সপ্তাহের শুরুতে ভারতীয় শেয়ারবাজারে উল্লেখযোগ্য বিক্রির চাপ দেখা যায়। দুর্বল বৈশ্বিক সংকেত, আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের মধ্যে সোমবার দেশীয় ইক্যুইটি বাজার বড় পতনের সঙ্গে লেনদেন শুরু করে।
প্রাথমিক লেনদেনে বিএসই সেনসেক্স ৮০০ পয়েন্টের বেশি নেমে প্রায় ৭৩,৪০০ স্তরে পৌঁছে যায়। একই সময়ে এনএসই নিফটি ২৫০ পয়েন্টের বেশি পতন নিয়ে প্রায় ২৩,১০০ স্তরের কাছাকাছি লেনদেন করতে দেখা যায়। বৃহত্তর বাজারেও চাপ লক্ষ্য করা যায় এবং অধিকাংশ খাত লাল চিহ্নে অবস্থান করে।
লেনদেন শুরুর পর থেকেই বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগ থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করেন। বাজারের প্রস্থও দুর্বল ছিল, যেখানে ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারের তুলনায় নিম্নমুখী শেয়ারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি), ধাতু, অটোমোবাইল এবং আর্থিক পরিষেবা খাতের শেয়ারগুলিতে তীব্র পতন নথিভুক্ত হয়। বড় বাজার মূলধনী কোম্পানিগুলিতে মুনাফা বুকিংও দেখা যায়, যা প্রধান সূচকগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
সোমবারের প্রাথমিক লেনদেনে একাধিক বড় কোম্পানির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যায়। আইটি খাতের প্রধান সংস্থা উইপ্রোর শেয়ার প্রায় ৪ শতাংশের বেশি দুর্বল হয়। এছাড়া টাটা স্টিল, হিন্দালকো, ইনফোসিস, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS), এইচসিএল টেকনোলজিস, বাজাজ ফাইন্যান্স, মহিন্দ্রা অ্যান্ড মহিন্দ্রা এবং ইন্টারগ্লোব এভিয়েশন (ইন্ডিগো)-এর শেয়ারেও বিক্রির চাপ লক্ষ্য করা যায়। ধাতু ও আর্থিক খাতের শেয়ারের দুর্বলতা নিফটি ও সেনসেক্সের পতনকে আরও ত্বরান্বিত করে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতীয় বাজারে দুর্বলতার পেছনে একাধিক বৈশ্বিক ও দেশীয় কারণ কাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বড় আঞ্চলিক সংঘাতের সম্ভাবনা জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কার্যকলাপকে প্রভাবিত করতে পারে।
অপরিশোধিত তেলের দামের সম্ভাব্য বৃদ্ধি বাজারের মনোভাবকে প্রভাবিত করছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের আমদানি ব্যয় এবং মুদ্রাস্ফীতির ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা এবং ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতার প্রভাব ভারতীয় বাজারেও প্রতিফলিত হয়েছে। বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকেছেন, যার ফলে উদীয়মান বাজারে বিনিয়োগ প্রবাহ প্রভাবিত হয়েছে।
বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FII) বিক্রিও বাজারের ওপর চাপের একটি প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমানোর কৌশল গ্রহণ করলে ভারতীয় শেয়ারবাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধি পেতে পারে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, নিকট ভবিষ্যতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সূচক, অপরিশোধিত তেলের দাম, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কার্যকলাপ ভারতীয় শেয়ারবাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।











