কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে সুইডেনের সম্পর্কের ইতিহাস বেশ পুরনো। নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর তাঁর সুইডেন যাত্রা নিয়ে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এবার সেই সফরের শতবর্ষকে কেন্দ্র করে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জানা গিয়েছে, নভেম্বর মাসে সুইডেনে যাবে বিশ্বভারতীর দু’টি প্রতিনিধি দল। সুইডেন সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে সেখানে একাধিক সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
রবীন্দ্রনাথের সুইডেন সফরের শতবর্ষ
বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯২৬ সালের আগস্ট মাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুইডেন সফরে গিয়েছিলেন। সেখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন কবিগুরু। তাঁর সেই ঐতিহাসিক সফরের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষেই এবার বিশেষ উদযাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।এই উপলক্ষে শান্তিনিকেতন থেকে সুইডেনে প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কয়েক দিন ধরে চলবে বিভিন্ন কর্মসূচি।
নোবেল পাওয়ার পর কেন সঙ্গে সঙ্গে সুইডেনে যেতে পারেননি রবীন্দ্রনাথ?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। কিন্তু সেই সময় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরিস্থিতির কারণে পুরস্কার পাওয়ার পরও তিনি সুইডেনে গিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি বলে বিশ্বভারতীর তরফে জানানো হয়েছে।পরবর্তী সময়ে সুইডিশ অ্যাকাডেমির আমন্ত্রণে তাঁর সঙ্গে সুইডেনের যোগ আরও দৃঢ় হয়। ১৯২১ সালে নোবেল পুরস্কার গ্রহণের ভাষণও রেকর্ড করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।এরপর ১৯২৬ সালের আগস্টে রবীন্দ্রনাথের সুইডেন সফর বিশেষ গুরুত্ব পায়। সেই সফরের স্মৃতিকে সামনে রেখেই এবার শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি।
নভেম্বরেই সুইডেনে যাবে বিশ্বভারতীর প্রতিনিধি দল
জানা গিয়েছে, পুজোর পর নভেম্বর মাসে বিশ্বভারতী থেকে দু’টি প্রতিনিধি দল সুইডেনে পাঠানো হবে। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য শুধু শতবর্ষ উদযাপন নয়, রবীন্দ্রনাথের চিন্তাভাবনা, শান্তিনিকেতনের শিক্ষা-দর্শন এবং বিশ্বভারতীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা।বিশ্বভারতীর প্রতিনিধিরা সুইডেন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করবেন।
কী কী অনুষ্ঠান হবে সুইডেনে?
শতবর্ষ উদযাপনে একাধিক কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে। তার মধ্যে থাকছে—
রবীন্দ্রসংগীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
কবিতা পাঠ
আলোচনা সভা
শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতী নিয়ে প্রদর্শনী
তথ্যচিত্র প্রদর্শন
রবীন্দ্রনাথের জীবন ও দর্শন নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান
অর্থাৎ, কয়েক দিনের এই আয়োজনের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং শিক্ষাভাবনার নানা দিক সুইডেনের মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সুইডেন সফরের পরই উদ্যোগ?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুইডেন সফরের সময় রবীন্দ্রনাথের ঐতিহাসিক সফরের শতবর্ষ উদযাপন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এরপর বিশ্বভারতীকে এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয় বলে জানা গিয়েছে।বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময়ই এই শতবর্ষ উদযাপনের বিষয়টি নির্ধারিত হয়। এরপর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতীকে অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে জানানো হয়।
বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যও তুলে ধরা হবে
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতী শুধু বাংলার নয়, আন্তর্জাতিক সংস্কৃতি ও শিক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শান্তিনিকেতনকে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।ফলে সুইডেনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শুধু রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিজীবন বা সাহিত্যকর্ম নয়, শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতীর দীর্ঘ সাংস্কৃতিক-শিক্ষাগত ঐতিহ্যও তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার সুযোগ
রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও দর্শনের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। সুইডেনে তাঁর সফরের শতবর্ষ পালন সেই সাংস্কৃতিক যোগাযোগকে আরও দৃঢ় করার একটি সুযোগ বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।বিশ্বভারতীর প্রতিনিধি দল সেখানে রবীন্দ্র-ভাবনা ও শান্তিনিকেতনের সংস্কৃতিকে তুলে ধরার পাশাপাশি সুইডেনের সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক আদানপ্রদানের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সুইডেন সফরের শতবর্ষ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন হতে চলেছে। সেই উপলক্ষে নভেম্বর মাসে সুইডেনে যাবে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’টি প্রতিনিধি দল। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা পাঠ, প্রদর্শনী, তথ্যচিত্র ও আলোচনা সভার মাধ্যমে কবিগুরুর ভাবনা ও শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে।












