বীরভূম: রাত পোহালেই নতুন বছর। ২০২৫-কে বিদায় জানিয়ে ২০২৬-কে সুরক্ষিত ও শান্তিময় করার প্রার্থনায় মগ্ন বঙ্গবাসী। আর সেই প্রার্থনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে শক্তিপীঠ তারাপীঠ। বছরের শেষ দিনেই মা তারার দর্শনে ভক্তদের ঢল নেমেছে মন্দির চত্বরে।
নতুন বছরের আগমনে তারাপীঠে ভক্তসমাগম
বুধবার সকাল থেকেই দূরদূরান্তের জেলা ও ভিনরাজ্য থেকে ভক্তরা তারাপীঠে পৌঁছতে শুরু করেন। সকাল গড়াতেই ভিড় বাড়তে থাকে, দুপুরের পর কাতারে কাতারে দাঁড়িয়ে মা তারার দর্শনের অপেক্ষায় থাকেন ভক্তরা।
আলো-ফুলে সাজানো মন্দির চত্বর
নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করে দেয় তারাপীঠ মন্দির কমিটি। গোটা মন্দির চত্বর সাজানো হয়েছে আলোর রোশনাই ও ফুলের মালায়। উৎসবের আবহে মন্দির এলাকা যেন আরও মোহময় হয়ে উঠেছে।
কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নজরে সিসিটিভি
ভিড় সামাল দিতে ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে, চলছে সিসিটিভি নজরদারি। নাকা চেকিংয়ের পরেই ভক্তদের মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
মোবাইল নিষিদ্ধ, নিয়ম মেনে দর্শন
মন্দিরের গর্ভগৃহে মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের মোবাইল জমা দিয়েই মন্দিরে প্রবেশ করতে হচ্ছে। মন্দির কমিটির তরফে বারবার ভক্তদের নিয়ম মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে।
হোটেল বুকিং প্রায় পূর্ণ, পর্যটন চাঙ্গা
মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় জানান, ইতিমধ্যেই তারাপীঠ এলাকার অর্ধেকের বেশি হোটেল বুক হয়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, “প্রতিবছরের মতো এই বছরও কয়েক হাজার ভক্তের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা ও পরিষেবার দিক থেকে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”
নববর্ষে বিশেষ ভোগের আয়োজন
ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনে দুপুরে মা তারাকে নিবেদন করা হবে পাঁচ রকম ভাজা, পাঁচ রকম মিষ্টি, নানা সবজি, পাঁঠার মাংস, মাছের মাথা ভাজা, শোল মাছ পোড়া, পোলাও, পায়েস, খিচুড়ি ও ফ্রাইড রাইস।সন্ধ্যায় রাজেশ্বরী রূপে সাজিয়ে শীতল ভোগ নিবেদন করা হবে—যার মধ্যে থাকবে লুচি, পায়েস, মিষ্টি, ভাজা ও খই।
ইংরেজি বছরের শেষ দিনে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে তারাপীঠ মন্দিরে হাজার হাজার ভক্ত ও পর্যটকের সমাগম। কড়া নিরাপত্তা, বিশেষ ভোগ ও আলোকসজ্জায় প্রস্তুত মন্দির চত্বর।













