আবাস যোজনায় অযোগ্য হয়েও মিলেছে টাকা! প্রায় সাড়ে ১২ হাজার উপভোক্তাকে আইনি নোটিস, কড়া বার্তা দিলেন দিলীপ ঘোষ

আবাস যোজনায় অযোগ্য হয়েও সরকারি টাকা নেওয়ার অভিযোগে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার উপভোক্তাকে আইনি নোটিস। টাকা ফেরত ও অনিয়ম নিয়ে কী বললেন দিলীপ ঘোষ, জানুন।

সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতা যাচাই নিয়ে বড়সড় পদক্ষেপের কথা জানাল রাজ্য। মালদহ সফরে গিয়ে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের দাবি, আবাস যোজনায় অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হওয়া প্রায় সাড়ে ১২ হাজার ব্যক্তিকে ইতিমধ্যেই সরকারি টাকা ফেরতের জন্য আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

আবাস যোজনায় অযোগ্য হয়েও মিলেছে টাকা! প্রায় সাড়ে ১২ হাজার উপভোক্তাকে আইনি নোটিস, কড়া বার্তা দিলেন দিলীপ ঘোষ
প্রায় ৩০ লক্ষ নাম নিয়ে শুরু হয়েছিল তালিকা

দিলীপ ঘোষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০ লক্ষ উপভোক্তার নামের তালিকা তৈরি হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ১২ লক্ষ মানুষ প্রকল্পের সম্পূর্ণ অর্থ পেয়েছেন। আরও প্রায় সাড়ে ১৮ লক্ষ উপভোক্তা প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছেন বলে তাঁর দাবি।অন্যদিকে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা এখনও পর্যন্ত প্রায় ১০ লক্ষ ২০ হাজার উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

যাচাইয়ের পর বাদ প্রায় ৭০ হাজার

প্রকল্পের উপভোক্তাদের যোগ্যতা যাচাই করতে গিয়ে প্রায় ৭০ হাজার ব্যক্তিকে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁদের মধ্যে যাঁরা ইতিমধ্যে সরকারি অর্থ পেয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকে সেই টাকা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।মন্ত্রী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই প্রায় এক হাজার অযোগ্য উপভোক্তা টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ কিস্তিতে টাকা ফেরত দেওয়াও শুরু করেছেন বলে দাবি তাঁর।

আবাস যোজনায় অযোগ্য হয়েও মিলেছে টাকা! প্রায় সাড়ে ১২ হাজার উপভোক্তাকে আইনি নোটিস, কড়া বার্তা দিলেন দিলীপ ঘোষ
অযোগ্য উপভোক্তাদের তালিকায় ‘ডি-ভোটার’ প্রসঙ্গ

দিলীপ ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিতদের মধ্যে বেশ কিছু ‘ডি-ভোটার’-এর নামও রয়েছে। সরকারি নথি যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।তবে প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে কোনও ব্যক্তির ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সরকারি যাচাই ও নথির ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।

আবাস যোজনার টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

মালদহের বিভিন্ন ব্লকে আবাস যোজনার অর্থ বণ্টন নিয়ে অতীতেও অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। কোথাও প্রকৃত উপভোক্তার পরিবর্তে অন্যের অ্যাকাউন্টে টাকা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, আবার কোথাও ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা চাওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে।এই ধরনের অভিযোগে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন প্রকৃত উপভোক্তাদের একাংশ। বিষয়গুলি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে তদন্তও হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

আবাস যোজনায় অযোগ্য হয়েও মিলেছে টাকা! প্রায় সাড়ে ১২ হাজার উপভোক্তাকে আইনি নোটিস, কড়া বার্তা দিলেন দিলীপ ঘোষ
ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা নিলে কড়া ব্যবস্থা

দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট করেছেন, আবাস যোজনায় ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে উপভোক্তাদের কাছ থেকে কেউ টাকা নিয়ে থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থাৎ প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে দালালচক্র বা অনিয়মের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার বার্তা দিয়েছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী।

রাজনৈতিক প্রসঙ্গেও সরব দিলীপ

মালদহে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় আবাস যোজনা ছাড়াও রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন বক্তব্য, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ, আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার প্রসঙ্গ এবং রাজনৈতিকভাবে ফের ক্ষমতায় ফেরার চ্যালেঞ্জ নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি।

আবাস যোজনায় অযোগ্য হয়েও মিলেছে টাকা! প্রায় সাড়ে ১২ হাজার উপভোক্তাকে আইনি নোটিস, কড়া বার্তা দিলেন দিলীপ ঘোষ
আবাস যোজনায় অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও সরকারি অর্থ নেওয়ার অভিযোগে এবার কড়া পদক্ষেপের পথে রাজ্য সরকার। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই প্রায় সাড়ে ১২ হাজার অযোগ্য উপভোক্তাকে টাকা ফেরতের জন্য আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। আগামী দিনে আরও এমন উপভোক্তাকে নোটিস পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

Leave a comment