শীত এলেই খাদ্যতালিকায় ফিরে আসে খেজুরের নলেন গুড়, ঝোলা গুড় আর গুড়ের পাটালি। স্বাদে অতুলনীয় এই প্রাকৃতিক মিষ্টি শুধু মুখে স্বাদই বাড়ায় না, শরীরের জন্যও আনে একাধিক উপকার। তবে প্রশ্ন হল—গুড় খাওয়ার আদর্শ সময় কোনটা? খাবারের আগে, না পরে? এই নিয়েই গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিলেন আয়ুষ চিকিৎসক।
শীতকাল মানেই গুড়ের মরসুম
শীতকালে খেজুর রস জ্বাল দিয়ে তৈরি হয় নলেন গুড়। এই সময়েই বাজার ভরে ওঠে নানা ধরনের গুড়ে। মোয়া, তিলের খাজা থেকে শুরু করে পিঠে-পুলি—সবেতেই গুড়ের রাজত্ব। তবে শুধু স্বাদের জন্য নয়, সঠিক নিয়মে গুড় খেলে মিলতে পারে স্বাস্থ্যগত সুফলও।

গুড় খাওয়ার সেরা সময় কোনটা?
আয়ুষ চিকিৎসকদের মতে, খাবারের পরে অল্প পরিমাণ গুড় খাওয়াই সবচেয়ে উপকারী। এতে হজমশক্তি বাড়ে এবং পেটের নানা সমস্যা কমে।
খাবারের পর গুড় খাওয়ার উপকারিতা
খাবারের পরে গুড় খেলে—
হজমকারী এনজাইম সক্রিয় হয়
গ্যাস, অ্যাসিডিটি ও পেট ফাঁপা কমে
কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হয়
পেট হালকা থাকে ও অস্বস্তি কমে

আয়রনের ঘাটতি পূরণে কার্যকর
গুড় প্রাকৃতিকভাবে আয়রন সমৃদ্ধ। নিয়মিত কিন্তু পরিমিত গুড় খেলে—
হিমোগ্লোবিন বাড়ে
রক্তাল্পতা প্রতিরোধে সাহায্য করে
শরীরের দুর্বলতা কমে
আয়ুষ চিকিৎসকের মতামত
আয়ুষ অনুশীলনকারী ডা. আকাঙ্ক্ষা দীক্ষিত জানান, খাবারের পরে গুড় খেলে তা ধীরে ধীরে শরীরে শোষিত হয়। এতে হঠাৎ রক্তে শর্করা বেড়ে যায় না এবং দীর্ঘক্ষণ শক্তি বজায় থাকে। পাশাপাশি এটি লিভারকে ডিটক্স করতে সাহায্য করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
গুড়ে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়াম ও আয়রন—
শরীরের ইমিউন সিস্টেম মজবুত করে
সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে
হজমতন্ত্রকে সুস্থ রাখে
কারা সতর্ক থাকবেন?
ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তে শর্করার সমস্যায় ভুগছেন যাঁরা, তাঁদের ক্ষেত্রে—
গুড় অবশ্যই সীমিত পরিমাণে
অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়াই নিরাপদ
শীতকালে নলেন গুড় থেকে পাটালি—গুড়ের কদর তুঙ্গে। কিন্তু গুড় খাওয়ার সঠিক সময় জানেন কি? খাবারের পরে গুড় খেলে হজম, শক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে বলে জানাচ্ছেন আয়ুষ চিকিৎসকরা।













