জাতীয় হ্যান্ডলুম দিবসে স্থানীয় বস্ত্র ও ঐতিহ্যবাহী বয়নশিল্পকে উৎসাহিত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ম পণ্য প্রচার, সামাজিক মাধ্যমে অংশগ্রহণ এবং ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রের বৈচিত্র্য তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে নয়াদিল্লিতে ১২তম জাতীয় হ্যান্ডলুম দিবস উদ্‌যাপনে পুরস্কার বিতরণ, প্রদর্শনী ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।

জাতীয় হ্যান্ডলুম দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর প্রতি স্থানীয় বস্ত্র এবং ঐতিহ্যবাহী বয়নশিল্পকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে বলেন, ভারতের সমৃদ্ধ হস্তশিল্প ও হ্যান্ডলুম শিল্পকে শক্তিশালী করতে প্রত্যেক নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

জাতীয় হ্যান্ডলুম দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় হ্যান্ডলুম পণ্য তুলে ধরতে এবং ‘গেট রেডি উইথ মি’ (GRWM) ট্রেন্ডের মাধ্যমে ভারতীয় বস্ত্রের বৈচিত্র্য বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বর্তমানে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর মাধ্যম। তিনি বলেন, মানুষ যদি তাদের পছন্দের হ্যান্ডলুম পোশাক ও বস্ত্রের সঙ্গে ভিডিও ও ছবি ভাগ করে নেন, তাহলে ভারতীয় হস্তশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী বয়নশিল্প আরও বিস্তৃত পরিচিতি পেতে পারে। তিনি সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের #NationalHandloomDay হ্যাশট্যাগ ব্যবহারেরও আহ্বান জানান।

ভারতে প্রতি বছর ৭ আগস্ট জাতীয় হ্যান্ডলুম দিবস পালিত হয়। ১৯০৫ সালে শুরু হওয়া স্বদেশি আন্দোলনের স্মরণে এই দিনটি পালন করা হয়, যা ভারতীয় শিল্প ও স্থানীয় পণ্যের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। হ্যান্ডলুম খাত ভারতের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক হওয়ার পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকার একটি প্রধান উৎস।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের হ্যান্ডলুম শিল্প বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রখাত। এই খাত শতাব্দীপ্রাচীন বয়নপ্রযুক্তি, আঞ্চলিক শিল্পধারা এবং হাতে তৈরি বস্ত্রের ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে আসছে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থার কারণে এটি বৈশ্বিক টেকসই ফ্যাশন (Sustainable Fashion)-এর চাহিদার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

জাতীয় হ্যান্ডলুম দিবস উপলক্ষে বস্ত্র মন্ত্রণালয় নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ১২তম জাতীয় হ্যান্ডলুম দিবস উদ্‌যাপনের আয়োজন করবে। অনুষ্ঠানে ভারতের বিভিন্ন বয়ন ঐতিহ্য, হাতে তৈরি বস্ত্র এবং তাঁতিশিল্পী সম্প্রদায়ের অবদানকে সম্মান জানানো হবে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

এছাড়া কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী, বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা, বিভিন্ন রাজ্যের তাঁতিশিল্পী, নকশা বিশেষজ্ঞ, শিল্প প্রতিনিধিসহ অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট তাঁতিশিল্পী ও কারিগরদের সম্মাননা প্রদান করা হবে। মোট ২২টি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার দেওয়া হবে, যার মধ্যে রয়েছে তিনটি সন্ত কবীর হ্যান্ডলুম পুরস্কার এবং ১৯টি জাতীয় হ্যান্ডলুম পুরস্কার। এই পুরস্কারের উদ্দেশ্য হলো ঐতিহ্যবাহী বয়নপ্রযুক্তি সংরক্ষণ, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং ভারতীয় হ্যান্ডলুম পণ্যের পরিচিতি বাড়াতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা কারিগরদের সম্মানিত করা। পুরস্কারপ্রাপ্তদের কাজের একটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হবে, যেখানে দর্শনার্থীরা ভারতের বিভিন্ন আঞ্চলিক বয়নশৈলী কাছ থেকে দেখতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে হ্যান্ডলুম-সংক্রান্ত বিশেষ প্রকাশনার উদ্বোধন করা হবে এবং বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী বয়নপ্রযুক্তির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। দর্শনার্থীরা কানি বয়ন, কচ্ছ শিল্প, প্রাকৃতিক রঙে তৈরি বস্ত্র এবং অন্যান্য হাতে তৈরি পণ্য দেখার সুযোগ পাবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক নকশা ও ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের সমন্বয় ভারতীয় হ্যান্ডলুম শিল্পকে বৈশ্বিক বাজারে নতুন সম্ভাবনা এনে দিয়েছে। বর্তমানে বহু আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও ডিজাইনার ভারতীয় হাতে তৈরি বস্ত্রের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

ভারতের হ্যান্ডলুম শিল্পে ৩৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত। এই খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য এবং তাঁরা মোট কর্মশক্তির একটি বড় অংশ। গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতেও হ্যান্ডলুম শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

 

Leave a comment