Reginagar By-Election: বাবার হাত ধরে বিজেপিতে, আরএসএসের হাতেখড়ি! হুমায়ুনের রেজিনগর দখলে শাখারভ সরকারের উপর ভরসা পদ্মের

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী শাখারভ সরকার। বাবার হাত ধরে বিজেপিতে যোগ, আরএসএসের সঙ্গে দীর্ঘ যোগাযোগ ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার ভোটের ময়দানে।

মুর্শিদাবাদ: রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে শেষ পর্যন্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল বিজেপি। দলের দীর্ঘদিনের সংগঠক তথা রাজ্য সম্পাদক শাখারভ সরকারকে এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে গেরুয়া শিবির। একসময় বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলানো শাখারভ এবার সরাসরি ভোটের ময়দানে। বাবার হাত ধরে বিজেপির রাজনীতিতে আসা এই নেতার রাজনৈতিক জীবনের বড় অংশ জুড়েই রয়েছে সংগঠন ও আরএসএসের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা।

দীর্ঘদিনের সংগঠক, এবার ভোটের ময়দানে

শাখারভ সরকার বিজেপির রাজনীতিতে নতুন মুখ নন। দলের সাংগঠনিক পরিসরে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় তিনি। রাজ্য সম্পাদক হওয়ার আগে বেশ কয়েক বছর বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।দলের অন্দরে সংগঠন পরিচালনার অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আরএসএসের সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘ যোগাযোগ রয়েছে। এবার সেই অভিজ্ঞ নেতার উপরই রেজিনগর আসন পুনর্দখলের দায়িত্ব দিল বিজেপি।

শেষ মুহূর্তে প্রার্থীর নাম ঘোষণা

রেজিনগর উপনির্বাচনকে ঘিরে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল আগেই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছিল। বিজেপির প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে অবশ্য শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা ছিল।মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম—দুই আসনের জন্য বিজেপির প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। রেজিনগরে শাখারভ সরকারের নাম সামনে আসতেই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়। সূত্রের খবর, বুধবারই তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন।

কেন এই উপনির্বাচন?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ুন কবীর আম জনতা উন্নয়ন পার্টির ‘বাঁশি’ প্রতীকে নওদা ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। পরবর্তীতে রেজিনগর আসন থেকে তিনি পদত্যাগ করায় আসনটি খালি হয়।এই শূন্য আসনেই আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে এবার রেজিনগরের লড়াইয়ে একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মুখোমুখি হচ্ছেন।কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবির, আম জনতা উন্নয়ন পার্টি এবং বামেদের তরফে আরএসপি ও সিপিএম ইতিমধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এবার বিজেপিও প্রার্থী ঘোষণা করায় লড়াই আরও জমজমাট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

‘প্রার্থী হওয়ার জন্য কারও কাছে দরবার করিনি’

প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর শুভেচ্ছায় ভাসছেন শাখারভ সরকার। নিজের রাজনৈতিক যাত্রা প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বাবার হাত ধরেই বিজেপির রাজনীতির সঙ্গে তাঁর যোগ।তবে রেজিনগর উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য তিনি কারও কাছে আবেদন বা দরবার করেননি বলেও জানিয়েছেন। দলের তরফে যে দায়িত্বই দেওয়া হোক, তা পালনের জন্য তিনি প্রস্তুত—দলকে এমনটাই জানিয়েছিলেন বলে দাবি শাখারভের।

ধর্মীয় নয়, উন্নয়নের ভোট’

রেজিনগর উপনির্বাচনকে ধর্ম বা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে দেখার বিরোধিতা করেছেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর বক্তব্য, এই নির্বাচন মূলত এলাকার উন্নয়নকে সামনে রেখেই হওয়া উচিত।শাখারভ সরকারের প্রচারের অন্যতম ইস্যু হিসেবে উঠে আসছে ভালো স্কুল, কলেজ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিশেষ করে ভাগীরথী নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণেরপ্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রেজিনগরের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রয়োজনগুলিকে সামনে রেখেই নির্বাচনী প্রচার চালানো হবে। দলীয় কর্মীরাও ইতিমধ্যেই এলাকায় প্রচারে নেমে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে শাখারভ সরকারের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত থাকার ইতিহাস এবং বিজেপির সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখেই তাঁকে প্রার্থী করেছে দল। ৬ অক্টোবর রেজিনগরে উপনির্বাচন। এবার লক্ষ্য হুমায়ুন কবীরের ছেড়ে যাওয়া আসন দখল করা।

Leave a comment