SIP Calculation: মাসে মাত্র ৩,১০০ টাকা থেকে ২ কোটি! ২৫, ৩০, ৩৫ বা ৪০ বছর বয়সে শুরু করলে কত SIP লাগবে?

৬০ বছর বয়সে ২ কোটি টাকার কর্পাসের লক্ষ্য হলে ২৫, ৩০, ৩৫ ও ৪০ বছর বয়সে কত টাকা মাসিক SIP প্রয়োজন হতে পারে, জেনে নিন।

অবসরের জন্য বড় অঙ্কের টাকা তৈরি করতে শুধু বেশি টাকা বিনিয়োগ করাই গুরুত্বপূর্ণ নয়, কত তাড়াতাড়ি শুরু করছেন সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগ করলে চক্রবৃদ্ধি হারের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ বাড়ে। একটি উদাহরণে ৬০ বছর বয়সে ২ কোটি টাকার কর্পাসের লক্ষ্য ধরে দেখা হয়েছে, ২৫ বছর বয়সে শুরু করলে মাসে প্রায় ৩,১০০ টাকা SIP দিয়ে যে লক্ষ্য ধরা হয়েছে, ৪০ বছর বয়সে শুরু করলে তার জন্য মাসিক SIP প্রায় ২০,০০০ টাকা হতে পারে।

২৫ বছর বয়সে শুরু করলে মাসে প্রায় ৩,১০০ টাকা

ধরা যাক, আপনার লক্ষ্য ৬০ বছর বয়সে পৌঁছে ২ কোটি টাকার কর্পাস তৈরি করা। ২৫ বছর বয়স থেকেই SIP শুরু করলে হাতে থাকবে ৩৫ বছর বা ৪২০ মাস।প্রদত্ত হিসাব অনুযায়ী, এই ক্ষেত্রে মাসে প্রায় ৩,১০০ টাকা SIP করলে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৩.০২ লক্ষ টাকা। দীর্ঘ সময় ধরে চক্রবৃদ্ধি হারে রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনার কারণে মোট কর্পাস অনেক বড় হতে পারে।তবে এখানে ব্যবহৃত রিটার্নের হার একটি অনুমানমাত্র। বাজারভিত্তিক বিনিয়োগে প্রকৃত রিটার্ন কম বা বেশি হতে পারে।

৩০ বছর বয়সে শুরু করলে SIP বেড়ে প্রায় ৫,৭০০ টাকা

৫ বছর দেরিতে, অর্থাৎ ৩০ বছর বয়সে বিনিয়োগ শুরু করলে ৬০ বছর পর্যন্ত সময় থাকবে ৩০ বছর বা ৩৬০ মাস।

এই হিসাব অনুযায়ী ২ কোটি টাকার লক্ষ্যে পৌঁছতে মাসিক SIP প্রায় ৫,৭০০ টাকা হতে পারে। ৩০ বছরে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২০.৫২ লক্ষ টাকা।

অর্থাৎ মাত্র ৫ বছর দেরি করলেই একই লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় মাসিক বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

৩৫ বছর বয়সে শুরু করলে মাসে প্রায় ১০,৫০০ টাকা

৩৫ বছর বয়সে SIP শুরু করলে অবসর পর্যন্ত বিনিয়োগের সময় কমে দাঁড়াবে ২৫ বছর বা ৩০০ মাস।প্রদত্ত উদাহরণে ২ কোটি টাকার লক্ষ্যের জন্য মাসিক প্রায় ১০,৫০০ টাকা SIP ধরা হয়েছে। ২৫ বছরে নিজের পকেট থেকে মোট বিনিয়োগ হবে প্রায় ৩১.৫০ লক্ষ টাকা।এখানেও মূল বিষয় হল সময়। বিনিয়োগের সময় কমে যাওয়ায় একই ভবিষ্যৎ লক্ষ্যের জন্য মাসিক কিস্তির পরিমাণ অনেকটাই বাড়ে।

৪০ বছর বয়সে শুরু করলে মাসে প্রায় ২০,০০০ টাকা

৪০ বছর বয়সে SIP শুরু করলে ৬০ বছর পর্যন্ত হাতে থাকবে মাত্র ২০ বছর বা ২৪০ মাস।

এই উদাহরণে ২ কোটি টাকার লক্ষ্যের জন্য প্রয়োজনীয় মাসিক SIP প্রায় ২০,০০০ টাকা। ২০ বছরে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ হবে প্রায় ৪৮ লক্ষ টাকা।

অর্থাৎ ২৫ বছর বয়সে শুরু করার তুলনায় ১৫ বছর দেরিতে বিনিয়োগ শুরু করলে মাসিক SIP-এর প্রয়োজনীয় অঙ্ক অনেকটাই বেড়ে যায়।

বয়স অনুযায়ী হিসাব এক নজরে

SIP শুরু করার বয়স বিনিয়োগের সময় মাসিক SIP মোট বিনিয়োগ

২৫ বছর ৩৫ বছর প্রায় ₹৩,১০০ প্রায় ₹১৩.০২ লক্ষ

৩০ বছর ৩০ বছর প্রায় ₹৫,৭০০ প্রায় ₹২০.৫২ লক্ষ

৩৫ বছর ২৫ বছর প্রায় ₹১০,৫০০ প্রায় ₹৩১.৫০ লক্ষ

৪০ বছর ২০ বছর প্রায় ₹২০,০০০ প্রায় ₹৪৮ লক্ষ

দেরিতে শুরু করলে মাসিক চাপ কেন বাড়ে?

SIP-এর ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় পাওয়া গেলে বিনিয়োগের উপর সম্ভাব্য রিটার্নও দীর্ঘ সময় ধরে পুনরায় বিনিয়োগ হওয়ার সুযোগ পায়। একে সাধারণভাবে কম্পাউন্ডিংয়ের সুবিধা বলা হয়।তাই ২৫ বছর বয়সে অল্প অঙ্ক দিয়ে শুরু করা এবং ৪০ বছর বয়সে একই লক্ষ্য নিয়ে শুরু করার মধ্যে বড় পার্থক্য তৈরি হতে পারে। তবে বাজারের ওঠানামার কারণে ভবিষ্যতের রিটার্ন আগে থেকে নিশ্চিত করা যায় না।

শুধু SIP করলেই কি ২ কোটি নিশ্চিত?

না। ২ কোটি টাকার কর্পাসের এই হিসাব একটি নির্দিষ্ট অনুমানভিত্তিক রিটার্নের হার ধরে করা হয়েছে। বাস্তবে মিউচুয়াল ফান্ডের রিটার্ন বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে পরিবর্তিত হয়।তাই কোনও নির্দিষ্ট SIP-কে ২ কোটি টাকা নিশ্চিতভাবে দেবে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। বিনিয়োগের আগে ঝুঁকি, সময়সীমা, আয়, খরচ এবং আর্থিক লক্ষ্য বিবেচনা করা জরুরি।

অবসরের সময় ২ কোটি টাকার কর্পাস তৈরির লক্ষ্য থাকলে যত তাড়াতাড়ি বিনিয়োগ শুরু করা যায়, মাসিক SIP-এর প্রয়োজনীয় অঙ্ক তত কম হতে পারে। ৬০ বছর বয়সে অবসর ধরলে ২৫, ৩০, ৩৫ ও ৪০ বছর বয়সে শুরু করার ক্ষেত্রে মাসিক বিনিয়োগের পরিমাণ কীভাবে বদলায়, দেখে নিন।

Leave a comment