পাঞ্জাবে তীব্র গরম ও হিটওয়েভের সতর্কতার মধ্যে স্কুলগুলোর গ্রীষ্মকালীন ছুটি নিয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। প্রতিবেশী রাজ্য হরিয়ানা ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল চণ্ডীগড়ে ইতোমধ্যেই সামার ভ্যাকেশন ঘোষণা করা হয়েছে।
পাঞ্জাবে তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি এবং তীব্র গরমের পরিস্থিতির মধ্যে রাজ্য সরকার স্কুলগুলোর গ্রীষ্মকালীন ছুটির তারিখ নিয়ে বিবেচনা করছে। আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতা এবং আশপাশের রাজ্যগুলোর সিদ্ধান্তের পর শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে রেখে সামার ভ্যাকেশনের সময়সূচি নিয়ে আলোচনা চলছে।
পাঞ্জাবে বর্তমানে তীব্র গরম ও হিটওয়েভ পরিস্থিতি জনজীবনে প্রভাব ফেলছে। সকাল থেকেই প্রখর রোদ ও গরম হাওয়া শুরু হচ্ছে এবং দুপুরে তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষত স্কুলপড়ুয়া শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়ছে।
আবহাওয়া দপ্তর ২৫ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত উত্তর ভারতের বিভিন্ন অংশে তীব্র গরমের সতর্কতা জারি করেছে। দপ্তরের মতে, আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। এ কারণে বিভিন্ন রাজ্য শিশুদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নির্ধারিত সময়ের আগেই স্কুলে গ্রীষ্মকালীন ছুটি ঘোষণা করেছে।
পাঞ্জাবেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। স্কুল পরিচালনা কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকেরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন, যাতে অতিরিক্ত গরমে শিশুদের স্কুলে যাতায়াতের সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয়।

পাঞ্জাবের প্রতিবেশী রাজ্য হরিয়ানা ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল চণ্ডীগড়ে ইতোমধ্যেই সামার ভ্যাকেশন ঘোষণা করা হয়েছে। চণ্ডীগড় প্রশাসন ২৩ মে ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সব সরকারি ও সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত স্কুলে ছুটি ঘোষণা করেছে।
হরিয়ানা সরকারও নির্ধারিত সময়ের আগেই স্কুল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজ্যে ২৫ মে থেকে গ্রীষ্মকালীন ছুটি কার্যকর করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আবহাওয়া দপ্তরের অরেঞ্জ অ্যালার্ট এবং শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
হরিয়ানা শিক্ষা দপ্তরের মতে, বাড়তে থাকা গরম ও লুর কারণে শিশুদের স্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আগেভাগেই স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পাঞ্জাব সরকারও শিগগিরই সামার ভ্যাকেশন নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করতে পারে। জানা গেছে, রাজ্যে ২৬ মে এমসি নির্বাচন এবং ২৭ মে বকরিদ উপলক্ষে ছুটির কারণে স্কুলের সময়সূচি আগেই প্রভাবিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ২৮ মে থেকে গ্রীষ্মকালীন ছুটি কার্যকর করা হতে পারে বলে সম্ভাবনা প্রকাশ করা হচ্ছে।
তবে এখনো শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি করা হয়নি। প্রশাসনিক পর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতা এবং প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর সিদ্ধান্ত বিবেচনায় পাঞ্জাব সরকার শিগগিরই সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
একাধিক বেসরকারি স্কুল ও অভিভাবক সংগঠনও দ্রুত ছুটি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, ক্রমবর্ধমান গরমের মধ্যে শিশুদের স্কুলে পাঠানো কঠিন হয়ে উঠছে। বর্তমানে রাজ্য সরকারের পরবর্তী ঘোষণার দিকে নজর রয়েছে।











