শ্রাবণ মাস মানেই শিবভক্তদের কাছে বিশেষ সময়। আর এবারের শ্রাবণের শেষ সোমবারকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে একাধিক তিথি ও জ্যোতিষীয় যোগের সংযোগ। আগামী ১০ অগাস্ট, সোমবার পড়ছে শ্রাবণের চতুর্থ সোমবার। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে নিষ্ঠাভরে ভোলেনাথের পুজো, জলাভিষেক ও ব্রত পালন করলে মানসিক শান্তি এবং সৌভাগ্য লাভ হতে পারে।
কেন বিশেষ ১০ অগাস্টের শ্রাবণ সোমবার?
জ্যোতিষীয় মতে, শ্রাবণের শেষ সোমবারে একসঙ্গে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যোগের প্রভাব থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে প্রদোষ ব্রত, একাদশী পারণের পর্ব, ত্রিগ্রহী যোগ, বুধাদিত্য যোগ, হংসরাজ যোগ, বজ্র যোগ এবং পরে সিদ্ধি যোগ।বিশেষ করে প্রদোষ ব্রত শিবের উপাসনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এদিন সূর্যাস্তের পর প্রদোষকালে শিবপুজোর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিট থেকে প্রদোষকালের পুজোর শুভ সময় শুরু হবে।
এক নজরে ৭টি শুভ-অশুভ সংযোগ
প্রদোষ ব্রত
শ্রাবণের এই সোমবারেই প্রদোষ ব্রতের সংযোগ রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রদোষকালে মহাদেবের আরাধনা করলে জীবনের নানা বাধা ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির প্রার্থনা করা যায়।
একাদশী পারণ
কামিকা একাদশীর ব্রতের পারণও এই সময়পর্বে পড়ছে। নিয়ম মেনে সূর্যোদয়ের পর পারণ করার কথা বলা হয়েছে। এরপর ত্রয়োদশী তিথির সূচনা হবে, যা শিব আরাধনার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
ত্রিগ্রহী যোগ
কর্কট রাশিতে সূর্য, বুধ ও বৃহস্পতির অবস্থানের ফলে ত্রিগ্রহী যোগ তৈরি হয়েছে বলে জ্যোতিষশাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে। এই যোগের প্রভাবে মিথুন, কর্কট ও কন্যা রাশির জাতক-জাতিকারা বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারেন বলে জ্যোতিষীয় মত।
বুধাদিত্য যোগ
কর্কট রাশিতে সূর্য ও বুধের সংযোগকে বুধাদিত্য যোগ বলা হয়। জ্যোতিষশাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই যোগ বুদ্ধি, কর্মদক্ষতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
হংসরাজ যোগ
কর্কট রাশিতে বৃহস্পতির অবস্থানকে কেন্দ্র করে হংসরাজ যোগের কথা বলা হয়েছে। জ্যোতিষশাস্ত্রে এটি শুভ যোগ হিসেবে পরিচিত। আধ্যাত্মিক উন্নতি, জ্ঞান ও সৌভাগ্যের সঙ্গে এই যোগকে যুক্ত করা হয়।
বজ্র যোগ
এই দিনে বজ্র যোগও থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা রাত ১০টা ২৭ মিনিট পর্যন্ত চলবে। জ্যোতিষীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময়ে নতুন কাজ শুরু করা বা বড় ধরনের কেনাকাটা এড়িয়ে চলাই ভালো।
সিদ্ধি যোগ
বজ্র যোগ শেষ হওয়ার পর রাত ১০টা ২৭ মিনিটের পরে সিদ্ধি যোগ শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। জ্যোতিষ মতে, এই যোগে শুরু করা কাজ সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বলে বিশ্বাস করা হয়।
জলাভিষেকের সময় কখন?
শ্রাবণ সোমবারে শিবলিঙ্গে জলাভিষেকের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ১০ অগাস্ট ব্রহ্মমুহূর্ত থেকেই জলাভিষেক শুরু করা যেতে পারে বলে ধর্মীয় মতে মনে করা হচ্ছে।সকালের পাশাপাশি প্রদোষ ব্রতের কারণে সন্ধ্যাতেও মহাদেবের পুজো ও জলাভিষেক করা যাবে। ভক্তরা নিজেদের সুবিধা ও স্থানীয় মন্দিরের পুজোর সময় অনুযায়ী আচার পালন করতে পারেন।
কী কী মেনে চলবেন?
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে ভক্তরা—
ভোরে স্নান করে পরিষ্কার পোশাক পরতে পারেন।
শিবলিঙ্গে জল বা পবিত্র জল দিয়ে অভিষেক করতে পারেন।
নিষ্ঠাভরে শিবের নাম জপ ও পুজো করতে পারেন।
প্রদোষকালে বিশেষভাবে মহাদেবের আরাধনা করতে পারেন।
নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী উপবাস বা সাত্ত্বিক আহার করতে পারেন।
অহেতুক বিবাদ, রাগ ও নেতিবাচক চিন্তা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতে পারেন।
তবে ব্রত বা উপবাস পালন করার ক্ষেত্রে শারীরিক অসুস্থতা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
কোন বিষয়গুলি এড়িয়ে চলবেন?
জ্যোতিষীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বজ্র যোগ চলাকালীন নতুন গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু বা বড় কেনাকাটা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ধর্মীয় আচার পালনের সময় নিজের বিশ্বাস ও পারিবারিক রীতিনীতিকে গুরুত্ব দেওয়াই শ্রেয়।
২০২৬ সালের শ্রাবণ মাসের শেষ তথা চতুর্থ সোমবার পড়েছে ১০ অগাস্ট। জ্যোতিষশাস্ত্রীয় মতে, এই দিনে একাধিক শুভ যোগ ও তিথির সংযোগ থাকায় দিনটি ধর্মীয়ভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রদোষ ব্রত, বুধাদিত্য যোগ, হংসরাজ যোগ, সিদ্ধি যোগ-সহ একাধিক সংযোগের প্রভাব থাকবে বলে দাবি করা হচ্ছে। শিবের আরাধনা ও জলাভিষেকের পাশাপাশি কোন নিয়মগুলি মানবেন, জেনে নিন।










