রাজস্থান পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রথম দফায় আজ থেকে মনোনয়ন শুরু

রাজস্থান পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রথম দফায় আজ সকাল ১১টা থেকে ১৬টি জেলা পরিষদ ও ১০৪টি পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য পদে মনোনয়ন শুরু হচ্ছে। মনোনয়নের শেষ তারিখ ১৩ অক্টোবর।

রাজস্থানে পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রথম দফার জন্য আজ সকাল ১১টা থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এই দফায় ১৬টি জেলার জেলা পরিষদ এবং ১০৪টি পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য পদে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ অক্টোবর।

প্রথম দফায় জেলা পরিষদ সদস্য এবং পঞ্চায়েত সমিতি সদস্য পদে প্রার্থীদের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র নেওয়া হবে। জেলা পরিষদ সদস্যদের মনোনয়ন সংশ্লিষ্ট জেলা পর্যায়ে জমা দিতে হবে। পঞ্চায়েত সমিতি সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রার্থীরা মহকুমা পর্যায়ে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।

মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের নির্ধারিত নিয়ম ও সময়সীমার মধ্যে নথিপত্র জমা দিতে হবে। নির্বাচন কর্মকর্তারা নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী মনোনয়নপত্র যাচাই এবং পরবর্তী নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।

প্রথম দফায় মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৩ অক্টোবর। এরপর নির্বাচন কমিশনের কর্মসূচি অনুযায়ী মনোনয়নপত্র যাচাই, মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতি সদস্যদের নির্বাচনের পাশাপাশি গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরেও নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগোবে। পঞ্চ ও সরপঞ্চ পদে প্রথম দফার মনোনয়ন ২৩ অক্টোবর থেকে শুরু হবে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে পঞ্চ ও সরপঞ্চ নির্বাচন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি ৮ অক্টোবর জারি করা হবে। এরপর গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সরপঞ্চ ও ওয়ার্ড পঞ্চের নির্বাচন সরাসরি গ্রামীণ ভোটারদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এই পদগুলির জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাজস্থানে পঞ্চায়েত নির্বাচন কর্মসূচি ঘোষণার সঙ্গে গ্রামীণ এলাকায় আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয়েছে। এর ফলে সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপরও এর প্রভাব পড়েছে।

আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পর বদলি-সহ একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর বিধিনিষেধ থাকবে। মন্ত্রী ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের সরকারি সম্পদ ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত কর্মকাণ্ডেও নির্বাচন কমিশনের নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

নির্বাচনী সময়কালে মন্ত্রীরা তাঁদের নির্বাচনী বা সংশ্লিষ্ট এলাকায় সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন না। সরকারি গেস্ট হাউস এবং ডাক বাংলোতে থাকার ক্ষেত্রেও নির্ধারিত নির্বাচনী নিয়ম মেনে চলতে হবে।

নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সরকারি সম্পদের ব্যবহার যাতে কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক পক্ষকে অন্যায্য সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে না হয়, তা নিশ্চিত করতে এসব বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।

আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পর রাজ্য সরকার এমন নতুন প্রকল্প বা কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারবে না, যার মাধ্যমে ভোটারদের ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে।

তবে আগে অনুমোদিত এবং চলমান উন্নয়নমূলক কাজ নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে। একইভাবে, যেসব প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে, সেগুলিকে শুধুমাত্র আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার কারণে বন্ধ করা বাধ্যতামূলক হবে না।

নির্বাচনী সময়কালে সরকার বা কোনো সরকারি সংস্থা এমন কোনো ঘোষণা করতে পারবে না, যা ভোটারদের প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালে সরকারি প্রশাসন ও সম্পদের ব্যবহারের ওপর নজর রাখবে।

রাজস্থানের পঞ্চায়েত নির্বাচন বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে রাজ্যে প্রায় ১.৬৯ লাখ নতুন পঞ্চায়েত জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।

গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে জেলা পরিষদ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে প্রতিনিধিদের নির্বাচন করা হবে। গ্রামীণ প্রশাসনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা স্থানীয় উন্নয়ন, মৌলিক পরিষেবা এবং গ্রামীণ স্তরের প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত সিদ্ধান্তে অংশ নেবেন।

এত বিপুল সংখ্যক প্রতিনিধির নির্বাচনের কারণে রাজস্থানের গ্রামীণ এলাকায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিস্তৃত প্রভাব পড়বে। রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি স্থানীয় স্তরে সক্রিয় বিভিন্ন গোষ্ঠী এবং নির্দল প্রার্থীরাও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রাজস্থানের পঞ্চায়েত নির্বাচনে মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। এর ফলে এবারও বিপুল সংখ্যক মহিলা স্থানীয় শাসন ব্যবস্থার অংশ হবেন।

উপলব্ধ নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১.৬৯ লাখ পঞ্চায়েত প্রতিনিধির মধ্যে প্রায় অর্ধেক পদে মহিলারা নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৪,৪০৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রায় ৭,২০০ জন মহিলা সরপঞ্চ নির্বাচিত হবেন, আর প্রায় ৬৫ হাজার মহিলা ওয়ার্ড পঞ্চ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পঞ্চায়েত সমিতি স্তরেও মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। রাজ্যে মোট ৪৫৭টি প্রধান পদ রয়েছে, যার মধ্যে ২২১টি পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত।

স্থানীয় সংস্থায় মহিলাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং গ্রামীণ শাসন ব্যবস্থায় তাঁদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোই সংরক্ষণের উদ্দেশ্য। বৃহৎ গ্রামীণ জনসংখ্যার রাজ্য রাজস্থানে পঞ্চায়েত প্রতিষ্ঠানগুলি স্থানীয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মহিলা সরপঞ্চ, ওয়ার্ড পঞ্চ এবং পঞ্চায়েত সমিতির প্রতিনিধির সংখ্যা বাড়ার ফলে গ্রামীণ উন্নয়ন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে মহিলাদের অংশগ্রহণও বাড়তে পারে। তবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বাস্তব ভূমিকা তাঁদের ক্ষমতা, প্রশাসনিক সহযোগিতা এবং স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

মনোনয়ন শুরু হওয়ার সঙ্গে গ্রামীণ রাজস্থানে নির্বাচনী তৎপরতা আরও বাড়বে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ বোঝার চেষ্টা করছেন।

জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতির নির্বাচন গ্রামীণ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে স্থানীয় উন্নয়ন ও প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক সিদ্ধান্তে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা থাকে।

এখন মনোনয়ন প্রক্রিয়া, প্রার্থীদের তালিকা এবং পরবর্তী নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিকে নজর থাকবে। ১৩ অক্টোবর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নির্বাচনী চিত্র আরও স্পষ্ট হবে। এরপর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সঙ্গে গ্রামীণ রাজস্থানে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরবর্তী পর্যায় সামনে আসবে।

Leave a comment