একটানা বৃষ্টি আর নদীর প্রবল জলের চাপ—দুইয়ের জেরে কার্যত বিপদের মুখে সন্দেশখালির গাজীখালি নদীবাঁধ। বাঁধের বিস্তীর্ণ অংশে ধস নামায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে ন্যাজাট-২ এলাকায়। দ্রুত ভাঙন আটকানো না গেলে যে কোনও মুহূর্তে বাঁধের দুর্বল অংশ ভেঙে গিয়ে আশপাশের গ্রামগুলিতে জল ঢুকে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গাজীখালি নদীবাঁধে ভয়াবহ ধস
সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লকের ন্যাজাট-২ অঞ্চলে গাজীখালি নদীবাঁধের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। টানা বৃষ্টির ফলে বিদ্যাধরী নদীর জলস্তর ও স্রোতের চাপ বেড়েছে। সেই জলের ধাক্কাতেই বাঁধের বেশ কিছুটা অংশে ধস নেমেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।বাঁধের দুর্বল অংশ দ্রুত মেরামত করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। বিশেষ করে নদী সংলগ্ন গ্রামগুলিতে জল ঢুকে পড়ার আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ।
পরিস্থিতি দেখতে ঘটনাস্থলে বিধায়ক
বাঁধের বিপজ্জনক পরিস্থিতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়ক সনৎ সরদার। তিনি সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত ভাঙন রোধের কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আপাতত বাঁধের দুর্বল অংশটিকে কোনওভাবে ধরে রাখাই প্রশাসন ও স্থানীয়দের প্রধান লক্ষ্য।
মাটি ভর্তি বস্তা ফেলে ভাঙন রোখার চেষ্টা
জলের তোড় ও বৃষ্টির চাপের মধ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বাঁধ রক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় মাটি ভরে ধস নামা অংশে ফেলা হচ্ছে।এই অস্থায়ী ব্যবস্থা দিয়ে আপাতত নদীর জলকে আটকানোর চেষ্টা চলছে। তবে স্থায়ী মেরামতি না হলে ফের ভাঙনের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
প্লাবনের আশঙ্কায় সতর্ক গ্রামবাসীরা
বাঁধ ভেঙে গেলে নদীর পাড় সংলগ্ন একাধিক এলাকায় জল ঢুকে পড়তে পারে। তাই পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে।ফলে নদীর কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষজনকে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। একইসঙ্গে বাঁধের পরিস্থিতির উপরও লাগাতার নজর রাখা হচ্ছে।
আতঙ্কিত না হওয়ার বার্তা বিধায়কের
গ্রামবাসীদের আতঙ্কিত না হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বিধায়ক সনৎ সরদার। মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাঁধের উপর নজরদারি এবং ভাঙন রোখার কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
রাতভর চলবে নজরদারি
টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় গাজীখালি নদীবাঁধ নিয়ে উদ্বেগ এখনও কাটেনি। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তার জন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।বিধায়ক সনৎ সরদার জানিয়েছেন, রাতভর ঘটনাস্থলে থেকে বাঁধের পরিস্থিতির উপর নজর রাখবেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ী মেরামতির ব্যবস্থা না হলে আগামী দিনে বড়সড় বিপর্যয় তৈরি হতে পারে।
টানা বৃষ্টির জেরে সন্দেশখালির ন্যাজাট-২ অঞ্চলের গাজীখালি নদীবাঁধের বিস্তীর্ণ অংশে ধস নেমেছে। বিদ্যাধরী নদীর জলের তোড়ে পরিস্থিতি ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। বাঁধ ভেঙে গেলে আশপাশের একাধিক গ্রাম প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে অস্থায়ীভাবে মাটি ভর্তি প্লাস্টিকের বস্তা ফেলে ভাঙন আটকানোর কাজ শুরু হয়েছে।










