২৫ হাজার কোটির তাজপুর বন্দরে কাটছে জট? পূর্ব ভারতের বাণিজ্যে বড় বদলের ইঙ্গিত

তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্পে কাটতে পারে দীর্ঘদিনের জট। নতুন সরকারে কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয়ে পূর্ব ভারতের বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আলোচনা, পরিকল্পনা আর জটিলতার পর অবশেষে কি বাস্তবের মুখ দেখতে চলেছে তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দর? রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে ফের চর্চার কেন্দ্রে পূর্ব মেদিনীপুরের এই মেগা বন্দর প্রকল্প। শিল্পমহলের একাংশের মতে, নতুন প্রশাসনিক সমন্বয়ের ফলে বহুদিন আটকে থাকা কাজ এবার দ্রুত এগোতে পারে।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ তাজপুর বন্দর?

তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দর চালু হলে পূর্ব ভারতের সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে বড় জাহাজ সরাসরি কলকাতা বন্দরে ঢুকতে নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ে। তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি হলে বড় কার্গো জাহাজ সরাসরি প্রবেশ করতে পারবে।

এর ফলে আন্তর্জাতিক ট্রান্সশিপমেন্ট হাবের উপর নির্ভরতা কমবে এবং আমদানি-রফতানির খরচও অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরের চাপও কমবে

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন বন্দর চালু হলে কলকাতা বন্দর এবং হলদিয়া বন্দর-এর উপর চাপ অনেকটাই কমবে। ফলে পণ্য পরিবহণ আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য হতে পারে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে শিল্প, রফতানি ও লজিস্টিক ক্ষেত্রেও।

বহুদিনের পুরনো স্বপ্ন

পূর্ব মেদিনীপুরের তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরির পরিকল্পনা প্রথম সামনে আসে প্রায় এক দশকেরও বেশি আগে। উদ্দেশ্য ছিল রাজ্যের সামুদ্রিক পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা এবং কলকাতা ডক ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত চাপ কমানো।শুরুতে প্রকল্পে সহযোগিতার পরিকল্পনা ছিল Syama Prasad Mookerjee Port-এরও।

আদানি থেকে JSW, বদলেছে দরপত্রের ছবি

পরবর্তীতে PPP মডেলে প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। ২০২১ সালে DBFOT কাঠামোয় দরপত্র ডাকা হয় এবং তখন Adani Ports and Special Economic Zone সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল।তবে নানা প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক জটিলতায় প্রকল্প এগোয়নি। পরে আদানি গোষ্ঠী প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ায়। এরপর নতুন দরপত্র ডাকা হলে এবার সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে JSW Infrastructure বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।

নতুন সরকারে বাড়ছে আশাবাদ

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় বাড়বে বলেই আশা করছেন শিল্পমহলের একাংশ। রামনগরের নবনির্বাচিত বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল জানিয়েছেন, বন্দর প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য যৌথভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক জট কাটিয়ে ফের গতি পেতে পারে তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প। প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পূর্ব ভারতের বাণিজ্য, রফতানি ও কর্মসংস্থানে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নতুন সরকার গঠনের পর কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয় বাড়ায় আশাবাদী শিল্পমহলও।

Leave a comment