বাজারের ওঠানামা কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের চিন্তা ছাড়াই যদি নিয়মিত মোটা আয়ের সুযোগ মেলে, তাহলে অবসরজীবনে স্বস্তি অনেকটাই বাড়ে। সেই কারণেই বর্তমানে প্রবীণদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পোস্ট অফিসের সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম বা SCSS। কেন্দ্র সরকারের এই প্রকল্পে নিরাপত্তার পাশাপাশি মিলছে আকর্ষণীয় সুদের হার এবং স্থায়ী আয়ের নিশ্চয়তা।
৮.২% সুদে বাড়ছে আকর্ষণ
কেন্দ্র সরকার প্রতি ত্রৈমাসিকে ছোট সঞ্চয় প্রকল্পগুলির সুদের হার পর্যালোচনা করে। তবে ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকের জন্য SCSS-এর সুদের হারে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। বর্তমানে এই প্রকল্পে বছরে ৮.২ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে, যা অন্যান্য নিরাপদ বিনিয়োগের তুলনায় যথেষ্ট আকর্ষণীয় বলেই মনে করছেন আর্থিক বিশেষজ্ঞরা।
বছরে মিলতে পারে ২.৪৬ লক্ষ টাকা
এই প্রকল্পে সর্বাধিক ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়। কেউ যদি সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত বিনিয়োগ করেন, তাহলে প্রতি তিন মাস অন্তর প্রায় ৬১,৫০০ টাকা করে সুদ পাবেন। অর্থাৎ বছরে মোট সুদের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা। ফলে অবসরজীবনে মাসিক খরচ চালানোর জন্য এটি হতে পারে একটি নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস।
৫ বছরের নিশ্চিন্ত মেয়াদ, বাড়ানোও যাবে
SCSS-এর মেয়াদ ৫ বছর। তবে চাইলে পরবর্তীতে আরও ৩ বছরের জন্য এই স্কিমের মেয়াদ বাড়ানো যায়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে নিরাপদে বিনিয়োগ রেখে নিয়মিত আয়ের সুবিধা পাওয়া সম্ভব। যাঁরা অবসরের পর স্থায়ী আর্থিক পরিকল্পনা করতে চান, তাঁদের জন্য এই স্কিম বিশেষ উপযোগী।
যৌথ অ্যাকাউন্টের সুবিধাও রয়েছে
এই স্কিমে ন্যূনতম ১,০০০ টাকা জমা করেই অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। একজন ব্যক্তির মোট জমার সীমা ৩০ লক্ষ টাকা হলেও স্বামী-স্ত্রী আলাদা অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। পাশাপাশি যৌথ অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধাও রয়েছে। ফলে পরিবারের মোট বিনিয়োগ ও আয়ের পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব।
কর ছাড়ের সুবিধায় বাড়তি লাভ
এই সরকারি প্রকল্পে শুধু সুদই নয়, আয়কর আইনের 80C ধারার অধীনে কর ছাড়ের সুবিধাও পাওয়া যায়। ফলে নিরাপদ রিটার্নের পাশাপাশি কর সাশ্রয়ের সুযোগও মিলছে। প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এটি দ্বিগুণ লাভজনক হয়ে উঠেছে।
অবসরের পর নিরাপদ বিনিয়োগে নিয়মিত আয়ের খোঁজে থাকা প্রবীণদের জন্য বড় সুযোগ নিয়ে এসেছে পোস্ট অফিসের সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম (SCSS)। বর্তমানে এই সরকারি প্রকল্পে মিলছে ৮.২ শতাংশ বার্ষিক সুদ। সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে বছরে প্রায় ২.৪৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সুদ পাওয়া সম্ভব। সঙ্গে রয়েছে কর ছাড় ও সরকারি নিরাপত্তার সুবিধাও।











