ইলিশ মানেই বাঙালির আবেগ। কিন্তু চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় বাজারে এই মাছের দাম প্রায়ই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়। এবার সেই পরিস্থিতি বদলের আশার আলো দেখাচ্ছে ICAR-CIFRI-এর ব্যারাকপুর কেন্দ্রের গবেষণা। নদী বা সমুদ্রের বদলে আবদ্ধ জলাশয়ে ইলিশকে বড় করে তোলার পরীক্ষায় মিলেছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
পুকুরের জলেও বড় হচ্ছে ইলিশ!
দীর্ঘদিনের গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, নির্দিষ্ট পরিবেশ বজায় রাখতে পারলে আবদ্ধ জলাশয়েও ইলিশের বৃদ্ধি সম্ভব। এই গবেষণায় ব্যারাকপুরের পাশাপাশি রহড়া, কোলাঘাট ও কাকদ্বীপের গবেষণা কেন্দ্রগুলিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।ইলিশের স্বাভাবিক খাদ্যের পাশাপাশি ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন, জুপ্ল্যাঙ্কটন এবং বিশেষ পুষ্টিকর ফিড ব্যবহার করে মাছের বৃদ্ধির উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
প্রায় ১ কেজির ইলিশ! গবেষণায় বড় নজির
ইলিশ স্বাভাবিকভাবেই ধীরে বাড়ে। গবেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম বছরে একটি ইলিশের ওজন প্রায় ১৫০ গ্রাম এবং দ্বিতীয় বছরে তা ৩০০–৪০০ গ্রামের কাছাকাছি হতে পারে।কিন্তু সাম্প্রতিক পরীক্ষায় আবদ্ধ জলাশয়ে সর্বোচ্চ ৯৯২ গ্রাম ওজনের ইলিশ পাওয়া গিয়েছে। গবেষকদের কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।তবে এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে—আবদ্ধ জলাশয়ে ইলিশের সম্পূর্ণ প্রজনন প্রযুক্তি। সেই গবেষণাও চলছে।
ভবিষ্যতে কি পুকুরেই হবে বাণিজ্যিক ইলিশ চাষ?
গবেষণার এই পর্যায়ে সাফল্য মিললে আগামী দিনে পুকুর বা অন্যান্য আবদ্ধ জলাশয়ে বাণিজ্যিকভাবে ইলিশ চাষের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। ইতিমধ্যেই এই প্রযুক্তি নিয়ে মৎস্যচাষীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।তবে ইলিশ পালনের ক্ষেত্রে জল ও অক্সিজেনের মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকদের মতে, ইলিশের অক্সিজেনের চাহিদা বেশি হওয়ায় এক জলাশয় থেকে অন্য জলাশয়ে মাছ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
ইলিশের দাম কি এবার কমবে?
এই প্রশ্নটাই স্বাভাবিক। যদি ভবিষ্যতে পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে বিপুল পরিমাণ ইলিশ উৎপাদন করা সম্ভব হয়, তাহলে বাজারে সরবরাহ বাড়তে পারে। চাহিদার তুলনায় জোগান বাড়লে দাম কমার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।তবে এখনই ইলিশের দাম কমে যাবে বলা যাবে না। কারণ গবেষণা এখনও সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক পর্যায়ে পৌঁছয়নি এবং মাছের প্রজনন প্রযুক্তি ও বড় আকারে উৎপাদনের সক্ষমতা আরও পরীক্ষা করে দেখতে হবে।
শুধু পুকুরে চাষ নয়, নদীর ইলিশ বাঁচাতেও জরুরি পদক্ষেপ
গবেষকদের মতে, প্রাকৃতিক পরিবেশে ইলিশের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য ছোট ইলিশ ধরা বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি নির্দিষ্ট মাপের চেয়ে ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার না করা এবং নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ করাও প্রয়োজন।এছাড়া সরকারি নির্ধারিত ব্যান পিরিয়ড বা মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময় কঠোরভাবে মেনে চললে প্রাকৃতিক জলভাগেও ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।
সমুদ্র বা নদীর পরিবর্তে এবার আবদ্ধ জলাশয়ে ইলিশের বৃদ্ধি ঘটাতে সাফল্য পেয়েছেন ব্যারাকপুরের ICAR-CIFRI-এর বিজ্ঞানীরা। পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ১ কেজি ওজনের ইলিশও পাওয়া গিয়েছে। ভবিষ্যতে প্রজনন প্রযুক্তি সফল হলে পুকুরে বাণিজ্যিক ইলিশ চাষের পথ খুলতে পারে। তাতে জোগান বাড়লে মাছের দাম কমার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।









