দুর্গাপুজোয় শিলিগুড়ির রাস্তায় বাড়ে মানুষের ভিড়, আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে যানজটের আশঙ্কা। তাই উৎসবের মরশুমে শহরের ট্র্যাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এবার একাধিক পদক্ষেপ করেছে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট। টোটো চলাচলে নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে বড় গাড়ির প্রবেশ, পার্কিং এবং নজরদারি—সব ক্ষেত্রেই থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা।

পুজোয় প্রধান রাস্তায় টোটো চলাচল বন্ধ
পুজোর দিনগুলিতে শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণের অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত হল টোটো চলাচলে নিষেধাজ্ঞা। বিশেষ করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত রাস্তাগুলিতে টোটো চলাচল বন্ধ রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।একই সঙ্গে চারচাকা ও বড় গাড়ির চলাচলেও নির্দিষ্ট নিয়ম থাকবে। মূল রাস্তায় চলাচলের অনুমতি থাকলেও অলি-গলির ভিতরে বড় গাড়ি ঢোকার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় পার্কিংয়েও কড়া নজর
পুজোর সময়ে রাস্তার ধারে গাড়ি রেখে দিলে অল্প সময়ের মধ্যেই যানজট তৈরি হতে পারে। তাই শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিকে যানজটমুক্ত রাখতে সেখানে পার্কিংয়ের অনুমতি থাকবে না।প্রয়োজনে ট্র্যাফিক পুলিশ গাড়ি সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারে।
বাইরে থেকে আসছে অতিরিক্ত পুলিশ
শুধু ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ নয়, পুজোর নিরাপত্তাতেও জোর দেওয়া হচ্ছে। বাইরে থেকে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী আনার পরিকল্পনা রয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সাদা পোশাকের পুলিশ ও মহিলা পুলিশ কর্মীদের মোতায়েন করা হবে।কোনও জায়গায় বিশৃঙ্খলা, মদের আসর বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

ড্রোনে নজরদারি, রাতভর পুলিশ পেট্রোলিং
যে এলাকাগুলিতে পুজোর সময়ে ব্যাপক ভিড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা বিভাগের নজরদারিও থাকবে।রাতের নিরাপত্তা জোরদার করতে বিভিন্ন এলাকায় চলবে পুলিশ পেট্রোলিং। ফলে পুজোর ভিড়ের পাশাপাশি অপরাধমূলক কার্যকলাপ ঠেকাতেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
অনলাইনে জমা পড়েছে ৮৪০টি পুজোর আবেদন
পুলিশ কমিশনারেট সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত অনলাইনে ৮৪০টি পুজোর আবেদন জমা পড়েছে। শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় পুজোর আয়োজন হওয়ায় কোথায় কতটা ভিড় হতে পারে, সেই অনুযায়ী নিরাপত্তা ও ট্র্যাফিক পরিকল্পনা করা হচ্ছে।শিলিগুড়ির ভৌগোলিক অবস্থানও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও নেপাল সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় এবার BSF এবং SSB-এর সঙ্গে সমন্বয় রেখেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিসর্জনেও থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা
বিসর্জনের সময়ও যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সে বিষয়েও প্রস্তুতি চলছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী ক্রেন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে শিলিগুড়ি পুরনিগমের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।
থাকবে পুলিশ অ্যাসিস্ট্যান্ট বুথ ও শৌচালয়
পুজোর সময়ে সাধারণ মানুষের সাহায্যের জন্য বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ অ্যাসিস্ট্যান্ট বুথ রাখা হবে। পাশাপাশি পুজো কমিটি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় জায়গায় শৌচালয়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের কথা মাথায় রেখেই টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণ-সহ একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট নিয়েও সতর্কবার্তা
পুলিশের তরফে সাধারণ মানুষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পুজোর সময়ে বেড়াতে গিয়ে বাড়ি খালি রেখে গেলে সেই তথ্য বা বাড়ির অবস্থান সংক্রান্ত বিষয় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।পুলিশের আশঙ্কা, এই ধরনের পোস্ট দেখে দুষ্কৃতীরা চুরির সুযোগ নিতে পারে। তাই পুজোর আনন্দের পাশাপাশি ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।

দুর্গাপুজোর ভিড় ও যানজট নিয়ন্ত্রণে শিলিগুড়িতে একাধিক নতুন ট্র্যাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুজোর দিনগুলিতে শহরের প্রধান রাস্তায় টোটো চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। অলিগলিতে বড় গাড়ি ঢোকাতেও নিয়ন্ত্রণ থাকবে। পাশাপাশি বেআইনি পার্কিং রুখতে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে বিশেষ নজরদারি চালাবে পুলিশ।











