শহরের কোথায় সাফাই গাড়ি গেল, কতক্ষণ কাজ করল, নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছল কি না—এবার থেকে এসবের উপরই থাকবে নজর। শিলিগুড়ির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক করতে যুক্ত হল ১২টি GPS ট্র্যাকিং-যুক্ত সাফাই গাড়ি। বুধবার বাঘাযতীন পার্কে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’ কর্মসূচির মঞ্চ থেকে গাড়িগুলির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রায় ৪ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে রাজ্য সরকারের পুর ও নগর উন্নয়ন দফতরের বিশেষ বরাদ্দে এই গাড়িগুলি পুরনিগমের হাতে এসেছে।

GPS-এ ধরা পড়বে সাফাই গাড়ির গতিবিধি
নতুন ব্যবস্থার অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল GPS ট্র্যাকিং প্রযুক্তি। এর সাহায্যে প্রতিটি সাফাই গাড়ি কোন এলাকায় রয়েছে, নির্ধারিত জায়গায় পৌঁছেছে কি না এবং সময়মতো কাজ করছে কি না, তা নজরে রাখা সম্ভব হবে।এর ফলে সাফাই পরিষেবায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মীদের কাজের ক্ষেত্রে জবাবদিহিও বাড়বে বলে প্রশাসনের আশা। কোনও এলাকায় নির্ধারিত পরিষেবা পৌঁছতে দেরি হলে তার কারণ খতিয়ে দেখাও তুলনামূলকভাবে সহজ হবে।
শুধু গাড়ি নয়, বদলাচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও
শহরে বাড়তি সাফাই গাড়ি নামানোই এই উদ্যোগের একমাত্র লক্ষ্য নয়। বাড়ি, দোকান এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়ম মেনে বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থাকেও আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।শিলিগুড়ির বিভিন্ন প্রান্তে দীর্ঘদিন ধরে যত্রতত্র আবর্জনা পড়ে থাকা কিংবা সময়মতো তা পরিষ্কার না হওয়ার মতো সমস্যার মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
রাস্তায় ময়লা ফেললে এবার কড়া ব্যবস্থা
শহর পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকদের ভূমিকাতেও জোর দেওয়া হচ্ছে। রাস্তায়, ফুটপাথে কিংবা খোলা জায়গায় নিয়ম না মেনে আবর্জনা ফেললে জরিমানা এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার উপর নজর বাড়ানো হবে।অর্থাৎ শুধু পুরনিগমের সাফাই কর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেই হবে না, নাগরিকদেরও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বর্জ্য ফেলতে হবে। শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এই দু'দিকেই একসঙ্গে নজর দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পর্যটনমন্ত্রীর বার্তা, শহর পরিষ্কার রাখা সবার দায়িত্ব
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, একটি শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা শুধুমাত্র পুর প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, নাগরিকদেরও সমান দায়িত্ব রয়েছে।তাঁর মতে, আধুনিক গাড়ি এবং প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় সাফাই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। তবে নতুন গাড়িগুলির যথাযথ ব্যবহার, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রতিটি এলাকায় নির্ধারিত সময়ে পরিষেবা পৌঁছচ্ছে কি না, সেদিকেও কড়া নজর রাখা প্রয়োজন।

কোন কোন বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে?
শিলিগুড়ির নতুন সাফাই পরিকল্পনায় মূলত চারটি বিষয়কে সামনে রাখা হয়েছে—GPS-এর মাধ্যমে সাফাই গাড়ির গতিবিধি নজরে রাখাশহরে বাড়তি বর্জ্য সংগ্রহের গাড়ি নামানোবাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহযত্রতত্র ময়লা ফেলার বিরুদ্ধে জরিমানা ও আইনানুগ পদক্ষেপনতুন গাড়িগুলিকে ইতিমধ্যেই শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিষেবায় নামানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

শিলিগুড়ি শহরকে আরও পরিষ্কার ও আধুনিকভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ করল শিলিগুড়ি পুরনিগম। প্রায় ৪ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১২টি নতুন GPS-যুক্ত বর্জ্য সংগ্রহের গাড়ি চালু করা হল। গাড়িগুলির গতিবিধি প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরে রাখার পাশাপাশি যত্রতত্র ময়লা ফেলার বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।










