ক্রিকেটে সময়ই শেষ কথা বলে। একসময় যাঁকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, যাঁর নেতৃত্বের কৃতিত্ব নিয়েও বিতর্ক হয়েছিল, সেই শ্রেয়স আইয়ারই আজ ভারতের টি-২০ দলের অধিনায়ক। আইপিএলে সাফল্য, দলবদল, জাতীয় দলে উপেক্ষা এবং অবশেষে নির্বাচকদের আস্থা—সব মিলিয়ে শ্রেয়সের এই যাত্রাপথ যেন এক অনুপ্রেরণার গল্প।
কেকেআরে শুরু বিতর্কের অধ্যায়
কলকাতা নাইট রাইডার্সকে দীর্ঘ এক দশক পর আইপিএল চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন শ্রেয়স আইয়ার। কিন্তু সেই সাফল্যের পরেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নেতৃত্বের কৃতিত্ব নিয়ে বিতর্ক। সে সময় কেকেআরের মেন্টর ছিলেন গৌতম গম্ভীর। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে শ্রেয়স ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, দলের কৌশলগত আলোচনায় তাঁকে সবসময় গুরুত্ব দেওয়া হত না। সেই মন্তব্যের পর থেকেই ক্রিকেটমহলে গম্ভীর-শ্রেয়স সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়।
কলকাতা ছেড়ে নতুন চ্যালেঞ্জ
আইপিএল নিলামের আগে কেকেআরের সঙ্গে শ্রেয়সের সম্পর্ক কার্যত শেষ হয়ে যায়। পরবর্তীতে পঞ্জাব কিংস তাঁকে রেকর্ড অঙ্কের অর্থে দলে নেয়। নতুন দলের নেতৃত্ব হাতে পেয়েই শ্রেয়স নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন। প্রথম মরশুমেই দলকে ফাইনালে তোলেন তিনি। যদিও শিরোপা জেতা হয়নি, তবুও তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
জাতীয় দলে উপেক্ষা নিয়ে বাড়ছিল প্রশ্ন
ঘরোয়া ক্রিকেট এবং আইপিএলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স সত্ত্বেও জাতীয় দলের টি-২০ পরিকল্পনায় দীর্ঘদিন জায়গা পাচ্ছিলেন না শ্রেয়স। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের দল থেকেও তাঁর নাম বাদ পড়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অনেকেই মনে করেছিলেন, অতীতের কিছু সম্পর্কের টানাপোড়েন তাঁর সুযোগ পাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচকদের আস্থা বদলে দিল সমীকরণ
তবে শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটীয় যুক্তিই জিতেছে। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং ম্যাচ পরিস্থিতি সামলানোর দক্ষতা নির্বাচকদের নজর কেড়েছে। জানা গিয়েছে, নির্বাচক কমিটির প্রধান অজিত আগরকার টি-২০ দলের নেতৃত্বের জন্য শ্রেয়স আইয়ারের নামকে জোরালোভাবে সমর্থন করেন। পরে সেই সিদ্ধান্তে সম্মতি আসে টিম ম্যানেজমেন্টের তরফেও।
ভারতের অধিনায়ক হিসেবে নতুন অধ্যায়
ভারতের টি-২০ দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া শ্রেয়সের কেরিয়ারের অন্যতম বড় মাইলফলক। এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দলকে সফলভাবে নেতৃত্ব দেওয়া এবং নিজের ব্যাটিং ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। সমালোচনা, বিতর্ক ও উপেক্ষা পেরিয়ে তিনি যে লড়াই করে এই জায়গায় পৌঁছেছেন, তা তরুণ ক্রিকেটারদের কাছেও বড় শিক্ষা হয়ে থাকবে।
একসময় আইপিএলে নেতৃত্ব দিলেও জাতীয় দলের দরজা যেন বারবার বন্ধ হচ্ছিল শ্রেয়স আইয়ারের সামনে। কেকেআরে থাকাকালীন গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে মতপার্থক্য এবং নেতৃত্বের ভূমিকাকে ঘিরে বিতর্কও কম হয়নি। তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবার ভারতের টি-২০ দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব পেলেন এই মুম্বইকর ব্যাটার। কীভাবে বিতর্ক থেকে নেতৃত্বের মঞ্চে পৌঁছলেন শ্রেয়স, সেটাই এখন ক্রিকেটমহলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।









