তিস্তার বুকে মিলল নিখোঁজ গাড়ি, কিন্তু উধাও একই পরিবারের ৪ সদস্য! গ্যাংটক-শিলিগুড়ি ফেরার পথে বাড়ছে রহস্য

গ্যাংটক থেকে শিলিগুড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ একই পরিবারের ৪ সদস্য। তিস্তা নদীতে মিলেছে তাঁদের টাটা নেক্সন গাড়ির অবস্থান। এনডিআরএফ, সিকিম প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ তল্লাশি চলছে।

উত্তরবঙ্গ ও সিকিম জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এক পরিবারের চার সদস্যের রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা। গ্যাংটক থেকে শিলিগুড়ি ফেরার পথে আচমকাই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তাঁদের সঙ্গে। কয়েক ঘণ্টার উদ্বেগের পর তিস্তা নদীর বুকে উদ্ধারকারী দল পরিবারের ব্যবহৃত গাড়ির অবস্থান শনাক্ত করলেও এখনও অধরা চার সদস্যের সন্ধান। ফলে ঘটনাকে ঘিরে উৎকণ্ঠা ও রহস্য দুইই ক্রমশ বাড়ছে।

শেষবার যোগাযোগ, তারপরই নিখোঁজ

জানা গিয়েছে, নিখোঁজ পরিবারটির সদস্য ছিলেন তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং এক কিশোরী। শুক্রবার তাঁরা গ্যাংটক থেকে শিলিগুড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে সাড়ে চারটার মধ্যে রাম্বি এলাকার কাছে তাঁদের সঙ্গে শেষবার যোগাযোগ হয়। এরপর হঠাৎ করেই মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং পরিবারের সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। এই ঘটনাই প্রথম উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠে।

তিস্তার বুকে মিলল বড় সূত্র

নিখোঁজের ঘটনার তদন্তে নেমে উদ্ধারকারী দল তিস্তা নদীর মধ্যে পরিবারের ব্যবহৃত কালো রঙের টাটা নেক্সন গাড়িটির অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। গাড়িটি নদীর জলে আটকে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে নদীর প্রবল স্রোত এবং রাতের অন্ধকারের কারণে শনিবার গাড়িটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। রবিবার সকালে ফের উদ্ধার অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ধস ও কাদার স্রোতের কবলে পড়েছিল কি গাড়ি?

শুক্রবার সেভক ও বাঘপুলের মাঝামাঝি ভেলাবাড়ি এলাকায় প্রবল বৃষ্টির জেরে একটি ঝোরার জল হঠাৎ বেড়ে যায়। এর ফলে জাতীয় সড়ক ১০-এর ধারে ধস এবং কাদার স্রোতের সৃষ্টি হয়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, নিখোঁজ পরিবারের গাড়িটি ওই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কবলে পড়ে খাদে বা নদীতে তলিয়ে যেতে পারে। মোবাইল ফোনের শেষ লোকেশনও ওই এলাকার কাছাকাছি পাওয়া গিয়েছে।

উদ্ধার অভিযানে মিলেছে গাড়ির ধ্বংসাবশেষ

তল্লাশি অভিযানের সময় উদ্ধারকারী দল একটি গাড়ির ব্যাটারি এবং বেশ কিছু ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করে। এরপর অনুসন্ধান আরও জোরদার করা হলে নদীর মধ্যে গাড়িটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এই আবিষ্কার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও নিখোঁজ চারজনের খোঁজ না মেলায় উদ্বেগ এখনও কাটেনি।

এনডিআরএফ, সিকিম প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযান

ঘটনার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, সিকিম প্রশাসন এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) যৌথভাবে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। নদীর বিভিন্ন অংশে তল্লাশি, ড্রোন নজরদারি এবং উদ্ধার সরঞ্জাম নিয়ে বিশেষ দল কাজ করছে। নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়ার জন্য সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আত্মীয়দের উৎকণ্ঠা, অপেক্ষায় দুই রাজ্য

একই পরিবারের চার সদস্যের রহস্যজনক অন্তর্ধান উত্তরবঙ্গ এবং সিকিমে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। আত্মীয়-স্বজনরা তাঁদের নিরাপদে ফিরে পাওয়ার আশায় প্রহর গুনছেন। অন্যদিকে উদ্ধারকারী দলও দ্রুত গাড়িটি নদী থেকে তুলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আনার চেষ্টা করছে।

রবিবারের অভিযানের দিকে নজর

রবিবার সকাল থেকেই এনডিআরএফের বিশেষ দল নতুন করে উদ্ধার অভিযান শুরু করবে। নদী থেকে গাড়িটি তোলার পাশাপাশি নিখোঁজ চার সদস্যের সন্ধানেও তল্লাশি চালানো হবে। তদন্তকারীদের আশা, গাড়ি উদ্ধারের পরই এই রহস্যের অনেকটা জট খুলতে পারে।

গ্যাংটক থেকে শিলিগুড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া একই পরিবারের চার সদস্যকে ঘিরে রহস্য আরও গভীর হল। তিস্তা নদীর মধ্যে তাঁদের ব্যবহৃত টাটা নেক্সন গাড়ির অবস্থান শনাক্ত করেছে উদ্ধারকারী দল। তবে এখনও পর্যন্ত চারজনের কোনও খোঁজ মেলেনি। এনডিআরএফ, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং সিকিম প্রশাসন যৌথভাবে উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান চালাচ্ছে।

 

Leave a comment