শ্রাবণী মেলা মানেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিবভক্তদের বিশাল সমাগম। এই বিপুল ভিড়ের চাপ সামলাতে এবার একাধিক বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল পূর্ব রেলের মালদহ ডিভিশন। রেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেলা উপলক্ষে প্রায় ১৭.৩৫ লক্ষ পুণ্যার্থীর যাতায়াত হয়েছে সুলতানগঞ্জ স্টেশন দিয়ে। গত বছরের তুলনায় সংখ্যাটিও বেড়েছে প্রায় ২.৫ লক্ষ।
১৭.৩৫ লক্ষ পুণ্যার্থীর যাতায়াত
৩০ জুলাই থেকে ২৮ অগস্ট পর্যন্ত শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে সুলতানগঞ্জ স্টেশনে ছিল পুণ্যার্থীদের ব্যাপক ভিড়। বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, অসম-সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে কানওয়ারিয়ারা এই পথে যাতায়াত করেন।রেল সূত্রে খবর, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় এবার সুলতানগঞ্জ দিয়ে প্রায় ২.৫ লক্ষ বেশি পুণ্যার্থী যাতায়াত করেছেন।
৯৫০ জোড়া ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা
ভিড় সামলাতে মেলা চলাকালীন মোট ৯৫০ জোড়া ট্রেন পরিষেবা পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে ছিল—
৫৪৯টি মেল ও এক্সপ্রেস স্পেশ্যাল
২২৫টি TOD স্পেশ্যাল
১৭৬টি প্যাসেঞ্জার স্পেশ্যাল
পাশাপাশি নির্বাচিত নিয়মিত ট্রেনে অতিরিক্ত জেনারেল সেকেন্ড ক্লাস কোচ যুক্ত করা হয়, যাতে অসংরক্ষিত যাত্রীদের চাপ কিছুটা কমানো যায়।
সুলতানগঞ্জে বাড়ানো হয় ট্রেনের স্টপেজ
পুণ্যার্থীদের ওঠানামার সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি ট্রেনকে সুলতানগঞ্জ স্টেশনে অতিরিক্ত ৫ মিনিট দাঁড় করানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এর ফলে প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যেও যাত্রীদের ট্রেনে ওঠা-নামার জন্য কিছুটা বাড়তি সময় পাওয়া যায়।
হাঁসডিহা ও ননিহাটেও বিপুল ভিড়
শুধু সুলতানগঞ্জ নয়, মালদহ ডিভিশনের আওতাধীন অন্যান্য স্টেশনেও কানওয়ারিয়াদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল।রেলের তথ্য অনুযায়ী, হাঁসডিহা স্টেশনে ৭৫ হাজারের বেশি এবং ননিহাট ভাটুরিয়া স্টেশনে ৬০ হাজারের বেশি কানওয়ারিয়ার যাতায়াত হয়েছে।
পানীয় জল থেকে পথনির্দেশ—স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয়তা
বিপুল ভিড়ের মধ্যে পুণ্যার্থীদের সাহায্য করতে মালদহ ডিভিশনের স্কাউটস অ্যান্ড গাইডস দলও মাঠে নামে। তাঁদের তরফে পানীয় জল দেওয়া, যাত্রীদের পথ দেখানো এবং প্রবীণ ও মহিলা যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হয়।পাশাপাশি রেল নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে যাত্রীদের সচেতন করার কাজও চালানো হয়। এই কাজে সুলতানগঞ্জের মারওয়ারি যুব মঞ্চের স্বেচ্ছাসেবকরাও সহযোগিতা করেন।
পরিচ্ছন্নতার দিকেও বিশেষ নজর
শ্রাবণী মেলার মতো বড় ধর্মীয় সমাবেশে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা রেলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই বিষয়টিও মাথায় রেখে সুলতানগঞ্জ স্টেশনে ১৩৩টি টুইন-বিন ডাস্টবিন বসানো হয়েছিল।মেলা চলাকালীন সেখানে প্রায় ৬.১ টন বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে বলে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রায় ২০ হাজার কানওয়ারিয়াকে চিকিৎসা সহায়তা
মেলার সময়ে স্বাস্থ্য পরিষেবার উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ২০ হাজার কানওয়ারিয়াকে চিকিৎসা পরিষেবা বা প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে।অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে দ্রুত অসংরক্ষিত টিকিট কাটার সুবিধার জন্য বাড়তি M-UTS পরিষেবাও চালু করা হয়।
সমন্বিত ব্যবস্থাপনাতেই সাফল্য
মালদহ ডিভিশনের ডিআরএম মনীশ কুমার গুপ্তার বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রেন চলাচল, নিরাপত্তা, চিকিৎসা, টিকিটিং, পরিচ্ছন্নতা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিয়মিত নজরদারি করা হয়েছে। রেলকর্মী, নিরাপত্তারক্ষী, চিকিৎসাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টায় মেলা চলাকালীন পরিষেবা সচল রাখা সম্ভব হয়েছে।
শ্রাবণী মেলা ২০২৬-কে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক কানওয়ারিয়া ও পুণ্যার্থীর যাতায়াত সামলাতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছিল পূর্ব রেলের মালদহ ডিভিশন। ৩০ জুলাই থেকে ২৮ অগস্ট পর্যন্ত সুলতানগঞ্জ স্টেশন দিয়ে প্রায় ১৭.৩৫ লক্ষ পুণ্যার্থী যাতায়াত করেছেন বলে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে। অতিরিক্ত ট্রেন, বাড়তি কোচ, চিকিৎসা পরিষেবা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচ্ছন্নতার মতো একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।




