হরিদ্বারে ভারতীয় জ্ঞান-পরম্পরা ও যোগভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিয়ে পতঞ্জলি সিভিল সার্ভিস একাডেমির সূচনা

হরিদ্বারেরজাতীয় শিক্ষা নীতি ও ভারতীয় জ্ঞান-পরম্পরাভিত্তিক পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি যোগ, প্রশাসনিক শিক্ষা এবং ব্যক্তিত্ব বিকাশকে সমন্বিত করে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

পতঞ্জলি সিভিল সার্ভিস একাডেমির উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি নতুন প্রশিক্ষণ মডেলের ঘোষণা করেছে। একাডেমিতে ভারতীয় জ্ঞান-পরম্পরা, আধুনিক প্রশাসনিক শিক্ষা এবং যোগভিত্তিক ব্যক্তিত্ব বিকাশকে সমন্বিত করা হবে। এর পরিচালনায় শিক্ষাবিদ অবধ ওঝা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন এবং শিক্ষার্থীরা সমন্বিত প্রস্তুতির সুযোগ পাবেন।

হরিদ্বারে অবস্থিত পতঞ্জলি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শুরু হওয়া পতঞ্জলি সিভিল সার্ভিস একাডেমিকে একটি বিশেষ শিক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের দাবি, এখানে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীদের প্রচলিত কোচিং মডেলের বাইরে গিয়ে সমন্বিত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। একাডেমির পাঠ্যক্রম জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) এবং ভারতীয় জ্ঞান-পরম্পরা (IKS)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তুত করা হয়েছে।

এই প্রশিক্ষণ মডেলে ভারতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। একাডেমির মতে, প্রশাসনিক পরিষেবায় সাফল্যের জন্য শুধু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান যথেষ্ট নয়, বরং বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক উপলব্ধিও প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই শিক্ষার্থীদের চিন্তন ক্ষমতা, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং জনস্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতা বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

একাডেমিতে “ত্রি-শিক্ষা” মডেল প্রয়োগ করা হবে, যেখানে আধ্যাত্মিক জ্ঞান, প্রশাসনিক উৎকর্ষতা এবং একাডেমিক কঠোরতাকে একত্রিত করা হয়েছে। যোগগুরু স্বামী রামদেব বলেছেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য শক্তিশালী চরিত্র ও নৈতিক মূল্যবোধ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগত যোগ্যতাও।

এই ধারণার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন কর্মসূচিতে যোগ, প্রাণায়াম এবং প্রার্থনা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশকে শক্তিশালী করা, যাতে তারা কঠিন পরিস্থিতিতেও ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হন। একাডেমির মতে, প্রশাসনিক দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনের জন্য আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

দেশের সুপরিচিত শিক্ষক ও সিভিল সার্ভিস পরামর্শদাতা Avadh Ojha একাডেমির একাডেমিক নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য শুধু তথ্য সরবরাহ করা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের বিচারবোধ ও বিশ্লেষণক্ষমতার বিকাশ ঘটানো। প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি ইতিহাস ও প্রেরণামূলক বিষয়ের ওপর বিশেষ সেশন পরিচালনা করবেন।

একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, দিল্লি এবং দেশের অন্যান্য প্রধান শিক্ষা কেন্দ্র থেকে অভিজ্ঞ শিক্ষকদেরও শিক্ষণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, বিকল্প পেশাগত সুযোগ-সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত একাডেমিক সহায়তাও প্রদান করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি এবং উৎকৃষ্ট ফলাফলকারীদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণাও করেছে। আধুনিক শিক্ষণ-সুবিধা, আবাসিক ব্যবস্থা এবং ক্রীড়া অবকাঠামোসহ এই একাডেমি আগামী বছরগুলোতে সিভিল সার্ভিস প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে এগোবে।

 

Leave a comment