পুজোর আর বেশি দেরি নেই। তাই অনেকেই ইতিমধ্যেই জিম, ডায়েট এবং স্বাস্থ্যকর পানীয়ের দিকে নজর দিয়েছেন। সাধারণ জলের বদলে সারাদিন ডিটক্স ওয়াটার পান করাও অনেকের রুটিনের অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই পানীয় কি সত্যিই শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে পারে? নাকি ডিটক্স ওয়াটার নিয়ে মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে একটি ভুল ধারণা?
![]()
ডিটক্স ওয়াটার খেলেই কি ওজন কমবে?
ডিটক্স ওয়াটারকে ঘিরে নানা ধরনের দাবি শোনা যায়। কেউ মনে করেন, এটি শরীর থেকে সমস্ত টক্সিন বের করে দেয়, আবার কেউ ভাবেন নিয়মিত এই পানীয় খেলেই দ্রুত ওজন কমবে। কিন্তু পুষ্টিবিদ অনুশ্রী মিত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি এতটা সরল নয়।শরীরের স্বাভাবিক ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়ার জন্য আলাদা করে কোনও বিশেষ পানীয় অপরিহার্য নয়। লিভার শরীরের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ভূমিকা পালন করে। তাই একদিন বেশি তেল-মশলাযুক্ত বা অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পর ডিটক্স ওয়াটার পান করলেই তার প্রভাব পুরোপুরি মুছে যাবে— এমনটা ভাবা ঠিক নয়।
ইনফিউজ়ড ওয়াটার কেন জনপ্রিয়?
জলের মধ্যে লেবু, শসা, বিভিন্ন ফল, সব্জি বা হার্বস রেখে তৈরি করা পানীয়কে সাধারণভাবে ইনফিউজ়ড ওয়াটার বলা হয়। সাধারণ জলের তুলনায় এতে স্বাদ ও গন্ধের বৈচিত্র্য থাকায় অনেকের কাছেই এটি বেশি আকর্ষণীয়।বিশেষ করে যারা পর্যাপ্ত সাধারণ জল পান করতে পারেন না, তাঁদের জন্য ইনফিউজ়ড ওয়াটার জল খাওয়ার অভ্যাস বাড়ানোর একটি সহজ উপায় হতে পারে। পর্যাপ্ত জল শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।তবে ইনফিউজ়ড ওয়াটারকে ওজন কমানোর কোনও ম্যাজিক ফর্মুলা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
![]()
স্মুদি বা জুস কি ডিটক্স ওয়াটারের চেয়ে ভালো?
ডিটক্স ড্রিঙ্কের তালিকায় স্মুদি, জুস-সহ বিভিন্ন পানীয়ের নাম থাকে। কিন্তু প্রতিটি পানীয়ের পুষ্টিগুণ এক নয়। বিশেষ করে ফলের জুসে অতিরিক্ত চিনি বা ক্যালোরি যোগ হলে তা ওজন কমানোর লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।তাই শুধু ‘ডিটক্স’ শব্দটি দেখে কোনও পানীয়কে স্বাস্থ্যকর বা ওজন কমানোর উপযোগী ধরে নেওয়া উচিত নয়। কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে এবং পুরো দিনের খাদ্যতালিকা কেমন— সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ওজন কমাতে কোন বিষয়গুলিতে নজর দেবেন?
শুধু একটি পানীয়ের উপর নির্ভর করে ওজন কমানো সম্ভব নয়। ওজন কমানোর ক্ষেত্রে খাবারের ধরন, দৈনিক শারীরিক পরিশ্রম, ঘুম, জীবনযাত্রা এবং ব্যক্তির সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার মতো একাধিক বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।তাই পুজোর আগে দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা করলে অতি-কঠোর ডায়েট বা শুধুমাত্র ডিটক্স ড্রিঙ্কের উপর নির্ভর না করে সুষম খাবার এবং নিয়মিত শরীরচর্চাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।যাঁদের কোনও শারীরিক সমস্যা রয়েছে বা দীর্ঘদিন ধরে ওজন নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হচ্ছে, তাঁদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ডায়েট তৈরি করাই নিরাপদ।
![]()
তাহলে ডিটক্স ওয়াটার খাবেন কীভাবে?
ডিটক্স ওয়াটার পছন্দ হলে তা সাধারণ পানীয় হিসেবে খেতে পারেন। জলকে সুস্বাদু করার জন্য লেবু, শসা, পুদিনা বা অন্যান্য উপাদান ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এটিকে কোনও ‘ফ্যাট বার্নিং ড্রিঙ্ক’ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সারাদিন পর্যাপ্ত জল পান করা এবং খাবারে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা।
![]()
পুজোর আগে ওজন কমাতে অনেকেই ডিটক্স ওয়াটারের উপর ভরসা করছেন। লেবু, শসা, ফল বা হার্বস মেশানো জলকে অনেকে দ্রুত মেদ ঝরানোর উপায় মনে করেন। কিন্তু শুধু ডিটক্স ওয়াটার খেলেই কি ওজন কমে? পুষ্টিবিদের বক্তব্যে মিলল আসল উত্তর।




