আমগাছে আগামী মরশুমে বেশি ফলন চান? বর্ষা শেষেই করুন এই ২ জরুরি কাজ, গাছ থাকবে সতেজ ও রোগমুক্ত

পরের মরশুমে আমগাছে ভালো ফলন পেতে বর্ষার পর জল নিষ্কাশন, ডাল ছাঁটাই, মাটি পরীক্ষা করে সার দেওয়া ও রোগ প্রতিরোধের সহজ নিয়ম জেনে নিন।

আমের মরশুম শেষ মানেই আমগাছের যত্নে অবহেলা করার সময় নয়। বরং বর্ষা বিদায় নেওয়ার পরের সময়টাই পরবর্তী মরশুমের জন্য গাছকে প্রস্তুত করার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। এই সময়ে মাটিতে অতিরিক্ত জল জমে থাকা, গাছের কাণ্ডে রোগের লক্ষণ এবং শুকনো ডালপালা অবহেলা করলে গাছের স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়তে পারে। তাই এখন থেকেই কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললে আমগাছের বৃদ্ধি ভালো রাখা এবং আগামী মরশুমে ফলনের সম্ভাবনা বাড়ানো সম্ভব।

গাছের গোড়ায় জল জমতে দেবেন না

বর্ষার পর আমগাছের গোড়ায় জল জমে থাকলে শিকড়ের ক্ষতি এবং কিছু রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই গাছের চারপাশের মাটি ও নিকাশি ব্যবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করুন। যেখানে জল দাঁড়িয়ে থাকে, সেখানে উপযুক্ত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করুন।

গাছের কাণ্ডেও নজর রাখা জরুরি। বাকলে অস্বাভাবিক দাগ, পচন বা অন্য কোনও পরিবর্তন চোখে পড়লে দ্রুত কৃষি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। কাণ্ডে চুন বা কপার সালফেটযুক্ত দ্রবণ লাগানোর আগে বিশেষজ্ঞের নির্দেশ মেনে চলুন। ভুল মাত্রায় রাসায়নিক ব্যবহার করলে গাছের ক্ষতি হতে পারে।

শুকনো ও রোগাক্রান্ত ডাল ছেঁটে দিন

বর্ষার পরে আমগাছের ডালপালা ভালো করে পরীক্ষা করুন। শুকনো, ভাঙা, রোগাক্রান্ত এবং একে অপরের সঙ্গে ঘষা লাগে এমন ডাল প্রয়োজন অনুযায়ী ছেঁটে দিন। মাটির দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকে থাকা ডালও পরিস্থিতি বুঝে সরানো যেতে পারে।

এই কাজের ফলে গাছের ভিতরে আলো ও বাতাস চলাচলের সুযোগ বাড়ে এবং রোগাক্রান্ত অংশ সরানো সহজ হয়। ছাঁটাইয়ের সময় পরিষ্কার ও ধারালো সরঞ্জাম ব্যবহার করুন। তবে অতিরিক্ত ডাল কেটে ফেলবেন না। গাছের আকার ও অবস্থা বুঝে ছাঁটাই করাই ভালো।

মাটি পরীক্ষা করে সার দেওয়াও জরুরি

আমগাছের ভালো বৃদ্ধি এবং ফলনের জন্য সুষম পুষ্টি প্রয়োজন। তাই আন্দাজে বেশি সার না দিয়ে সম্ভব হলে আগে মাটি পরীক্ষা করিয়ে নিন। মাটির অবস্থা অনুযায়ী ভালোভাবে পচানো গোবর সার বা ভার্মিকম্পোস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।

মাটিতে জিঙ্ক, বোরন, ম্যাগনেসিয়াম বা পটাশের ঘাটতি থাকলে কৃষি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত সার প্রয়োগ করুন। সার দেওয়ার পর মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে দিন এবং গাছের প্রয়োজন বুঝে সেচ দিন। অতিরিক্ত সার গাছের উপকারের বদলে ক্ষতিও করতে পারে।

রোগের লক্ষণ দেখলেই ব্যবস্থা নিন

বর্ষার পর আর্দ্র পরিবেশে আমগাছে বিভিন্ন ছত্রাকজনিত রোগ দেখা দিতে পারে। তাই কাণ্ড, পাতা ও ডালপালা নিয়মিত পরীক্ষা করুন। পাতায় অস্বাভাবিক দাগ, ডালে পচন বা গাছের কোনও অংশ শুকিয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা করবেন না।

রোগের কারণ নিশ্চিত না হয়ে নিজের মতো করে কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা ঠিক নয়। প্রয়োজনে স্থানীয় কৃষি দফতর বা উদ্যান বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

পরের মরশুমে ভালো ফলনের প্রস্তুতি এখন থেকেই

আমগাছের পরিচর্যা শুধু সার দেওয়া বা ডাল ছাঁটার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গাছের গোড়া পরিষ্কার রাখা, জল বেরোনোর ব্যবস্থা ঠিক রাখা, প্রয়োজন অনুযায়ী পুষ্টি জোগানো এবং রোগের লক্ষণ পর্যবেক্ষণ—সবকিছুর উপর নজর দিতে হবে।

একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, আমগাছে কতটা ফুল আসবে এবং কত ফল ধরবে, তা গাছের জাত, বয়স, আগের মরশুমের ফলন, আবহাওয়া ও পরিচর্যার মতো একাধিক বিষয়ের উপর নির্ভর করে। তাই কোনও একটি পদ্ধতিতেই বাম্পার ফলনের নিশ্চয়তা নেই।

বাড়ির উঠোনে হোক বা বড় আমবাগানে, পরের মরশুমে ভালো ফলন পেতে বর্ষা শেষ হওয়ার পর থেকেই গাছের যত্ন নেওয়া জরুরি। জল জমতে না দেওয়া, শুকনো ও রোগাক্রান্ত ডাল ছাঁটা, মাটি পরীক্ষা করে সার দেওয়া এবং ছত্রাকের লক্ষণ নজরে রাখার মতো কয়েকটি পদক্ষেপ আমগাছকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তবে শুধু এই কাজগুলি করলেই রেকর্ড ফলন নিশ্চিত হয় না—গাছের বয়স, জাত, আবহাওয়া ও পরিচর্যার উপরও ফলন নির্ভর করে।

Leave a comment