লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী GenZ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে লক্ষ্য করে সমালোচনা করেছেন। বুধবার অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করা হয়েছে, যদিও তারা কোনো ধরনের সহিংসতায় জড়িত ছিল না। শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, যুবসমাজের কণ্ঠস্বর দমন না করে তাদের সমস্যার সমাধান করা উচিত।
সাংবাদিক সম্মেলনে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দিল্লির জন্তর মন্তর এবং মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী ও যুবকও উপস্থিত ছিলেন। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সাহস দেখানোর জন্য তিনি তাদের প্রশংসা করেন।
রাহুল গান্ধী বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া বহু শিক্ষার্থী ও যুব বিক্ষোভকারীর সঙ্গে তিনি বিস্তারিত কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, শিক্ষার্থীরা তাঁকে জানিয়েছেন যে বিক্ষোভ চলাকালে তাদের মারধর করা হয়েছে, হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি উত্থাপনকারী সব তরুণের জন্য তিনি গর্বিত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে এমন হাজারো যুবক-যুবতী রয়েছেন, যারা উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছ পরীক্ষা পদ্ধতির দাবি জানাচ্ছেন।
রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কোনো অপরাধ নয়। তাঁর মতে, কোনো ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকলে, তা যদি ধারাবাহিকভাবে বিতর্কের মধ্যে থাকে বা শিক্ষার্থীদের আস্থা হারায়, তবে সেই ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবি তোলা গণতান্ত্রিক অধিকার।
তিনি বলেন, যুবসমাজের দাবি হলো পরীক্ষা ব্যবস্থা যেন নিরপেক্ষ হয়, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা বন্ধ হয় এবং যোগ্য প্রার্থীরা সমান সুযোগ পান। তাঁর মতে, দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
সাংবাদিক সম্মেলনে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কঠোর আচরণ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, শিক্ষার্থীরা সহিংস বা আক্রমণাত্মক ছিলেন না, তবুও তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, কিছু বিক্ষোভকারীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং নারী বিক্ষোভকারীদের পরিবারের ওপরও চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া, এক নাবালিকা শিক্ষার্থীকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার মতো ঘটনাও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থীরা সংবিধান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার জন্য নিজেদের কণ্ঠস্বর তুলেছেন। তাঁর মতে, গণতন্ত্রে নাগরিকদের, বিশেষ করে যুবসমাজের, নিজেদের সমস্যা তুলে ধরা এবং সরকারের কাছে জবাব চাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
তিনি বলেন, যদি যুবসমাজ শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার ও স্বচ্ছতার দাবি তোলে, তবে তাদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনা উচিত। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংলাপ ও সংস্কারই সর্বোত্তম সমাধান।
দেশে ধারাবাহিকভাবে সামনে আসা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাগুলো নিয়েও রাহুল গান্ধী উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান, পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করা হোক, যাতে শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা যায়। তাঁর মতে, শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা ও প্রযুক্তিগত সংস্কার সময়ের দাবি।
রাহুল গান্ধী বলেন, যুবসমাজ যে কোনো দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সম্মান করা এবং তাদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন, যা মেধাকে উৎসাহিত করবে, সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে এবং যুবসমাজকে নিরপেক্ষ প্রতিযোগিতার প্রতি আস্থা দেবে।
GenZ-সম্পর্কিত বিষয়গুলো সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় রাজনীতি ও জনপরিসরের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কর্মসংস্থান, পরীক্ষা ব্যবস্থা, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা সংস্কারের মতো বিষয়গুলোতে যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে রাহুল গান্ধীর বক্তব্যকে বিরোধী পক্ষের তরফে শিক্ষার্থীদের সমর্থন এবং শিক্ষা সংস্কারের বিষয়টিকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে আনার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং অনিয়ম রোধে একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আগামী সময়েও শিক্ষা সংস্কার এবং যুবসমাজ-সম্পর্কিত বিষয়গুলো রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকতে পারে।






