তারাপীঠের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর নয়া আতঙ্ক! পাশের পুকুরে ডুবুরি-স্পিডবোট, চলছে নিখোঁজদের খোঁজ

তারাপীঠের ভয়াবহ হোটেল অগ্নিকাণ্ডের পর পাশের পুকুরে ডুবুরি ও স্পিডবোট নামিয়ে তল্লাশি শুরু। কেউ আগুন থেকে বাঁচতে পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন কি না, চলছে খোঁজ।

তারাপীঠ: সোমবার ভোরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল তারাপীঠে। হোটেলের ভিতরে ঘুমিয়ে থাকা আবাসিকদের অনেকেই আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে আটকে পড়েছিলেন বলে জানা যায়। এবার সামনে এসেছে আরও এক উদ্বেগজনক সম্ভাবনা। হোটেলের পাশের পুকুরে কেউ ঝাঁপ দিয়ে থাকতে পারেন—এই আশঙ্কায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই সেখানে ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি শুরু করেছে প্রশাসন।

আগুনের পর পুকুরে কেন তল্লাশি?

সোমবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ তারাপীঠ থানা সংলগ্ন একটি বেসরকারি হোটেলে আগুন লাগে। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে জানা গেলেও ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে হোটেলের একাংশে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ঘন কালো ধোঁয়া।সেই সময় হোটেলে থাকা অনেক পর্যটক ও পুণ্যার্থী ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে কয়েকজন আবাসিক বেরোনোর পথ না পেয়ে আতঙ্কে পড়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।

ব্যালকনি থেকে পুকুরে ঝাঁপ?

হোটেলের একেবারে পাশেই রয়েছে একটি পুকুর। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, আগুন ও ধোঁয়া থেকে বাঁচতে কয়েকজন আবাসিক ব্যালকনি থেকে ওই পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে থাকতে পারেন। যদিও এই তথ্য এখনও নিশ্চিত নয়।এই সম্ভাবনাই প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তাই মঙ্গলবার সকাল থেকেই পুকুরে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করা হয়েছে। ডুবুরি নামানোর পাশাপাশি স্পিডবোট দিয়েও জলের বিভিন্ন অংশে খোঁজ চালানো হচ্ছে।

বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন

পুকুরের পাশাপাশি গোটা ঘটনাস্থলেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তল্লাশি অভিযানে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ কোনও ব্যক্তির সন্ধান মেলেনি বলে জানা গিয়েছে।তবে তল্লাশি পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিতে চাইছে না প্রশাসন।

অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু

এদিকে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। ঘটনার পর বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার-সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই হোটেল মালিকের ছেলে কল্যাণ পালকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

তদন্তের পাশাপাশি চলছে উদ্ধার অভিযান

অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত একদিকে যেমন চলছে, তেমনই অন্যদিকে পুকুরে তল্লাশির দিকেও নজর রয়েছে প্রশাসনের। কেউ আগুন থেকে প্রাণ বাঁচাতে জলে ঝাঁপ দিয়েছিলেন কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

তারাপীঠের ভয়াবহ হোটেল অগ্নিকাণ্ডের পর এবার পাশের পুকুরে শুরু হয়েছে জোরদার তল্লাশি। আগুনের হাত থেকে বাঁচতে কোনও আবাসিক পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন কি না, সেই আশঙ্কায় ডুবুরি ও স্পিডবোট নামিয়ে চলছে উদ্ধার অভিযান। এখনও পর্যন্ত তল্লাশিতে কাউকে পাওয়া যায়নি।

Leave a comment