এক রেস্তোরাঁ মালিকের মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। তদন্তের সূত্রে উঠে এসেছে মডেল শ্রদ্ধা দুবের নাম। তাঁকে ঘিরে একের পর এক তথ্য সামনে আসছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ফ্ল্যাট থেকে বিতর্কিত ওষুধ উদ্ধারের খবর থেকে শুরু করে প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক—সব মিলিয়ে ঘটনাটি নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। কিন্তু এই তদন্তে ঠিক কী কী তথ্য সামনে এসেছে?
শিব শর্মার হত্যাকাণ্ডে তদন্তের কেন্দ্রে শ্রদ্ধা দুবে
রেস্তোরাঁ মালিক শিব শর্মার হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পলাতক মডেল শ্রদ্ধা দুবেকে খুঁজছে পুলিশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হয়। সংবাদমাধ্যমের দাবি, সেখান থেকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ উদ্ধার হয়েছে, যেগুলিকে যৌনক্ষমতা বৃদ্ধির ওষুধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় শ্রদ্ধা এবং তাঁর বোন রশ্মি ওই ফ্ল্যাটে উপস্থিত ছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্রদ্ধার কল রেকর্ড খতিয়ে দেখে কয়েকজন নির্মাণ ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তির নম্বর পাওয়া গিয়েছে বলে খবর। তবে এই যোগাযোগের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যায়নি।
অযোধ্যার দিকে পালানোর দাবি, তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ
শিব শর্মার মৃত্যুর পর শ্রদ্ধা অযোধ্যার দিকে চলে যান বলে পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁকে খুঁজতে টোল প্লাজার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া দিল্লি থেকে নেপাল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় পুলিশি তৎপরতার কথা উঠে এসেছে। ঘটনায় পাঁচজন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তবে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল বা শ্রদ্ধার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
দশ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে আলাদা হয়ে যান?
শ্রদ্ধা দুবের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তাঁর আগে বিয়ে হয়েছিল এবং তাঁর একটি সন্তান রয়েছে। প্রথম স্বামী প্রিন্স দুবের সঙ্গে তিনি উত্তরপ্রদেশের রায়বেরেলিতে থাকতেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় দশ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে সংসার ছেড়ে লখনউতে চলে যান শ্রদ্ধা। লখনউতে মডেলিং শুরু করার পিছনে আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। রায়বেরেলিতে থাকা নিয়ে স্বামীর সঙ্গে তাঁর মতবিরোধও হত বলে উল্লেখ রয়েছে।
তবে ব্যক্তিগত সম্পর্কের এই বিবরণগুলি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি ছাড়া এগুলিকে চূড়ান্ত সত্য বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে নানা দাবি
শ্রদ্ধার বিরুদ্ধে কয়েকজনের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় এবং ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টি করার মতো অভিযোগও বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। ‘দৈনিক জাগরণ’-এর প্রতিবেদনের উল্লেখ করে এই দাবিগুলি সামনে আনা হয়েছে।
তবে অভিযোগগুলির সত্যতা নিশ্চিত হয়নি বলে মূল প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে তদন্তের তথ্য, পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং যাচাই না হওয়া অভিযোগের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি। কোনও অভিযোগ ওঠা মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অপরাধ করেছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।
রেস্তোরাঁ মালিক শিব শর্মার হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন পলাতক মডেল শ্রদ্ধা দুবে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর ফ্ল্যাট থেকে যৌনক্ষমতা বৃদ্ধির ওষুধ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তে তাঁর অতীত জীবন, বিবাহিত সম্পর্ক এবং ফোনের কল রেকর্ড নিয়েও খোঁজখবর চলছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগের সত্যতা এখনও নিশ্চিত নয়।











