মূল্যবান ধাতুর আমদানিতে নজরদারি আরও কড়া করল কেন্দ্র সরকার। সোনা আমদানির পর এবার রুপো আমদানির ক্ষেত্রেও বড়সড় বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের রুপো আমদানির আগে সরকারের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। এই সিদ্ধান্তের ফলে আমদানিকারকদের উপর বাড়বে নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি।

কোন কোন রুপোর আমদানিতে কড়াকড়ি?
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এবার থেকে নিচের রুপো আমদানির ক্ষেত্রে ‘রেস্ট্রিকটেড’ নীতি কার্যকর হবে—
৯৯.৯ শতাংশ বিশুদ্ধ সিলভার বার
অপরিশোধিত রুপো
অর্ধ-প্রস্তুত রুপো
সিলভার পাউডার বা ডাস্ট সিলভার
অর্থাৎ, এখন আর আগের মতো সহজে এই ধরনের রুপো আমদানি করা যাবে না। প্রতিটি চালানের জন্য সরকারি অনুমোদন লাগবে।
‘ফ্রি’ থেকে ‘রেস্ট্রিকটেড’ বিভাগে স্থানান্তর
এতদিন পর্যন্ত এই ধরনের রুপো “ফ্রি ইমপোর্ট” বিভাগের আওতায় ছিল। ফলে সাধারণ নিয়ম মেনেই আমদানিকারকরা রুপো দেশে আনতে পারতেন।
তবে নতুন নীতিতে এগুলিকে “রেস্ট্রিকটেড” বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছে। ফলে এখন আমদানির আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে গেল।

আমদানি নীতিতে কী পরিবর্তন আনা হয়েছে?
আইটিসি (HS) শ্রেণিবিন্যাসের আওতায় আমদানি নীতির তফসিলে সংশোধন এনে এই পরিবর্তন কার্যকর করা হয়েছে।সরকারের দাবি, রুপোর সরবরাহ শৃঙ্খলে আরও কড়া নিয়ন্ত্রণ আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিল্পক্ষেত্র ও বিনিয়োগের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের রুপোও এই নতুন নিয়মের আওতায় এসেছে।
RBI-র নজরদারিও বাড়ছে
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু রুপো আমদানির ক্ষেত্রে এখন Reserve Bank of India-এর নিয়মও প্রযোজ্য হবে।এর ফলে আমদানিকারকদের শুধু সরকারি অনুমোদনই নয়, আর্থিক ও কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত অতিরিক্ত নিয়মও মানতে হবে।
কেন এই সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্যবান ধাতুর আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের বাড়তে থাকা আমদানি ব্যয় কমানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।এর আগেও কেন্দ্র সরকার সোনা ও রুপোর উপর আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছিল। পাশাপাশি ডিউটি-ফ্রি সোনা আমদানির ক্ষেত্রেও নিয়ম কড়া করা হয়েছে।

অ্যাডভান্স অথরাইজেশন স্কিমেও কড়াকড়ি
Directorate General of Foreign Trade ইতিমধ্যেই অ্যাডভান্স অথরাইজেশন (AA) প্রকল্পের নিয়ম কঠোর করেছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী—
প্রতি লাইসেন্সে সর্বোচ্চ ১০০ কেজি সোনা আমদানির অনুমতি
প্রথমবার আবেদনকারীদের উৎপাদন কেন্দ্রের সরেজমিন পরিদর্শন বাধ্যতামূলক
পুনরাবৃত্ত আবেদনকারীদের জন্য কঠোর রিপোর্টিং নিয়ম
চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট সার্টিফিকেশন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা
ব্যবসায়ীদের উপর কী প্রভাব পড়তে পারে?
নতুন নিয়মের ফলে রুপো আমদানির প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক বেশি সময়সাপেক্ষ হতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।বিশেষ করে গয়না শিল্প, শিল্পকারখানা এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত ব্যবসায় এর প্রভাব পড়তে পারে। আমদানির খরচ ও প্রশাসনিক জটিলতাও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রুপো আমদানির ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৯৯.৯ শতাংশ বিশুদ্ধ রুপোর বার, অপরিশোধিত রুপো, আধা-প্রস্তুত রুপো এবং সিলভার পাউডার আমদানির ক্ষেত্রে আর ‘ফ্রি’ নীতি থাকবে না। এখন থেকে এসব আমদানির জন্য বাধ্যতামূলক সরকারি অনুমোদন লাগবে। ইতিমধ্যেই সংশোধিত নিয়ম কার্যকর হয়েছে।












