প্রসূনের সন্ধান মেলে। তাঁর মোটরবাইকটিও গর্তের মধ্যে পড়ে ছিল। পরে জেসিবি মেশিনের সাহায্যে তাঁকে এবং মোটরবাইকটি উদ্ধার করা হয়।আহত অবস্থায় প্রসূনকে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গুগল ম্যাপ দেখে যাচ্ছিলেন, আচমকাই গর্তে পড়ে যান
উদ্ধারের পর প্রসূন জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে কেবলের কাজেই পাণ্ডবেশ্বরের একটি গ্রামে যাচ্ছিলেন তিনি। রাস্তা চিনতে গুগল ম্যাপের সাহায্য নিয়েছিলেন।ম্যাপ অনুসরণ করে পিচ রাস্তা ধরে মোটরবাইক চালানোর সময় আচমকাই বিপত্তি ঘটে। সামনে থাকা গভীর গর্তটি বুঝে ওঠার আগেই মোটরবাইক-সহ তিনি সেখানে পড়ে যান।
রাস্তার উপরই চলছিল খনির কাজ
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যে এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে মহালক্ষ্মী নামে একটি খোলা মুখ খনির কাজ চলছিল। মাটি কাটার কাজের জেরে রাস্তার একটি অংশও খনির আওতায় চলে আসে। এর ফলে রাস্তার উপরই তৈরি হয়েছিল বিশাল গভীর গর্ত।তবে এত বড় গর্ত থাকা সত্ত্বেও সেখানে পর্যাপ্ত আলো, ব্যারিকেড বা সতর্কতামূলক চিহ্ন ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বড় বিপদ থেকে অল্পের জন্য রক্ষা
প্রায় ৪০ ফুট গভীর গর্তে পড়ে গেলেও প্রসূন প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। গর্তের ভিতরে বর্ষার জল জমে থাকায় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারত। দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় তিনি সেখানে আটকে ছিলেন।পরিবারের সদস্যদের উদ্বেগ, পুলিশের তৎপরতা এবং মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত তাঁর সন্ধান মেলায় উদ্ধার সম্ভব হয়।
শুক্রবার রাতে কেবলের কাজের জন্য পাণ্ডবেশ্বরের একটি গ্রামে যাচ্ছিলেন কাঁকসার বাসিন্দা কেবল অপারেটর প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। রাস্তা খুঁজতে গুগল ম্যাপের সাহায্য নেওয়ার পর আচমকাই মোটরবাইক-সহ প্রায় ৪০ ফুট গভীর একটি গর্তে পড়ে যান তিনি। সারারাত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে শনিবার সকালে তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ।







