NEET পুনঃপরীক্ষায় নাগপুরের শিক্ষার্থীকে আবুধাবি কেন্দ্র বরাদ্দ, তদন্ত শুরু NTA-র

NEET পুনঃপরীক্ষার জন্য নাগপুরের এক শিক্ষার্থীকে আবুধাবি পরীক্ষাকেন্দ্র বরাদ্দ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাহুল গান্ধী বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। NTA জানিয়েছে, অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে এবং শিক্ষার্থীকে নাগপুরে নতুন পরীক্ষাকেন্দ্র বরাদ্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।

নাগপুরের এক শিক্ষার্থীকে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) পরিচালিত NEET পুনঃপরীক্ষার জন্য পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি বরাদ্দ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের দাবি, তাদের কাছে পাসপোর্ট নেই এবং বিদেশে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্যও নেই। ফলে তিনি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম X-এ লিখেছেন যে, এক শিক্ষার্থী এক মাস ধরে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার পর শেষ মুহূর্তে তাকে আবুধাবি পরীক্ষাকেন্দ্র বরাদ্দ করা হয়। রাহুল গান্ধীর মতে, শিক্ষার্থীর কাছে পাসপোর্ট ছিল না, তার পরিবারের বিদেশ যাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থও ছিল না এবং পরীক্ষার আগে সময়ও খুব কম ছিল। তিনি দাবি করেন, এর ফলে শিক্ষার্থী মানসিক চাপে পড়ে পরীক্ষায় না বসার সিদ্ধান্ত নেয়।

রাহুল গান্ধী ঘটনাটিকে পরীক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুতর ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, এ ধরনের ভুল কীভাবে ঘটতে পারে।

শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য ক্রমশ মানসিক চাপের কারণ হয়ে উঠছে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের ধৈর্য, সময় ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি আরও বলেন, কোনো পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা সময়মতো সঠিক ও বাস্তবসম্মত পরীক্ষাকেন্দ্র না পেলে তা পুরো ব্যবস্থার জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

ঘটনাটি নিয়ে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সিও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগটিকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শুরু করা হয়েছে। NTA জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক স্তরে পর্যালোচনা চলছে। সংস্থার মতে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষার্থীকে নাগপুরে নতুন পরীক্ষাকেন্দ্র বরাদ্দ করা হবে। NTA আরও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এটি সম্ভবত সিস্টেমজনিত ত্রুটি বা ডেটা প্রক্রিয়াকরণের ভুলের ঘটনা হতে পারে।

NEET-এর মতো জাতীয় স্তরের মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত। এ ধরনের পরীক্ষায় কেন্দ্র বরাদ্দে যেকোনো ভুল গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরীক্ষাকেন্দ্র বরাদ্দ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করা প্রয়োজন। তাদের মতে, শেষ মুহূর্তের পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে এবং ডিজিটাল ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত ত্রুটি প্রতিরোধে আরও শক্তিশালী ব্যাকআপ ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, পরীক্ষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এ ধরনের ভুল আস্থাকে দুর্বল করে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্ষেত্রে আকস্মিক পরিবর্তন অতিরিক্ত সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে, কারণ তাদের পক্ষে হঠাৎ ভ্রমণ বা অতিরিক্ত ব্যয় বহন করা সবসময় সম্ভব হয় না।

 

Leave a comment