পেশোয়ারে ২০ কেজি আটার দাম ৩৩০০ রুপি, রুটির দাম বেড়ে ৩০ রুপি

পাকিস্তানের পেশোয়ারে ২০ কেজি মোটা আটার দাম ৩৩০০ রুপি পর্যন্ত পৌঁছেছে। ৫০ গ্রাম রুটির দাম ২০ থেকে বেড়ে ৩০ রুপি হয়েছে। সরকারি ভর্তুকিযুক্ত আটার সরবরাহ নিয়ে খাদ্য দপ্তরের দাবি রয়েছে।

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে আটার দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বেড়েছে। পেশোয়ারে ২০ কেজি মোটা আটার ব্যাগের দাম ৩,৩০০ পাকিস্তানি রুপি পর্যন্ত পৌঁছেছে। আটার দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে তন্দুর এবং দৈনন্দিন খাদ্যব্যবস্থায়। স্থানীয় বাজারে রুটির দামও বেড়েছে এবং বেশ কয়েকজন দোকানি একটি করে রুটি বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন।

স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫০ গ্রাম ওজনের রুটির দাম আগে ২০ পাকিস্তানি রুপি ছিল, যা এখন বেড়ে ৩০ রুপি হয়েছে। কিছু এলাকায় ক্রেতাদের একটি রুটির পরিবর্তে ৪০ রুপিতে দুটি রুটি কিনতে বলা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দাম বাড়ার পাশাপাশি রুটির ওজনও কমানো হচ্ছে।

আটার দাম বৃদ্ধির মধ্যে সরকারি ভর্তুকিযুক্ত সরবরাহ এবং খোলা বাজারে আটার প্রাপ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। খাদ্য দপ্তরের দাবি, সরকারি দরে ভর্তুকিযুক্ত আটা এখনও প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় বিতরণ করা হচ্ছে।

পেশোয়ারের বাজারে আটার দামে দ্রুত বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০ কেজি মোটা আটার ব্যাগ প্রায় ৩,৩০০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, ২০ কেজি মিহি আটার দাম প্রায় ৩,১২০ রুপি বলে জানা গেছে। এছাড়া ৮০ কেজি মোটা আটার ব্যাগের দাম ১৩,২০০ রুপি পর্যন্ত পৌঁছেছে। ২০ কেজি ভুসির দামও প্রায় ১,৪৮০ রুপি বলে জানা গেছে।

আটার এই দামের প্রভাব সেই পরিবারগুলোর ওপর বেশি পড়ে, যাদের খাদ্যতালিকায় গম এবং গমজাত পণ্যের অংশ বেশি। পাকিস্তানে রুটি সাধারণ পরিবারের দৈনন্দিন খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় আটার দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পারিবারিক বাজেটে পড়ছে।

আটার মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পেশোয়ারের তন্দুর ব্যবসাতেও দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, ৫০ গ্রাম রুটির দাম ২০ রুপি থেকে বেড়ে ৩০ রুপি হয়েছে।

পেশোয়ারের খাইবার বাজার, আশরাফ রোড, করাচি মার্কেট, নমক মন্ডি এবং গভর্নমেন্ট কলেজ চৌকসহ একাধিক এলাকায় দোকানিরা একটি করে রুটি বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। সেখানে ক্রেতাদের ৪০ রুপিতে দুটি রুটি দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, শুধু দাম বাড়াই সমস্যা নয়। কিছু ক্রেতার অভিযোগ, আগের তুলনায় রুটির ওজনও কমানো হচ্ছে। রুটির দাম নির্ধারণের পাশাপাশি নির্ধারিত ওজনও নজরদারির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আটার দামে হঠাৎ বৃদ্ধির পেছনে কয়েকজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মজুতদারির অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বাজারে আটার সরবরাহ কমে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যবসায়ী গুদামে মজুত আটকে রেখেছেন।

বাজারে কোনো প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি হলে তার দাম দ্রুত বাড়তে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সংস্থাগুলো বড় ব্যবসায়ী ও আটার গুদামগুলোর ওপর নজরদারি বাড়াচ্ছে।

প্রতিবেদনগুলোতে আরও দাবি করা হয়েছে, দামে বৃদ্ধির সময় কিছু আটা ব্যবসায়ী অল্প সময়ের মধ্যে কোটি কোটি রুপির অতিরিক্ত মুনাফা করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং প্রত্যেক ব্যবসায়ীর ভূমিকা পৃথক তদন্তের বিষয়।

বর্ধিত দাম এবং বাজারে কথিত ঘাটতির মধ্যে প্রাদেশিক খাদ্য দপ্তর জানিয়েছে, ভর্তুকিযুক্ত আটা এখনও সরকারি দরে বিতরণ করা হচ্ছে।

দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে পুরো প্রদেশে ১,৬১১ জন সক্রিয় ডিলারের মাধ্যমে সরকারি দরে ৪,১৭,১৬৮ ব্যাগ আটা সরবরাহ করা হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পেশোয়ার ডিভিশনে ১,০১,৯৫৫ ব্যাগ, মালাকান্ডে ১,২০,৭৩৭ এবং মারদানে ৫৯,৩৮৯ ব্যাগ সরবরাহ করা হয়েছে। হাজারা ডিভিশনে ৩৮,১২৯, বান্নুতে ১২,৫৮৮, ডেরা ইসমাইল খানে ৪১,৬৮৮ এবং কোহাটে ৪২,৬৮২ ব্যাগ সরবরাহ করা হয়েছে।

সরকারের দাবি, ভর্তুকিযুক্ত আটার সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। তবে স্থানীয় বাজারে উচ্চ দাম এবং মানুষের অভিযোগ থেকে বোঝা যাচ্ছে, সরকারি সরবরাহ এবং খোলা বাজারের দামের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

পাকিস্তানের সাধারণ পরিবারগুলো ইতিমধ্যেই মূল্যস্ফীতি এবং বাড়তে থাকা গৃহস্থালি ব্যয়ের মুখোমুখি থাকা অবস্থায় আটার দাম বেড়েছে। গম ও আটার মতো মৌলিক খাদ্যপণ্যের দামের পরিবর্তন সরাসরি পরিবারের মাসিক ব্যয়ের সক্ষমতায় প্রভাব ফেলে।

কম আয়ের পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে রুটির দামে কয়েক রুপির বৃদ্ধিও দৈনন্দিন বাজেটে প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি শুধু দাম কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তারা সরকারি দরে পর্যাপ্ত পরিমাণে আটা সরবরাহেরও দাবি জানিয়েছেন।

নির্ধারিত দরে সরবরাহ করা আটা প্রকৃতপক্ষে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না এবং দোকানি ও তন্দুর পরিচালকেরা নির্ধারিত ওজন ও দামের নিয়ম মেনে চলছেন কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পাকিস্তানে গম ও আটার দাম নিয়ে সংকট নতুন নয়। গত কয়েক বছরে দেশটি একাধিকবার আটা ও গমের প্রাপ্যতা এবং দাম সংক্রান্ত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।

২০১৯-২০ সময়কালে পাকিস্তানের বিভিন্ন অংশে গম ও আটার দামে দ্রুত বৃদ্ধি হয়েছিল। সেই সময় বাজারে সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল।

এর পর ২০২৩ সালেও গম ও আটার সরবরাহ নিয়ে বড় সংকট দেখা দেয়। ভর্তুকিযুক্ত আটার চাহিদা বাড়ায় বেশ কয়েকটি শহরে বিতরণকেন্দ্রের বাইরে দীর্ঘ সারি দেখা গিয়েছিল।

কম দামে সরকারি আটা পাওয়ার জন্য বিপুল সংখ্যক মানুষ পৌঁছানোয় বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কিছু জায়গায় আটা বিতরণের সময় পদদলিত হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

পাকিস্তানে আটার দাম নিয়ন্ত্রণ শুধু খুচরা বাজারের বিষয় নয়। এর জন্য গমের প্রাপ্যতা, সরকারি মজুত, পরিবহন, মিলিং, বিতরণ এবং বাজার নজরদারির মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।

কোনো পর্যায়ে গমের সরবরাহ ব্যাহত হলে বা বাজারে মজুত সীমিত হয়ে পড়লে তার প্রভাব আটার এবং পরবর্তীতে রুটির দামে পড়তে পারে। একইভাবে মজুতদারি বা অবৈধভাবে সংরক্ষণের অভিযোগের কার্যকর তদন্তও দাম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো সরকারি ভর্তুকির সুবিধা প্রকৃতপক্ষে প্রয়োজনীয় পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছানো এবং খোলা বাজারেও পর্যাপ্ত আটার সরবরাহ বজায় রাখা।

পেশোয়ারে আটার দাম বৃদ্ধি এবং রুটির দাম বাড়ার পর স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি এবং সরকারি সরবরাহের ওপর নজর থাকবে। বাজারে পর্যাপ্ত মজুত পৌঁছালে এবং ভর্তুকিযুক্ত আটার বিতরণ কার্যকর থাকলে দামের ওপর চাপ কমতে পারে।

তবে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে পার্থক্য বজায় থাকলে আটা ও রুটির দাম আরও বাড়তে পারে, যা সাধারণ মানুষের সমস্যাও বাড়াতে পারে। পাকিস্তান সরকারের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গম ও আটা দেশের অন্যতম প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের অন্তর্ভুক্ত।

বর্তমানে পেশোয়ারে ২০ কেজি আটার ব্যাগের দাম ৩,৩০০ রুপি পর্যন্ত পৌঁছানো এবং রুটির দাম ২০ রুপি থেকে বেড়ে ৩০ রুপি হওয়া খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপকে তুলে ধরছে। আগামী দিনে সরকারি বিতরণ ও বাজার নজরদারি কতটা কার্যকর হয়, তার ওপর এই পরিস্থিতির দিক নির্ভর করবে।

 

Leave a comment