বিজয় দেবেরকোন্ডা ও রশ্মিকা মান্দানার প্রধান ভূমিকায় তেলুগু পিরিয়ড ড্রামা ছবি ‘রণবালি’র ট্রেলার মুক্তি পেয়েছে। ব্রিটিশ শাসনকালে ভারতীয়দের ওপর অত্যাচার, সাধারণ মানুষের সংগ্রাম এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের চিত্র উঠে এসেছে প্রায় চার মিনিটের এই ট্রেলারে।
ছবিতে বিজয় দেবেরকোন্ডাকে রণবালি চরিত্রে দেখা যাবে। ব্রিটিশ শাসকদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এই চরিত্র। অন্যদিকে, রশ্মিকা মান্দানা অভিনয় করছেন জয়াম্মার ভূমিকায়। বিয়ের পর এই প্রথম ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করছেন দুই তারকা।
‘রণবালি’র ট্রেলারে ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতের সামাজিক ও অর্থনৈতিক শোষণের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ট্রেলারে দেখা যায়, ব্রিটিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভারতীয়দের সঙ্গে কঠোর আচরণ করছেন। পরিশ্রম করা এবং দাসত্ব সহ্য করার পরও সাধারণ মানুষ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকেন। ক্রমাগত অত্যাচারের ফলে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে, যা ধীরে ধীরে বিদ্রোহের রূপ নেয়।
ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র রণবালি। প্রথমদিকে প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করতে দেখা যায় তাকে। পরে ব্রিটিশ শাসকদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হয় সে। অত্যাচার সীমা ছাড়িয়ে গেলে বিদ্রোহের পথ বেছে নেয় রণবালি এবং ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে নামার জন্য প্রস্তুত হয়।
ট্রেলারের শেষদিকে ব্রিটিশ শাসক ও ভারতীয়দের মধ্যে সংঘর্ষের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। অ্যাকশন, আবেগ এবং প্রতিরোধের বিভিন্ন মুহূর্ত ছবির কাহিনির মূল দিকগুলি তুলে ধরে।

ছবিতে বিজয় দেবেরকোন্ডাকে রণবালি চরিত্রে দেখা যাবে। ট্রেলারে তাঁর চরিত্রের রাগ, সাহস এবং প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে। ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া লড়াই কীভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বৃহত্তর প্রতিরোধে পরিণত হয়, তার ইঙ্গিতও মিলেছে ট্রেলারে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি ছবিতে ক্ষমতা, শোষণ এবং প্রতিরোধের বিষয়গুলিও তুলে ধরা হয়েছে। রণবালির সংগ্রাম কীভাবে এগোবে এবং সে কীভাবে ব্রিটিশ শাসকদের চ্যালেঞ্জ জানাবে, তা ছবির কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
‘রণবালি’তে রশ্মিকা মান্দানা জয়াম্মার চরিত্রে অভিনয় করছেন। এর আগে বিজয় দেবেরকোন্ডা ও রশ্মিকা মান্দানাকে ‘গীতা গোবিন্দম’ এবং ‘ডিয়ার কমরেড’-এর মতো ছবিতে একসঙ্গে দেখা গিয়েছে।
এবার ‘রণবালি’র মাধ্যমে ফের পর্দায় একসঙ্গে হাজির হচ্ছেন দুই অভিনেতা। তবে এই ছবির কাহিনির কেন্দ্রে রয়েছে রোম্যান্সের পরিবর্তে ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রসূত সংঘর্ষ ও বিদ্রোহ। গল্পের গতিপথে জয়াম্মার চরিত্র কী ভূমিকা পালন করবে, তা জানতে ছবির মুক্তি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
‘রণবালি’ পরিচালনা করেছেন রাহুল সাংকৃত্যায়ন। ছবির কাহিনি রায়লসীমা অঞ্চলের সিঙ্গানামালা নামে একটি কাল্পনিক গ্রামকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। গ্রামীণ পরিবেশ, ব্রিটিশ শাসনকাল এবং স্থানীয় মানুষের পরিস্থিতি ছবির কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পিরিয়ড ড্রামা হিসেবে ছবিতে তৎকালীন সামাজিক পরিবেশ এবং ক্ষমতার প্রভাব তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। ট্রেলারে দেখানো ঘটনাগুলি ছবির সংঘাতপূর্ণ কাহিনির আভাস দেয়। তবে কাহিনির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক এবং চরিত্রগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ছবির মুক্তি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
বিজয় দেবেরকোন্ডা ও রশ্মিকা মান্দানার ছবি ‘রণবালি’ ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।








