পোস্ট অফিসের এই কৌশল জানলে একসঙ্গে টাকা আটকে রাখতে হবে না! ‘ডিপোজিট ল্যাডারিং’-এ মিলবে রিটার্নের সঙ্গে টাকার জোগান

Post Office Scheme-এ ডিপোজিট ল্যাডারিং কী? একসঙ্গে পুরো টাকা না রেখে বিভিন্ন মেয়াদের টাইম ডিপোজিটে ভাগ করে বিনিয়োগের সুবিধা ও নিয়ম জেনে নিন।

Post Office Scheme: নিরাপদ বিনিয়োগের জন্য পোস্ট অফিসের টাইম ডিপোজিট অনেকেরই পছন্দ। কিন্তু একসঙ্গে বড় অঙ্কের টাকা দীর্ঘ মেয়াদের জন্য জমা রাখলে হঠাৎ প্রয়োজনের সময় সমস্যা হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে কাজে আসতে পারে ডিপোজিট ল্যাডারিং কৌশল। সহজভাবে বললে, পুরো টাকা একটি ডিপোজিটে না রেখে বিভিন্ন মেয়াদের একাধিক ডিপোজিটে ভাগ করে রাখা। এতে সঞ্চয়ের পাশাপাশি তারল্যও বজায় রাখার সুযোগ থাকে।

পোস্ট অফিসের এই কৌশল জানলে একসঙ্গে টাকা আটকে রাখতে হবে না! ‘ডিপোজিট ল্যাডারিং’-এ মিলবে রিটার্নের সঙ্গে টাকার জোগান
কী এই ডিপোজিট ল্যাডারিং?

ডিপোজিট ল্যাডারিং হল এমন একটি বিনিয়োগ কৌশল, যেখানে পুরো সঞ্চয় একটি মাত্র টাইম ডিপোজিটে না রেখে কয়েকটি ছোট ডিপোজিটে ভাগ করা হয়। প্রতিটি ডিপোজিটের মেয়াদ আলাদা হতে পারে।ফলে সব টাকা একই সময়ে আটকে থাকে না। নির্দিষ্ট সময় অন্তর কোনও না কোনও ডিপোজিট ম্যাচিওর হওয়ার সুযোগ থাকে।

৫ লক্ষ টাকা থাকলে কীভাবে করবেন?

ধরা যাক, আপনার হাতে রয়েছে ৫ লক্ষ টাকা। পুরো অর্থ একসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ডিপোজিটে রাখার পরিবর্তে ১ লক্ষ টাকা করে কয়েকটি আলাদা ডিপোজিটে ভাগ করতে পারেন।উদাহরণ হিসেবে বিভিন্ন মেয়াদের ডিপোজিট তৈরি করা যেতে পারে। এতে একটি ডিপোজিট এক বছর পরে, অন্যটি আরও পরে ম্যাচিওর করার মতো পরিকল্পনা করা সম্ভব। তবে কোন মেয়াদে কত টাকা রাখবেন, তা নিজের আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী ঠিক করা উচিত।

পোস্ট অফিসের এই কৌশল জানলে একসঙ্গে টাকা আটকে রাখতে হবে না! ‘ডিপোজিট ল্যাডারিং’-এ মিলবে রিটার্নের সঙ্গে টাকার জোগান
ম্যাচিওর হলে টাকা ফের বিনিয়োগের সুযোগ

ল্যাডারিংয়ের অন্যতম সুবিধা হল, কোনও একটি ডিপোজিট ম্যাচিওর করার পর পুরো অর্থ ফের বিনিয়োগ করতেই হবে এমন নয়।টাকার প্রয়োজন থাকলে সেই অর্থ ব্যবহার করা যায়। আবার প্রয়োজন না থাকলে নতুন মেয়াদের জন্য ফের বিনিয়োগ করা যেতে পারে। এইভাবে ধাপে ধাপে বিনিয়োগের কাঠামো চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।

হঠাৎ টাকার প্রয়োজন হলে সুবিধা

ধরা যাক, কয়েক বছর পর বাড়ির মেরামতি, সন্তানের পড়াশোনা কিংবা অন্য কোনও বড় খরচের জন্য অর্থের প্রয়োজন হল। তখন একটি বড় দীর্ঘমেয়াদি ডিপোজিট ভাঙার বদলে কাছাকাছি সময়ে ম্যাচিওর হতে চলা ডিপোজিটের টাকা ব্যবহার করার সুযোগ থাকতে পারে।এর ফলে প্রয়োজনের সময় পুরো বিনিয়োগ ভেঙে ফেলার পরিস্থিতি এড়ানো যেতে পারে। তবে আগাম টাকা তোলার ক্ষেত্রে পোস্ট অফিসের নির্দিষ্ট নিয়ম ও সুদের শর্ত অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

এই কৌশলের বড় সুবিধা কী?

ডিপোজিট ল্যাডারিংয়ের মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র বেশি সুদ পাওয়া নয়। বরং সঞ্চয়ের নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রয়োজনের সময় টাকার জোগান বজায় রাখা।এছাড়াও নির্দিষ্ট ভবিষ্যৎ খরচের কথা মাথায় রেখে ম্যাচিওরিটির সময় পরিকল্পনা করা যায়। যেমন গাড়ি কেনা, পড়াশোনার খরচ, বাড়ির সংস্কার বা অন্য কোনও বড় আর্থিক লক্ষ্য।

পোস্ট অফিসের এই কৌশল জানলে একসঙ্গে টাকা আটকে রাখতে হবে না! ‘ডিপোজিট ল্যাডারিং’-এ মিলবে রিটার্নের সঙ্গে টাকার জোগান
তবে রয়েছে কিছু সীমাবদ্ধতাও

ল্যাডারিং করলেই যে সর্বোচ্চ রিটার্ন পাওয়া যাবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়লে আগে খোলা ডিপোজিট তুলনামূলক কম সুদে আটকে থাকতে পারে। আবার সুদের হার কমে গেলে আগে থেকে নির্ধারিত তুলনামূলক বেশি হারের সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।অর্থাৎ, এই কৌশলের প্রধান লক্ষ্য হল তারল্য বা liquidity বজায় রাখা, সর্বোচ্চ সুদ নিশ্চিত করা নয়।

প্রি-ম্যাচিওর ডিপোজিটের নিয়মও গুরুত্বপূর্ণ

পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিট সময়ের আগে বন্ধ করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। তাই শুধুমাত্র জরুরি প্রয়োজনের কথা ভেবে ডিপোজিট ভেঙে ফেলার বদলে আগে থেকে মেয়াদ ভাগ করে পরিকল্পনা করা সুবিধাজনক হতে পারে।তবে বিনিয়োগের আগে বর্তমান প্রি-ম্যাচিওর উইথড্রয়াল নিয়ম এবং প্রযোজ্য সুদের হার অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

কার জন্য এই কৌশল বেশি কাজে আসতে পারে?

অবসরপ্রাপ্ত ও প্রবীণ নাগরিক: নিয়মিত ব্যবধানে খরচের প্রয়োজন হলে বিভিন্ন সময়ে ম্যাচিওর হওয়া ডিপোজিট সুবিধা দিতে পারে।ঝুঁকি এড়াতে চান এমন বিনিয়োগকারী: শেয়ারবাজারের ওঠানামার বদলে তুলনামূলক স্থির সঞ্চয় ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিলে এই পদ্ধতি বিবেচনা করা যায়।স্বল্প ও মাঝারি মেয়াদের লক্ষ্য রয়েছে যাঁদের: আগামী ১-৫ বছরের মধ্যে বড় খরচের পরিকল্পনা থাকলে মেয়াদ অনুযায়ী ডিপোজিট সাজানো যেতে পারে।

পোস্ট অফিসের এই কৌশল জানলে একসঙ্গে টাকা আটকে রাখতে হবে না! ‘ডিপোজিট ল্যাডারিং’-এ মিলবে রিটার্নের সঙ্গে টাকার জোগান
পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিটে একবারে পুরো সঞ্চয় দীর্ঘ সময়ের জন্য আটকে না রেখে কয়েকটি ভাগে বিনিয়োগ করা যায়। এই পদ্ধতিকে বলা হয় ডিপোজিট ল্যাডারিং। এতে আলাদা আলাদা সময়ে ডিপোজিট ম্যাচিওর হওয়ায় প্রয়োজনের সময় হাতে টাকা পাওয়ার সুযোগ থাকে।

Leave a comment