পর্দায় হয়তো তাঁর উপস্থিতি ছিল সীমিত, কিন্তু অভিনয়ের ছাপ ছিল গভীর। মঞ্চে প্রায় পাঁচ দশকের দীর্ঘ পথচলা এবং সিনেমায় মনে রাখার মতো একাধিক চরিত্রের মাধ্যমে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন সাবিত্রী শ্রীধরন। মালয়ালম থিয়েটার ও চলচ্চিত্রের এই পরিচিত মুখ আর নেই। ২৩ সেপ্টেম্বর কোঝিকোড়ের নিজের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।
নাটক দিয়েই শুরু হয়েছিল অভিনয়ের পথ
সাবিত্রী শ্রীধরনের অভিনয়জীবনের সূচনা হয়েছিল নাট্যমঞ্চে। ‘কারুথা ভেলিচাম’ নাটকের হাত ধরে থিয়েটারে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর প্রায় দুই দশক অপেশাদার থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।১৯৮৪ সালে কে. টি. মোহাম্মদের কলিঙ্গ থিয়েটারের ‘ইথু ভূমিয়ানু’ নাটকের মাধ্যমে পেশাদার মঞ্চে আত্মপ্রকাশ করেন সাবিত্রী। এরপর একের পর এক উল্লেখযোগ্য নাটকে অভিনয় করেন তিনি। ‘কাফির’, ‘সৃষ্টি’, ‘দীপস্তম্ভম মহাশ্চর্যম’, ‘আচানুম বাপ্পায়ুম’, ‘সাক্ষাৎকারম’, ‘কুছেলভৃতম’ এবং ‘সমন্বয়ম’-এর মতো নাটকে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের নজর কাড়ে।
মঞ্চে দীর্ঘ কেরিয়ার, পেয়েছেন একাধিক সম্মান
থিয়েটারের প্রতি তাঁর টান বরাবরই ছিল গভীর। দীর্ঘদিন মঞ্চে অভিনয়ের পাশাপাশি নাট্যজগতে তাঁর অবদানের জন্য একাধিক রাজ্যস্তরের পুরস্কার ও সম্মান পান তিনি। সিনেমায় কাজ করলেও নাটকই ছিল তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম প্রধান জায়গা।প্রায় পাঁচ দশকের এই মঞ্চজীবন তাঁকে মালয়ালম থিয়েটারের পরিচিত ও সম্মানিত শিল্পীদের তালিকায় জায়গা করে দেয়।
১৯৯১ সালে সিনেমায় পা
১৯৯১ সালে এম. টি. বাসুদেবন নায়ারের ‘কাডভু’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় সাবিত্রী শ্রীধরনের। তবে সিনেমায় নিয়মিত হওয়ার পরিবর্তে তিনি মূলত নাট্যচর্চাতেই মনোনিবেশ করেছিলেন।কিছু সময় চলচ্চিত্র থেকে দূরে থাকার পর পরবর্তী সময়ে ফের বড় পর্দায় দেখা যায় তাঁকে। আর সেই প্রত্যাবর্তনের পরই আসে তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়।
‘সুদানি ফ্রম নাইজেরিয়া’-র জামিলা চরিত্রে নজর কাড়েন
২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া মালয়ালম ছবি ‘সুদানি ফ্রম নাইজেরিয়া’ সাবিত্রী শ্রীধরনের কেরিয়ারে বড় পরিবর্তন আনে। ছবিতে জামিলা চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের বিশেষভাবে মনে দাগ কাটে।এই একটি চরিত্রের সুবাদেই তিনি বৃহত্তর দর্শকমহলে পরিচিতি পান। জামিলা চরিত্রে অভিনয়ের জন্য কেরালা রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ চরিত্রাভিনেত্রীর সম্মান পান তিনি। একই অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারেও বিশেষ সম্মাননা লাভ করেন।
এরপর একাধিক ছবিতে অভিনয়
‘সুদানি ফ্রম নাইজেরিয়া’-র পর সাবিত্রী শ্রীধরনকে একাধিক মালয়ালম ছবিতে দেখা যায়। তাঁর অভিনীত ছবির তালিকায় রয়েছে ‘ডাকিনি’, ‘মাই নেম ইজ শাজি’, ‘ভাইরাস’, ‘ইতিমানি: মেড ইন চায়না’, ‘পাড়া’ এবং ‘পাপ্পান’।বয়স বাড়লেও অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ কমেনি। চরিত্র ছোট হলেও নিজের অভিনয় দিয়ে তা দর্শকদের মনে রাখার মতো করে তুলতেন তিনি।
শেষ ছবিতেও ছিল অভিনয়ের ছাপ
সাবিত্রী শ্রীধরনের শেষ চলচ্চিত্র ছিল ‘বয়েসত্রয়ী মুপ্পাথি’। দীর্ঘ অভিনয়জীবনের শেষপর্বেও বড় পর্দায় কাজ করে গিয়েছেন তিনি।তাঁর প্রয়াণে মালয়ালম থিয়েটার ও চলচ্চিত্রজগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিনয়জীবনে মঞ্চ থেকে সিনেমা—দুই ক্ষেত্রেই নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছিলেন এই প্রবীণ শিল্পী।
মালয়ালম চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতের প্রবীণ অভিনেত্রী সাবিত্রী শ্রীধরন প্রয়াত। ২৩ সেপ্টেম্বর কোঝিকোড়ের নিজের বাড়িতে ৭৮ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। প্রায় পাঁচ দশক ধরে নাট্যমঞ্চে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ২০১৮ সালের ‘সুদানি ফ্রম নাইজেরিয়া’ ছবিতে জামিলা চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান। এই অভিনয়ের জন্য কেরালা রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারেও বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছিলেন তিনি।








