বছরের শেষ দিনে বাজার খুলতেই বিনিয়োগকারীদের কপালে ভাঁজ। মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) রুপোর দামে এক ধাক্কায় প্রায় ৬ শতাংশ পতন। সঙ্গে সঙ্গেই নেমেছে সোনা ও প্ল্যাটিনামের দামও। বিশেষজ্ঞদের মতে, রেকর্ড উচ্চতার পর ব্যাপক লাভ বুকিংই এই পতনের মূল কারণ।
দেশের বাজারে বড় ধস রুপোর দামে
৩১ ডিসেম্বর, বুধবার দেশের মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে রুপোর দাম কমেছে প্রায় ১৫ হাজার ৬০ টাকা। এই পতনের পরে প্রতি কেজি রুপোর দাম দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ৩৫ হাজার ৯৫২ টাকা। একদিনে এত বড় দরপতন দীর্ঘদিনের মধ্যে বিরল বলেই মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
সোনার দরেও টান, ১০ গ্রামে কত?
রুপোর পাশাপাশি সোনার দামেও চাপ দেখা গিয়েছে। এমসিএক্সে ০.৪০ শতাংশ কমে ১০ গ্রাম সোনার দাম হয়েছে ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ১২৪ টাকা। সম্প্রতি সোনা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছনোর পরেই দরপতনের এই ছবি সামনে এল।
আন্তর্জাতিক বাজারেও পতনের ছাপ
শুধু দেশীয় বাজার নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও রুপোর দামে বড় পতন। কমেক্স মার্কেটে রুপোর প্রতি আউন্সের দাম বুধবার প্রায় ৭ শতাংশ কমে ৭২ ডলারে নেমে এসেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত সোমবার অর্থাৎ ২৯ ডিসেম্বর রুপো তৈরি করেছিল নতুন রেকর্ড—প্রতি আউন্সের দাম পৌঁছেছিল ৮৩.৬২ ডলারে। মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে সেই উচ্চতা থেকে অনেকটাই নেমেছে দাম।
প্ল্যাটিনামেও বড়সড় চাপ
আন্তর্জাতিক বাজারে প্ল্যাটিনামের দামও কমেছে চোখে পড়ার মতো। স্পট প্ল্যাটিনামের প্রতি আউন্সের দাম ৩.৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১২৩ ডলার। পাশাপাশি স্পট গোল্ডের দামও ০.৩০ শতাংশ কমে হয়েছে ৪ হাজার ৩৩৪ ডলার প্রতি আউন্স।
কেন এই পতন? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৫ সালে সোনা, রুপো ও প্ল্যাটিনামের দাম একের পর এক রেকর্ড ছুঁয়েছে। সেই কারণেই বছরের শেষে বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক প্রফিট বুকিংয়ে নেমেছেন। তার জেরেই আচমকা এই দরপতন।
তবু বছরে রিটার্ন চমকপ্রদ
দাম কমলেও গোটা ২০২৫ সালে মূল্যবান ধাতুগুলির রিটার্ন নজরকাড়া—
রুপো: প্রায় ১৬১% বৃদ্ধি
সোনা: প্রায় ৬৬% বৃদ্ধি
প্ল্যাটিনাম: প্রায় ১৩৫% বৃদ্ধি
এই পরিসংখ্যানই বলছে, সাময়িক পতন হলেও দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের জন্য বছরটি ছিল অত্যন্ত লাভজনক।
২০২৫ সালের শেষ ট্রেডিং দিনে বড়সড় পতন দেখা গেল রুপোর দামে। দেশীয় বাজারে প্রায় ১৫ হাজার টাকা কমেছে রুপোর দর। একই সঙ্গে সোনা ও প্ল্যাটিনামের দামও নেমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও ধাতুগুলির দামে চাপ স্পষ্ট।











