हरিদ্বারে যোগগুরু বাবা রামদেব শিশুদের কোনো ধরনের আন্দোলনে যুক্ত করাকে অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ছোট শিশুদের প্রধান দায়িত্ব শিক্ষা, অন্যদিকে প্রাপ্তবয়স্ক তরুণদের নিজেদের অধিকার নিয়ে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পদ্ধতিতে মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। রামদেব শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান এবং নিয়োগ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সমস্যাগুলির সমাধানের ওপরও জোর দেন।
বাবা রামদেব বলেন, ছোট শিশুদের কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ করা উচিত নয়। তাঁর মতে, প্রাথমিক শ্রেণিতে পড়া শিশুদের আন্দোলনে যুক্ত করার পরিবর্তে তাদের শিক্ষা ও ভবিষ্যতের দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, শিশুরা আন্দোলন ও বিক্ষোভে অংশ নিলে তাদের পড়াশোনা প্রভাবিত হবে কি না। রামদেব অভিভাবকদেরও শিশুদের রাজনৈতিক বা সামাজিক আন্দোলনের সামনে না আনার আবেদন জানান।
তাঁর বক্তব্য, তরুণরা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর নিজেদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার অধিকার রাখেন।
বাবা রামদেব তরুণদের আন্দোলনের অধিকারকে সমর্থন করেন। তবে তিনি শান্তি বজায় রাখা এবং সংবিধানের মর্যাদা রক্ষার ওপর জোর দেন। তাঁর বক্তব্য, প্রতিবাদ কর্মসূচি গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পদ্ধতিতে হওয়া উচিত।
আন্দোলনের সময় হিংসা ও অরাজকতাকে তিনি ভুল বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, কোনো সমস্যার বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ আন্দোলনের রূপ নিতে পারে, তবে তার পদ্ধতি শান্তিপূর্ণ হওয়া উচিত।

রামদেব আরও বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পদ্ধতিতে আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে। তিনি সেইসব আন্দোলনকে সমর্থন করেন, যেগুলি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে নিজেদের দাবি তুলে ধরে।
রামদেব দেশের শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একাধিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ক্ষেত্রগুলিতে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে এবং এর জন্য শুধু সরকার নয়, সমাজ ও প্রশাসনেরও ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।
তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষক, বিদ্যুৎ, জল এবং অন্যান্য মৌলিক সুবিধার সঙ্গে যুক্ত সমস্যাগুলির সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। একই সঙ্গে সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তাঁর বক্তব্য, দেশের শিশু ও তরুণদের ভবিষ্যৎ উন্নত করার জন্য সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে সচেতনতা প্রয়োজন। তিনি কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং পরিবেশের মতো বিষয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাবা রামদেব ছাত্র ও তরুণদের সঙ্গে যুক্ত প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়ে সরকারকে সতর্ক করেছিলেন। শিক্ষা ও নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন, সমস্যার সমাধান না হলে প্রতিবাদ আরও এগোতে পারে।
সেই সময় তিনি তরুণদের হিংসা এবং আইনশৃঙ্খলা প্রভাবিত করতে পারে এমন কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকার আবেদনও জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে প্রতিবাদকে সংবিধানের পরিধির মধ্যে রাখার কথা বলেছিলেন।
এখন তাঁর সর্বশেষ বক্তব্যে শিশুদের আন্দোলন থেকে দূরে রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, তরুণদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে সমর্থন করা যেতে পারে, তবে শিশুদের এই ধরনের প্রতিবাদে যুক্ত করা উপযুক্ত নয়।











