বুধবার প্রাথমিক লেনদেনে ভারতীয় রুপিতে সামান্য উন্নতি দেখা গেছে এবং এটি প্রতি মার্কিন ডলারে 94.70 স্তরে লেনদেন করেছে। ডলারের শক্তি, অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা রুপির উত্থান সীমিত রেখেছে, যদিও দেশীয় বিনিয়োগকারীরা স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।
বিদেশি মুদ্রা বাজারে প্রাথমিক লেনদেনে ভারতীয় মুদ্রা 15 পয়সা শক্তিশালী হয়ে প্রতি মার্কিন ডলারে 94.70-এ লেনদেন করেছে। তবে এই উন্নতি সীমিত ছিল, কারণ বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং বাজারের চাপ রুপির আরও উত্থানকে বাধা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় বাজারে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব এবং আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামার সম্মিলিত প্রভাবে রুপিতে এই সীমিত উন্নতি হয়েছে।
অন্তর্ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় বাজারে বুধবার রুপির সূচনা শক্তিশালী ছিল এবং এটি প্রতি ডলারে 93.62 স্তরে খোলে, যা আগের লেনদেন দিনের তুলনায় উন্নত ছিল। প্রাথমিক শক্তির পর রুপি কিছুটা লাভ হারিয়ে 94.70 স্তরে স্থিতিশীল হয়, যা আগের বন্ধ মূল্য 94.85-এর তুলনায় 15 পয়সা উন্নতি নির্দেশ করে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি রুপির ধীর পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেয়, যদিও ডলারের শক্তি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এর ঊর্ধ্বগতি সীমিত রাখছে।

সোমবার রুপি প্রথমবারের মতো 95 স্তর অতিক্রম করে, যা দেশীয় মুদ্রার জন্য একটি রেকর্ড নিম্ন স্তর ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত এটি 94.85 স্তরে বন্ধ হয়। মঙ্গলবার মহাবীর জয়ন্তী উপলক্ষে বৈদেশিক মুদ্রা বাজার বন্ধ ছিল, ফলে এই সময়ে নতুন কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
ডলার সূচক 0.13 শতাংশ হ্রাস পেয়ে 99.63-এ বন্ধ হয়েছে। এই সূচক ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের শক্তি নির্দেশ করে। ডলারের এই দুর্বলতা রুপির সামান্য উন্নতিতে সহায়তা করেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম 1.50 শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল 105.53 ডলারে পৌঁছেছে। তেলের উচ্চ মূল্য সাধারণত রুপির ওপর চাপ সৃষ্টি করে, কারণ ভারত বড় পরিমাণে তেল আমদানি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রুপির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা চ্যালেঞ্জপূর্ণ। ডলারের গতিবিধি এবং এফপিআই কার্যকলাপও মুদ্রার ওঠানামায় প্রভাব ফেলছে।
শেয়ার বাজারের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সোমবার 11,163.06 কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে। এফআইআই বিক্রি সরাসরি রুপির ওপর চাপ সৃষ্টি করে, কারণ এতে ডলারে অর্থ প্রত্যাহার করা হয় এবং রুপির চাহিদা কমে যায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এফআইআই বিক্রির মধ্যেও দেশীয় বিনিয়োগকারী এবং ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান রুপির কিছুটা স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।
ভারতীয় মুদ্রায় এই সীমিত উন্নতি দেশীয় বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়ীদের কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং তেলের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে, তাহলে রুপির ঊর্ধ্বগতি সীমিত থাকতে পারে। পাশাপাশি, ডলারের বৈশ্বিক শক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরানসহ ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও দেশীয় মুদ্রার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।











