গানেই প্রতিবাদের ভাষা, স্বাধীনতার খোঁজে পাঁচ নারী! প্রেম, বন্ধুত্ব ও আত্মপরিচয়ের গল্প নিয়ে আসছে ‘পরশমণি’

গুল বাহার সিংয়ের পরিচালনায় আসছে বাংলা ছবি ‘পরশমণি’। পাঁচ নারী, তাঁদের মিউজিক্যাল ব্যান্ড, স্বাধীনতার লড়াই, বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার গল্প জানুন।

গান কখনও মনের অনুভূতি প্রকাশ করে, কখনও আবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গীতকেই অবলম্বন করে পাঁচ নারীর জীবনসংগ্রাম, স্বপ্ন, বন্ধুত্ব এবং ভালোবাসার গল্প বলতে চলেছে নতুন বাংলা ছবি ‘পরশমণি’। ছবিতে উঠে আসবে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা ও সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি নিজের পরিচয় ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা।

 গানেই প্রতিবাদের ভাষা, স্বাধীনতার খোঁজে পাঁচ নারী! প্রেম, বন্ধুত্ব ও আত্মপরিচয়ের গল্প নিয়ে আসছে ‘পরশমণি’
পাঁচ নারীর জীবনের গল্প নিয়ে তৈরি ‘পরশমণি’

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী পরিচালক গুল বাহার সিংয়ের পরিচালনায় তৈরি হচ্ছে ‘পরশমণি’। সিন অ্যান্ড সোল এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে ছবিটি প্রযোজনা করছেন প্রতীক বাসওয়ানি। ছবির মূল আকর্ষণ পাঁচ নারীচরিত্র, যাঁদের প্রত্যেকের জীবনেই রয়েছে আলাদা অভিজ্ঞতা, লড়াই এবং স্বপ্ন।শ্রীতমা মিত্র, অঙ্কিতা ব্রহ্ম, ঐশিকী ঘটক, অদিতি বিষ্ণু এবং ইপ্সিতা নাগ—এই পাঁচ অভিনেত্রী ছবির প্রধান নারীচরিত্রে অভিনয় করছেন। পাশাপাশি প্রধান চরিত্রে রয়েছেন রাহুল গঙ্গোপাধ্যায়। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে খরাজ মুখোপাধ্যায় ও কৌশিক সেনকে।

প্রতিকূলতা পেরিয়ে নিজেদের ব্যান্ড গড়ে তোলে পাঁচ তরুণী

‘পরশমণি’র কাহিনি আবর্তিত হয়েছে মধ্যবিত্ত পরিবারের পাঁচ শিক্ষিত তরুণীকে ঘিরে। জীবনের বিভিন্ন সময়ে তাঁরা প্রত্যেকেই পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা, সামাজিক বৈষম্য, শোষণ কিংবা সম্পর্কের তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতা তাঁদের মনে তৈরি করেছে ক্ষোভ, অভিমান এবং নিজের মতো করে বাঁচার ইচ্ছা।তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁদের মধ্যে রয়েছে একটি গভীর মিল—সঙ্গীতের প্রতি ভালোবাসা। সেই ভালোবাসাকে পুঁজি করেই পাঁচজন একসঙ্গে তৈরি করেন নিজেদের মিউজিক্যাল ব্যান্ড, যার নাম ‘পরশমণি’। ধীরে ধীরে তাঁদের গান জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। মঞ্চে পারফরম্যান্স এবং দর্শকদের ভালোবাসা তাঁদের হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

 গানেই প্রতিবাদের ভাষা, স্বাধীনতার খোঁজে পাঁচ নারী! প্রেম, বন্ধুত্ব ও আত্মপরিচয়ের গল্প নিয়ে আসছে ‘পরশমণি’
স্বাধীনতার শর্ত, কিন্তু ভালোবাসা কি মানে কোনও নিয়ম?

ব্যান্ড তৈরির পর পাঁচ তরুণী নিজেদের জন্য একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। তাঁদের শর্ত, কেউ প্রেমে জড়াবেন না, বিয়ে করবেন না কিংবা কোনও সম্পর্কের কারণে নিজের স্বাধীনতার সঙ্গে আপস করবেন না।কিন্তু মানুষের অনুভূতিকে কি এত সহজে নিয়মের বেড়াজালে আটকে রাখা যায়? ভালোবাসা কি কোনও প্রতিজ্ঞা মেনে জীবনে আসে? এই প্রশ্নগুলিই ছবির কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা এবং ব্যক্তিগত অনুভূতির মধ্যে তৈরি হওয়া টানাপোড়েনই ‘পরশমণি’র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

সঙ্গীতই প্রতিবাদ ও আত্মপ্রকাশের মাধ্যম

এই ছবিতে গান শুধুমাত্র বিনোদনের উপকরণ নয়। পাঁচ নারীর কাছে সঙ্গীত হয়ে উঠেছে নিজেদের কথা বলার ভাষা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মাধ্যম এবং আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার শক্তি।কখনও তাঁদের গানে প্রকাশ পাবে প্রেম, ভালোবাসা ও কোমল অনুভূতি। আবার কখনও সেই সুরেই ধরা পড়বে ক্ষোভ, বিদ্রোহ এবং সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। ছবির সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন সুরজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋজু রায় এবং চন্দন রায়চৌধুরী।

 গানেই প্রতিবাদের ভাষা, স্বাধীনতার খোঁজে পাঁচ নারী! প্রেম, বন্ধুত্ব ও আত্মপরিচয়ের গল্প নিয়ে আসছে ‘পরশমণি’
শুধু প্রতিবাদ নয়, সম্পর্কের জটিলতাও তুলে ধরবে ছবি

‘পরশমণি’ শুধুমাত্র নারীর অধিকার কিংবা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গল্প নয়। এর পাশাপাশি ছবিতে গুরুত্ব পেয়েছে ভালোবাসা, বন্ধুত্ব এবং সম্পর্কের নানা জটিলতা।অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা অনেক সময় মানুষকে নতুন করে সম্পর্কে জড়াতে ভয় পাইয়ে দেয়। অবিশ্বাস ও মানসিক আঘাতের কারণে তৈরি হয় অদৃশ্য দূরত্ব। কিন্তু ভালোবাসা কখন, কীভাবে জীবনে প্রবেশ করবে, তা আগে থেকে ঠিক করা যায় না। এই আবেগের দিকটিও ছবির গল্পে বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

 গানেই প্রতিবাদের ভাষা, স্বাধীনতার খোঁজে পাঁচ নারী! প্রেম, বন্ধুত্ব ও আত্মপরিচয়ের গল্প নিয়ে আসছে ‘পরশমণি’
নারীর স্বাধীনতা, আত্মসম্মান, বন্ধুত্ব, প্রতিবাদ এবং ভালোবাসার নানা দিক তুলে ধরতে আসছে নতুন বাংলা ছবি ‘পরশমণি’। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী পরিচালক গুল বাহার সিংয়ের পরিচালনায় সঙ্গীতনির্ভর এই ছবির কেন্দ্রে রয়েছেন পাঁচ শিক্ষিত তরুণী। জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তাঁরা গড়ে তোলেন নিজেদের মিউজিক্যাল ব্যান্ড। কিন্তু স্বাধীনভাবে বাঁচার অঙ্গীকারের মাঝেই ভালোবাসা ও সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরি হয়।

Leave a comment