মৃত্যুর আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন নিজেই! ৪৭ বছরেই থেমে যায় বলিউডের কিংবদন্তি সঞ্জীব কুমারের জীবন

বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা Sanjeev Kumar বহু আগেই বলেছিলেন তিনি ৫০ বছরের বেশি বাঁচবেন না। বংশগত হৃদরোগের কারণে মাত্র ৪৭ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। জানুন এই অবিশ্বাস্য কাহিনি।

হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে এমন কিছু অভিনেতা রয়েছেন, যাঁদের অভিনয় সময়ের সীমা অতিক্রম করে আজও দর্শকের মনে বেঁচে আছে। তাঁদের মধ্যেই অন্যতম নাম সঞ্জীব কুমার। পর্দায় অসাধারণ অভিনয়ের জন্য যেমন তিনি প্রশংসিত, তেমনই তাঁর জীবন ঘিরে রয়েছে এক মর্মস্পর্শী অধ্যায়। নিজের মৃত্যু নিয়ে বহু আগে করা একটি মন্তব্য পরবর্তীতে অক্ষরে অক্ষরে সত্যি হয়ে যাওয়ায় আজও অবাক হন তাঁর ভক্তরা।

থিয়েটারের মঞ্চ থেকে বলিউডের শিখরে

গুজরাটের সুরাতে ১৯৩৮ সালের ৯ জুলাই হরিহর জেঠালাল জারিওয়ালা নামে জন্মগ্রহণ করেন সঞ্জীব কুমার। অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি যুক্ত হন থিয়েটারের সঙ্গে। আইপিটিএ এবং ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল থিয়েটারের মঞ্চে অভিনয় করে নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন। ১৯৬০ সালে ‘হাম হিন্দুস্তানি’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখলেও প্রকৃত সাফল্য আসে ধীরে ধীরে।

‘খিলোনা’ বদলে দিয়েছিল ভাগ্যের চাকা

১৯৭০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘খিলোনা’ ছবিটি তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর একের পর এক স্মরণীয় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন বলিউডের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা হিসেবে। নায়ক হওয়ার পাশাপাশি চরিত্রাভিনেতা হিসেবেও তিনি ছিলেন অনন্য। নিজের চেয়ে অনেক বেশি বয়স্ক চরিত্রেও এমন সাবলীল অভিনয় করতেন যে দর্শক চরিত্রের মধ্যেই তাঁকে খুঁজে পেত।

অভিনয়ে বাস্তবতার এক বিরল উদাহরণ

সঞ্জীব কুমারের অভিনয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করার ক্ষমতা। পরিচালক গুলজারের সঙ্গে তাঁর জুটি উপহার দিয়েছে একাধিক কালজয়ী ছবি। ‘আন্ধি’, ‘পরিচয়’ এবং ‘কোশিশ’-এর মতো সিনেমায় তাঁর অভিনয় আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের আলোচনার বিষয়। বিশেষ করে ‘কোশিশ’ ছবিতে একজন মূক ও বধির মানুষের চরিত্রে তাঁর অভিনয় ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হয়।

যে ভবিষ্যদ্বাণী পরে বাস্তব হয়ে উঠেছিল

অভিনয় জীবনের মধ্যগগনে থাকাকালীন সঞ্জীব কুমার প্রায়ই বলতেন, তিনি ৫০ বছরের বেশি বাঁচবেন না। কারণ তাঁর পরিবারের বহু পুরুষ সদস্য অল্প বয়সেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন। সেই কারণেই তিনি মজা করে বলতেন, বাস্তবে বৃদ্ধ হওয়ার আগেই পর্দায় বৃদ্ধ চরিত্রে অভিনয় করে বার্ধক্যের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান।

বংশগত রোগের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই

অভিনেতা দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসার জন্য তিনি আমেরিকায় গিয়ে বাইপাস সার্জারিও করিয়েছিলেন। কিন্তু শারীরিক অবস্থার বিশেষ উন্নতি হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর স্বাস্থ্য আরও খারাপ হতে থাকে। পরিবারের ইতিহাস এবং নিজের শারীরিক সমস্যার কারণে মৃত্যুভয় যেন সবসময়ই তাঁকে তাড়া করত।

মাত্র ৪৭ বছরেই নিভে যায় উজ্জ্বল নক্ষত্র

১৯৮৫ সালের ৬ নভেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন সঞ্জীব কুমার। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৪৭ বছর। জীবদ্দশায় করা তাঁর সেই মন্তব্য—‘আমি ৫০ বছরের বেশি বাঁচব না’—পরে এক মর্মান্তিক সত্যে পরিণত হয়। ফলে তাঁর জীবনকাহিনি শুধু একজন অভিনেতার সাফল্যের গল্প নয়, বরং ভাগ্য, বিশ্বাস এবং বাস্তবতার এক অদ্ভুত মেলবন্ধনের উদাহরণ হয়ে ওঠে।

বলিউডের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা সঞ্জীব কুমার বহু বছর আগেই বলেছিলেন, তিনি ৫০ বছরের বেশি বাঁচবেন না। পরিবারের পুরুষ সদস্যদের অকালমৃত্যুর ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে করা সেই মন্তব্যই পরে বাস্তবে পরিণত

Leave a comment