দিল্লির বেলা এস্টেটে SIR নিয়ে রাহুলের দাবি, ৭২৮ জনের মধ্যে ৭২৭ নাম ভোটার তালিকায় নেই

দিল্লির বেলা এস্টেটে SIR-এর পর ৭২৮ জনের মধ্যে ৭২৭ জনের নাম ভোটার তালিকায় নেই বলে দাবি রাহুল গান্ধীর। ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত দাবি-আপত্তি, ৪ ডিসেম্বর প্রকাশ হবে চূড়ান্ত তালিকা।

কংগ্রেস নেতা এবং লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সোমবার দিল্লির যমুনা তীরবর্তী বেলা এস্টেটের ঝুপড়ি এলাকায় যান। সেখানে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা বা Special Intensive Revision (SIR) নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাহুল গান্ধীর দাবি, বস্তিতে বসবাসকারী ৭২৮ জনের মধ্যে SIR-এর পর মাত্র একজনের নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে এবং ৭২৭টি নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

রাহুল গান্ধী এই বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওতে তাঁকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলতে এবং ফোনে এক SDM-এর সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বস্তির বহু বাসিন্দা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করছেন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন ও ২০২৫ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন।

রাহুল গান্ধীর দাবি অনুযায়ী, বেলা এস্টেটে ৭২৮ জন বাস করেন এবং SIR-এর পর ভোটার তালিকায় মাত্র একটি নাম দেখা যাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মানুষ যদি এলাকায় উপস্থিত থাকেন এবং আগের নির্বাচনে ভোট দিয়ে থাকেন, তাহলে এত বড় সংখ্যায় নাম ভোটার তালিকা থেকে কীভাবে বাদ পড়ল।

তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালে বস্তির বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেখানে বসবাসকারী মানুষজন এলাকা ছেড়ে যাননি। নিজের শেয়ার করা ভিডিওতে রাহুল গান্ধী এই পরিস্থিতির ভিত্তিতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এই দাবিগুলি বর্তমানে রাহুল গান্ধীর অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। খসড়া তালিকায় কোনও ভোটারের নাম না থাকা নিজে থেকেই স্থায়ীভাবে ভোটাধিকার হারানোর অর্থ নয়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নোটিস পাওয়া মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাম বাদ পড়া নয় এবং যোগ্য ভোটারদের নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

বস্তিতে মানুষের সঙ্গে বসে রাহুল গান্ধী সংশ্লিষ্ট SDM-কে ফোন করেন। কথোপকথনের সময় তিনি আধিকারিকদের কাছে জানতে চান, আবাসনের পরিস্থিতির সঙ্গে ভোটাধিকার কীভাবে সম্পর্কিত।

রাহুল গান্ধী ‘হাউস নম্বর ০’-এর কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মতে, গৃহহীন মানুষের জন্য এই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। তাই শুধুমাত্র বাড়ি বা নিয়মিত আবাসনের পরিস্থিতির ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত নয় বলে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

কথোপকথনের সময় রাহুল গান্ধী ওই আধিকারিকের নাম এবং পদও জানতে চান। তাঁর শেয়ার করা ভিডিওতে কথোপকথনের একটি অংশ রেকর্ড হয়েছে।

দিল্লিতে SIR-এর আওতায় ৩১ আগস্ট ২০২৬ খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। উপলব্ধ রিপোর্ট অনুযায়ী, আগের তালিকার তুলনায় প্রায় ৪৭.৫ লক্ষ নাম খসড়া তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। প্রায় ৯৭ লক্ষ ভোটারের নাম খসড়া তালিকায় রয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩৩.১ লক্ষ ভোটারকে তাঁদের যোগ্যতা বা রেকর্ড সংক্রান্ত নোটিস দেওয়া হয়েছে।

এই সংখ্যাগুলিকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকার পরিসংখ্যান হিসেবে বিবেচনা করা যায় না, কারণ SIR-এর প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। যেসব ভোটারের নাম খসড়া তালিকায় নেই অথবা যাঁরা নোটিস পেয়েছেন, তাঁদের দাবি ও আপত্তি দাখিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, নোটিস জারি হওয়া নিজে থেকেই কোনও ভোটারের নাম চূড়ান্তভাবে বাদ পড়ার প্রমাণ নয়। যোগ্য ভোটারদের নথি এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

দিল্লিতে SIR প্রক্রিয়ায় দাবি ও আপত্তি দাখিলের শেষ তারিখ এখন ৩০ অক্টোবর ২০২৬ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সময়সীমা এক মাস বাড়িয়েছে।

নোটিস, দাবি ও আপত্তি নিষ্পত্তির সময়সীমাও ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এরপর দিল্লির চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ৪ ডিসেম্বর ২০২৬ প্রকাশ করা হবে।

এই পরিবর্তনের ফলে যেসব ভোটারের নাম খসড়া তালিকায় নেই অথবা যাঁদের রেকর্ড নিয়ে নির্বাচন আধিকারিকরা ব্যাখ্যা চেয়েছেন, তাঁরা অতিরিক্ত সময় পাবেন।

দিল্লিতে নির্বাচন আধিকারিকরা SIR চলাকালীন আরও একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। রেকর্ড সংক্রান্ত অসঙ্গতির কারণে যেসব ভোটারকে নোটিস দেওয়া হয়েছে, তাঁদের বাড়িতে গিয়ে বুথ-লেভেল অফিসাররা নথি সংগ্রহ করবেন।

এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য ভোটারের যোগ্যতা এবং রেকর্ড সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা। দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের মতে, SIR-এর উদ্দেশ্য যোগ্য ভোটারদের তালিকায় রাখা এবং অযোগ্য বা ভুল এন্ট্রি শনাক্ত করা।

নির্বাচন কমিশনের মতে, কোনও যোগ্য ব্যক্তির নাম SIR-এর খসড়া ভোটার তালিকায় না থাকলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আবেদন করা যায়।

দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, খসড়া তালিকায় নাম না পাওয়া যোগ্য ভোটাররা Form-6-এর মাধ্যমে নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাতে পারেন। ভোটাররা EPIC নম্বর, নাম অথবা মোবাইল নম্বরের মাধ্যমেও নিজেদের নাম খুঁজে দেখতে পারেন।

যুবক এবং প্রথমবার ভোট দিতে চলা যোগ্য নাগরিকরাও ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার জন্য আবেদন করতে পারেন। দিল্লির বেলা এস্টেটের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য ভোটাররা Form-6-এর মাধ্যমে পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করতে পারবেন।

SIR শুধুমাত্র দিল্লিতে সীমাবদ্ধ কোনও প্রক্রিয়া নয়। নির্বাচন কমিশন দেশের বিভিন্ন রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা শুরু করেছে।

কমিশনের মতে, SIR-এর উদ্দেশ্য ভোটার তালিকা যাচাই এবং তা হালনাগাদ করা। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেশে ৯৬.৮৮ কোটির বেশি নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন।

বর্তমান SIR প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলগুলি বড় সংখ্যায় নাম বাদ পড়া এবং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, প্রক্রিয়ায় যোগ্য ভোটারদের দাবি পেশ এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, দিল্লি SIR-এর খসড়া তালিকা প্রকাশ এবং দাবি-আপত্তির পরবর্তী প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এগোচ্ছে।

বেলা এস্টেটের ঘটনা এমন সময় সামনে এসেছে যখন দিল্লিতে SIR-এর প্রক্রিয়া এখনও চলছে। রাহুল গান্ধী ৭২৭টি নাম বাদ পড়ার দাবি তুলে নির্বাচন কমিশন এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন খসড়া তালিকাকে চূড়ান্ত তালিকা হিসেবে বিবেচনা করছে না এবং দাবি ও আপত্তি জানানোর সময়সীমা বাড়িয়েছে।

এখন ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত দাবি ও আপত্তি দাখিল করা যাবে এবং ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সেগুলি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া চলবে। এরপর ৪ ডিসেম্বর ২০২৬ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ফলে বেলা এস্টেট-সহ দিল্লির যেসব ভোটারের নাম বর্তমান খসড়া তালিকায় নেই, তাঁদের অবস্থাও চূড়ান্ত তালিকায় স্পষ্ট হবে।

 

Leave a comment