নিজের বাড়ি থেকেই ছোট ব্যবসা শুরু করে আয় করতে চান? কিন্তু ব্যবসা শুরু করার মতো পর্যাপ্ত টাকা নেই? তাহলে উদ্যোগিনী যোজনা সম্পর্কে জেনে রাখা যেতে পারে। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলারা ব্যবসা শুরু বা সম্প্রসারণের জন্য সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগ পান। কোথায় আবেদন করবেন, কী কী নথি লাগবে এবং কারা এই সুবিধা পেতে পারেন—রইল বিস্তারিত।
উদ্যোগিনী যোজনায় কত টাকা পাওয়া যেতে পারে?
উদ্যোগিনী যোজনার আওতায় যোগ্য মহিলাদের সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ছোট ব্যবসার প্রয়োজন অনুযায়ী এই অর্থ ব্যবহার করা যেতে পারে।সেলাই-কাটাই, খাবার তৈরি, হস্তশিল্প, ছোট দোকান, খুচরো ব্যবসা-সহ বিভিন্ন ধরনের কাজের জন্য আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে যোগ্য আবেদনকারীরা ভর্তুকির সুবিধাও পেতে পারেন।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
এই প্রকল্প মূলত মহিলা উদ্যোক্তাদের জন্য। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা যোগ্যতার ভিত্তিতে—
আবেদনকারীকে মহিলা হতে হবে।
বয়স সাধারণত ১৮ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।
পরিবারের বার্ষিক আয় নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে।
আগের কোনও ঋণ থাকলে তার পরিশোধের রেকর্ড গুরুত্বপূর্ণ।
ঋণখেলাপির ইতিহাস থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
বিধবা, অসহায় বা বিশেষভাবে সক্ষম মহিলাদের ক্ষেত্রে কিছু শর্তে অতিরিক্ত সুবিধা বা আয়সীমায় ছাড় থাকতে পারে। তবে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বর্তমান যোগ্যতার নিয়ম যাচাই করা জরুরি।
কী কী ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়া যেতে পারে?
উদ্যোগিনী যোজনার মাধ্যমে বিভিন্ন ছোট ব্যবসার জন্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ রয়েছে। যেমন—
সেলাই ও পোশাকের কাজ
খাবার তৈরি ও খাদ্য সংক্রান্ত ব্যবসা
হস্তশিল্প
ছোট খুচরো দোকান
বিভিন্ন ক্ষুদ্র শিল্প ও পরিষেবা
অর্থাৎ বাড়ি থেকে পরিচালনা করা যায় এমন ব্যবসার ক্ষেত্রেও এই ধরনের ঋণ কাজে লাগানো যেতে পারে।
আবেদন করতে কী কী নথি লাগবে?
আবেদনের সময় সাধারণত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রয়োজন হতে পারে। যেমন—
আধার কার্ড বা ভোটার আইডি
আয় শংসাপত্র
পাসপোর্ট সাইজের ছবি
ব্যবসার পরিকল্পনা বা প্রজেক্ট রিপোর্ট
প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য ব্যাঙ্ক ও পরিচয় সংক্রান্ত নথি
নথির তালিকা ব্যাঙ্ক ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী বদলাতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নির্দিষ্ট শাখায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা জেনে নেওয়া ভালো।
কোথায় আবেদন করবেন?
উদ্যোগিনী যোজনার জন্য নিকটবর্তী সরকারি ব্যাঙ্ক, বেসরকারি ব্যাঙ্ক, আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্ক বা সমবায় ব্যাঙ্কে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
প্রথমে ব্যাঙ্ক থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে। এরপর ব্যবসার পরিকল্পনা এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে।
কীভাবে আবেদন করবেন?
নিজের যোগ্যতা যাচাই করুন এবং প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করুন।
নিকটবর্তী সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কে যোগাযোগ করে প্রকল্পের অধীনে আবেদন করার নিয়ম জেনে নিন।
আবেদনপত্র সঠিকভাবে পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথির সঙ্গে জমা দিন।
ব্যাঙ্ক আপনার নথি, যোগ্যতা এবং ব্যবসার পরিকল্পনা যাচাই করবে।
আবেদন অনুমোদিত হলে নিয়ম অনুযায়ী ঋণের অর্থ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অথবা ব্যবসার প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহকারীর অ্যাকাউন্টে দেওয়া হতে পারে।
সরকারি তথ্য কোথায় পাবেন?
উদ্যোগিনী যোজনা সম্পর্কে আবেদন করার আগে সরকারি তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। UMANG এবং myScheme-এর মতো সরকারি প্ল্যাটফর্মে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের তথ্য ও যোগ্যতার নিয়ম খুঁজে দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে যে ব্যাঙ্কের মাধ্যমে আবেদন করবেন, সেখান থেকেও বর্তমান শর্ত জেনে নিন।
নিজের ছোট ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা থাকলেও অর্থের অভাবে পিছিয়ে যাচ্ছেন? মহিলাদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে উদ্যোগিনী যোজনা-র মাধ্যমে যোগ্য আবেদনকারীরা ব্যবসার জন্য সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের সুযোগ পেতে পারেন। সেলাই, খাবার তৈরি, হস্তশিল্প, খুচরো ব্যবসা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে এই আর্থিক সহায়তা কাজে লাগানো যেতে পারে। তবে যোগ্যতা, আয়সীমা এবং ঋণের শর্ত পূরণ করা জরুরি।










