সাবানের তৃতীয় সোমবারে শিবমন্দিরে ভক্তদের ঢল, বাবা বৈদ্যনাথ ধামে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন

সাবানের তৃতীয় সোমবারে বিহার ও ঝাড়খণ্ডের প্রধান শিবমন্দিরগুলিতে বিপুল ভিড়। বাবা বৈদ্যনাথ ধামে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইনের তথ্য সামনে এসেছে। হরিগিরিধামে রাত থেকেই ভক্তদের সারি এবং মুজফ্ফরপুরের বাবা গরিবনাথ ধামে হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টির প্রস্তুতি রয়েছে।
সাবানের তৃতীয় সোমবারে শিবমন্দিরে ভক্তদের ঢল, বাবা বৈদ্যনাথ ধামে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন
Photo Credit / Attribution: Google

সাবানের তৃতীয় সোমবারে বিহার ও ঝাড়খণ্ডের প্রধান শিবমন্দিরগুলিতে ভক্তদের ব্যাপক সমাগম হয়েছে। দেওঘরের বাবা বৈদ্যনাথ ধামে ভিড়ের মধ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন হয়েছে বলে জানা গেছে। বাবা বৈদ্যনাথের দর্শন ও জলাভিষেকের জন্য দূরদূরান্ত থেকে আসা শিবভক্তরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের পালার অপেক্ষা করছেন। সাবানের সোমবার উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রধান শিবমন্দিরেও বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগমের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

বাবা বৈদ্যনাথ ধামের পাশাপাশি বিহারের প্রধান শিবধামগুলিতেও তৃতীয় সোমবার উপলক্ষে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। হরিগিরিধামে রাত থেকেই ভক্তরা লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, মুজফ্ফরপুরের বিখ্যাত বাবা গরিবনাথ মন্দিরে ভক্তদের জন্য বিশেষ ধর্মীয় আয়োজনের প্রস্তুতি রয়েছে। এখানে হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টির আয়োজনের প্রস্তুতি ঘিরে ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে।

তৃতীয় সোমবার উপলক্ষে সকাল থেকেই মন্দিরগুলিতে ‘হর হর মহাদেব’ ও ‘বোল বম’ ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। কাভারিয়াদের দলও ধারাবাহিকভাবে মন্দিরগুলির দিকে এগিয়ে চলেছে। অনেক ভক্ত রাত থেকেই মন্দিরের আশপাশে পৌঁছে লাইনে দাঁড়িয়েছেন, যাতে সকালে জলাভিষেক ও দর্শনের সুযোগ পাওয়া যায়।

দেওঘরের বাবা বৈদ্যনাথ ধামে সাবান মাসে প্রতি সোমবারই বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়। তৃতীয় সোমবারেও ভিড় বাড়ার কারণে লাইন কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। মন্দিরে পৌঁছতে ভক্তদের দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে যেতে হচ্ছে। লাইনে নারী, প্রবীণ, যুবক ও শিশুকেও দেখা যাচ্ছে।

এত দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করা ভক্তদের জন্য সহজ নয়। তা সত্ত্বেও তাঁদের মধ্যে উৎসাহ রয়েছে। অনেক ভক্ত ধ্বনি দিতে দিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। পথে স্বেচ্ছাসেবক ও সেবা শিবিরের মাধ্যমে পানি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিহারের হরিগিরিধামেও তৃতীয় সোমবার উপলক্ষে বিশেষ উৎসাহ রয়েছে। এখানে রাত থেকেই ভক্তরা লাইনে পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে। সাবানের সোমবারে ভগবান শিবের জলাভিষেকের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করা হয়। এই কারণেই প্রতি বছর প্রধান শিবমন্দিরগুলিতে ভক্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

মুজফ্ফরপুরের বাবা গরিবনাথ ধামেও তৃতীয় সোমবার উপলক্ষে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মন্দির চত্বর ও আশপাশের এলাকায় ভক্তদের ভিড় বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর আগে দ্বিতীয় সোমবারেও বাবা গরিবনাথ ধামে বিপুল সংখ্যক কাভারিয়া ও ভক্ত পৌঁছেছিলেন এবং হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টির আয়োজন করা হয়েছিল।

প্রহ্লাদঘাট থেকে গঙ্গাজল নিয়ে মুজফ্ফরপুরের গরিবনাথ ধামে পৌঁছানো কাভারিয়াদের যাত্রাও সাবানের সোমবারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য আয়োজন। প্রহ্লাদঘাট থেকে গরিবনাথ ধামের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার বলে জানা যায় এবং বিপুল সংখ্যক কাভারিয়া পায়ে হেঁটে এই পথ অতিক্রম করেন। দ্বিতীয় সোমবারে প্রহ্লাদঘাটেও হেলিকপ্টার থেকে কাভারিয়াদের ওপর পুষ্পবৃষ্টি করা হয়েছিল।

তৃতীয় সোমবারেও গরিবনাথ মন্দিরে পুষ্পবৃষ্টি নিয়ে ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। হেলিকপ্টার থেকে ফুল বর্ষণের দৃশ্য ভক্তদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। এ ধরনের আয়োজনের ফলে মন্দির চত্বরে ভক্তদের সমাগম ও উৎসাহ আরও বাড়ে।

সাবানের সোমবারে মন্দিরগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিপুল সংখ্যক ভক্তের যাতায়াতের মধ্যে সারিবদ্ধতা, নিরাপত্তা, পানীয় জল, চিকিৎসা পরিষেবা এবং যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর দিতে হয়।

বাবা বৈদ্যনাথ ধামে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইনের পরিস্থিতি বিবেচনায় ভক্তদের ধৈর্য বজায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে প্রবীণ ও শিশুদের বিশেষ সমস্যায় পড়তে হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে সুবিধা প্রদান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

মন্দিরগুলির আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়। ভিড়ের মধ্যে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা বা গুজব এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি রাখা হয়। সিসিটিভি ও পুলিশ বাহিনীর সাহায্যেও ভিড়ের গতিবিধির ওপর নজর রাখা যেতে পারে।

তৃতীয় সোমবারের কারণে সাধারণ দিনের তুলনায় সড়কগুলিতেও বেশি ভিড় দেখা যাচ্ছে। কাভারিয়াদের দল পায়ে হেঁটে এগিয়ে চলেছে। বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের জন্য সেবা শিবিরও স্থাপন করেছেন। পথে ফল, পানি ও শরবতের মতো সুবিধা দেওয়ার শিবিরও দেখা যাচ্ছে।

সাবানের সোমবার ধর্মীয় আস্থার পাশাপাশি সামাজিক অংশগ্রহণেরও একটি বড় উপলক্ষ হয়ে ওঠে। বিপুল সংখ্যক মানুষ কাভারিয়াদের সেবায় যুক্ত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে পানি, খাবার ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

তৃতীয় সোমবার উপলক্ষে বিহারের বিভিন্ন শিবমন্দিরে বিশেষ পূজা-অর্চনা ও শৃঙ্গারও করা হচ্ছে। মন্দিরগুলি ফুল ও আলো দিয়ে সাজানো হয়েছে। সকাল থেকেই ভক্তদের ভিড় মন্দির চত্বরে পৌঁছাতে শুরু করেছে।

বাবা গরিবনাথ ধামে পুষ্পবৃষ্টির মতো আয়োজন ঘিরে ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগেও হেলিকপ্টার থেকে ফুল বর্ষণের সময় কাভারিয়া ও ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ দেখা গিয়েছিল।

তৃতীয় সোমবারের সঙ্গে সাবানের ধর্মীয় ব্যস্ততা আরও বেড়েছে। বাবা বৈদ্যনাথ ধাম থেকে গরিবনাথ ধাম এবং হরিগিরিধাম পর্যন্ত শিবভক্তদের বড় উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। বহু ভক্ত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মন্দিরে পৌঁছে ভগবান শিবের জলাভিষেক করছেন।

ভক্তদের বিপুল ভিড়ের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা এবং সারিবদ্ধতা বজায় রাখার জন্য আবেদন করা হচ্ছে। ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি এড়ানোর পাশাপাশি শিশু ও প্রবীণদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Leave a comment