ছেলেকে হারিয়েও থামেননি বাবা! যে থানায় সন্তানের শেষ ডিউটি, সেখানেই ৬ বছর চাকরি, আবেগঘন বিদায় বর্ধমানে

ছেলের মৃত্যুর পর তাঁর কর্মস্থল আউশগ্রাম থানাতেই সিভিক ভলেন্টিয়ার হিসেবে যোগ দেন বাবা শেখ নুরজামাল হোসেন। ছয় বছর পর আবেগঘন পরিবেশে হল তাঁর বিদায়।

পূর্ব বর্ধমান: একদিকে সন্তান হারানোর গভীর যন্ত্রণা, অন্যদিকে কর্তব্য পালনের অদম্য মানসিকতা। ছেলের মৃত্যুর পর ভেঙে না পড়ে তাঁর কর্মস্থলেই নতুন করে দায়িত্ব নিয়েছিলেন বাবা। প্রায় ছয় বছর পর সেই আউশগ্রাম থানাতেই শেষ হল শেখ নুরজামাল হোসেনের কর্মজীবন। বিদায়ের মুহূর্তে স্মৃতি, শ্রদ্ধা আর আবেগে ভারী হয়ে উঠল থানার পরিবেশ।

ছেলেকে হারিয়েও থামেননি বাবা! যে থানায় সন্তানের শেষ ডিউটি, সেখানেই ৬ বছর চাকরি, আবেগঘন বিদায় বর্ধমানে
ছেলের পথেই শুরু বাবার নতুন কর্মজীবন

পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম থানার সঙ্গে শেখ নুরজামাল হোসেনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তবে এই সম্পর্কের শুরু তাঁর নিজের চাকরি দিয়ে নয়, বরং ছেলে মহম্মদ জাহাঙ্গীর শেখের সূত্রে।জাহাঙ্গীরও আউশগ্রাম থানায় সিভিক ভলেন্টিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু ২০১৬ সালের ২৩ অগস্ট ভেদিয়া এলাকায় কর্তব্যরত অবস্থায় পথ দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। তরুণ ছেলেকে হারিয়ে নুরজামালের পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।

সন্তান হারানোর শোক সামলাতে পারেননি মা-ও

জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর ধাক্কা তাঁর মা-ও সামলে উঠতে পারেননি। দীর্ঘদিন মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে থাকার পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁরও মৃত্যু হয়। পরপর স্ত্রী ও সন্তানকে হারিয়ে কার্যত একাই হয়ে পড়েন নুরজামাল।তবে এত বড় ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের পরও জীবন ও দায়িত্বের পথ থেকে সরে যাননি তিনি।

ছেলেকে হারিয়েও থামেননি বাবা! যে থানায় সন্তানের শেষ ডিউটি, সেখানেই ৬ বছর চাকরি, আবেগঘন বিদায় বর্ধমানে
২০২১ সালে একই থানায় কাজে যোগ দেন বাবা

২০২১ সালে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে মৃত সিভিক ভলেন্টিয়ার মহম্মদ জাহাঙ্গীর শেখের বাবা শেখ নুরজামাল হোসেনকে সিভিক ভলেন্টিয়ার হিসেবে নিয়োগ করা হয়।সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় ছিল, যে আউশগ্রাম থানায় একসময় তাঁর ছেলে দায়িত্ব পালন করতেন, সেই থানাতেই বাবার কর্মজীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। সন্তানের স্মৃতি বুকে নিয়েই প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

ছয় বছর পর এল বিদায়ের দিন

দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর দায়িত্ব পালনের পর গত ১৬ অগস্ট নুরজামাল হোসেনের কর্মজীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়। তাঁকে বিদায় জানাতে আউশগ্রাম থানার পক্ষ থেকে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল।পুলিশ আধিকারিক ও সহকর্মীরা তাঁর কাজের প্রশংসা করেন এবং দীর্ঘদিনের সহকর্মীকে সম্মানের সঙ্গে বিদায় জানান। সেই মুহূর্তে স্বাভাবিকভাবেই আবেগঘন হয়ে ওঠে গোটা পরিবেশ।

ছেলেকে হারিয়েও থামেননি বাবা! যে থানায় সন্তানের শেষ ডিউটি, সেখানেই ৬ বছর চাকরি, আবেগঘন বিদায় বর্ধমানে
ছেলের স্মৃতির থানাতেই শেষ হল পথচলা

একসময় যে থানায় ছেলে কর্তব্য পালন করতেন, ছয় বছর পর সেই একই থানার সহকর্মীদের কাছ থেকেই বিদায় নিলেন বাবা। তাঁর এই কর্মজীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ব্যক্তিগত শোক, সন্তানের স্মৃতি এবং দায়িত্ব পালনের এক অসাধারণ অধ্যায়।

ছেলেকে হারিয়েও থামেননি বাবা! যে থানায় সন্তানের শেষ ডিউটি, সেখানেই ৬ বছর চাকরি, আবেগঘন বিদায় বর্ধমানে
ছেলের মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতিকে বুকে নিয়েই সেই আউশগ্রাম থানায় সিভিক ভলেন্টিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন বাবা শেখ নুরজামাল হোসেন। প্রায় ছয় বছর দায়িত্ব পালনের পর ১৬ অগস্ট কর্মজীবনের শেষ দিনে তাঁকে আবেগঘন বিদায় জানালেন পুলিশ আধিকারিক ও সহকর্মীরা।

Leave a comment