রেজিনগর উপনির্বাচনে বড় চাল বিজেপির! ২৮২ বুথে এজেন্ট, হুমায়ুনের ঘাঁটিতে পদ্ম ফোটানোর ছক

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে বড় প্রস্তুতি বিজেপির। ২৮২টি বুথে এজেন্ট দেওয়ার লক্ষ্য, বুথ কমিটি গঠন ও স্থানীয় ইস্যু নিয়ে কী পরিকল্পনা গেরুয়া শিবিরের? জানুন বিস্তারিত।

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক তৎপরতা। কয়েক মাস আগে বিধানসভা নির্বাচনে যে সব বুথে এজেন্ট দিতে পারেনি বিজেপি, এবার সেখানেও সংগঠন শক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ২৮২টি বুথেই এজেন্ট নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন দাবি এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও জোর দিচ্ছে পদ্ম শিবির।

২৮২ বুথে এজেন্ট দেওয়ার লক্ষ্য বিজেপির

রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের চারটি মণ্ডলে সম্প্রতি একাধিক সাংগঠনিক বৈঠক করেছে বিজেপি। সেই বৈঠকগুলিতেই বুথভিত্তিক সংগঠন নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। সিদ্ধান্ত হয়েছে, আসন্ন উপনির্বাচনে কেন্দ্রের প্রতিটি অর্থাৎ ২৮২টি বুথেই দলের পোলিং এজেন্ট রাখার চেষ্টা করা হবে।আগের নির্বাচনে বেশ কিছু বুথে এজেন্ট দিতে পারেনি বিজেপি। সেই ঘাটতি এবার আর রাখতে চাইছে না গেরুয়া শিবির। বুথস্তরে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার পাশাপাশি নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বুথ কমিটি তৈরিতেও জোর

বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজনের বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটের আগে বুথস্তরে পৃথক কমিটি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে দলের সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী ব্যক্তিদের মধ্য থেকেও সংগঠনের জন্য কর্মী বাছাই করা হচ্ছে।এই কমিটিগুলিই সংশ্লিষ্ট বুথে নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তালিকা তৈরি হওয়ার পর তা রাজ্যস্তরে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

রাজ্যস্তরেও নজর রেজিনগরে

রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতি প্রবাল রাহার নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি কাজ করছে। পাশাপাশি বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার তরফে চারটি মণ্ডলের জন্য পৃথক দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।দলের চার বিধায়ক এবং চার সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদককে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে রাজ্যের দুই মন্ত্রীও প্রস্তুতির বিভিন্ন দিকের উপর নজর রাখছেন বলে বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে।

সরকারি প্রকল্প নিয়েও প্রচারে নামার পরিকল্পনা

শুধু সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানো নয়, সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা যাতে এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছয়, সেদিকেও নজর দিচ্ছে বিজেপি। বুথস্তরের নেতৃত্বকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় নেতৃত্বের দাবি।অন্নপূর্ণা প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে যোগ্য মানুষ পান, তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। উপনির্বাচনের আগে এই বিষয়টিকেও রাজনৈতিক প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার করতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

রেজিনগরের স্থানীয় সমস্যাগুলিও হাতিয়ার

রেজিনগরের মানুষের দীর্ঘদিনের কয়েকটি দাবিকেও সামনে আনছে বিজেপি। ভাগীরথী নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ, এলাকায় কলেজ তৈরি এবং দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা শিল্পতালুকে নতুন শিল্প আনার দাবি রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।এছাড়াও কয়েকটি স্টেশনে দূরপাল্লার ট্রেনের স্টপেজ দেওয়ার দাবিও উঠেছে। বিজেপির পক্ষ থেকে স্থানীয় মানুষের এই দাবিগুলি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

হুমায়ুন কবীরের আসনে বাড়ছে লড়াইয়ের উত্তাপ

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হিসেবে হুমায়ুন কবীর রেজিনগর ও নওদা—দুই আসনেই জয়ী হয়েছিলেন। পরে রেজিনগর আসন থেকে তাঁর পদত্যাগের জেরে সেখানে উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।এই কেন্দ্রটিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি। সংগঠনকে বুথস্তর পর্যন্ত ছড়িয়ে দিয়ে এবার নির্বাচনী লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইছে পদ্ম শিবির।

'হর ঘর তিরঙ্গা' কর্মসূচিতেও রেজিনগরে বিশেষ নজর

বিজেপির পরিকল্পনায় 'হর ঘর তিরঙ্গা' কর্মসূচিও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেয়েছে। এই কর্মসূচিতে রেজিনগরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দলীয় নেতৃত্ব জানিয়েছে।কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর ফের রেজিনগরের নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত বৈঠক হবে। ফলে উপনির্বাচনের আগে এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক লড়াই আরও জমে উঠতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠন মজবুত করতে তৎপর বিজেপি। এবার কেন্দ্রের ২৮২টি বুথেই পোলিং এজেন্ট দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে গেরুয়া শিবির। চারটি মণ্ডলে বৈঠক করে বুথস্তরের সংগঠন, কমিটি গঠন এবং ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা।

Leave a comment